কিশোরগঞ্জে দেড় হাজার ভুয়া ভাতাভোগী
মৃতদের নামে কোটি টাকা লোপাট
Advertisement
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
আকলিমা বেগম মারা যান ১২/১৩ বছর আগে। কিন্তু বয়স্ক ভাতাভোগীর তালিকায় এখনো তার নাম রয়েছে। পরিবারের লোকজন জানেন না তিনি বয়স্ক ভাতার তালিকাভুক্ত ছিলেন। একই রকমভাবে অনেকের মৃত্যুর পর দীর্ঘদিন তার ভাতার টাকা অন্য কেউ আত্মসাৎ করছেন। নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে এরকম প্রায় দেড় হাজার মৃত ভাতাভোগী ব্যক্তি শনাক্ত হয়েছেন। একটি চক্র সমাজসেবা দপ্তরের যোগসাজশে এসব ভুয়া ভাতাভোগীদের নামে কোটি টাকা লোপাট করেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলায় মোট ভাতাভোগীর সংখ্যা ৩০ হাজার ৮৭২ জন। বয়স্ক ও বিধবা ভাতাভোগীরা প্রতি মাসে ৭০০ টাকা এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা মাসে ১ হাজার করে টাকা পান। তবে উপজেলা সমাজসেবা দপ্তরের যোগসাজশে একটি চক্র ভুয়া ভাতাভোগী তালিকাভুক্ত করেন। অন্যের মোবাইল নম্বর দিয়ে ভাতার টাকা উত্তোলন করে তারা ভাগবাঁটোয়ারা করে নেন। সম্প্রতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) উদ্যোগে উপকারভোগী যাচাই করলে ১ হাজার ৪৭২ জন মৃত ভাতাভোগী শনাক্ত হয়।
বয়স্ক ভাতার তালিকাভুক্ত মৃত আউয়াল মামুদের মেয়ে মৃত আকলিমা বেগমের বাড়ি সদর ইউনিয়নের বাজেডুমরিয়া গ্রামে। তার স্বামী সুলতান আলী বলেন, আমার স্ত্রীর মৃত্যুর এক যুগ পর যুগান্তরের মাধ্যমে জানতে পারলাম বয়স্ক ভাতার তালিকায় তার নাম রয়েছে। জড়িতদের চিহ্নিত করে টাকা ফেরতসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
উপজেলার বগুলাগাড়ি গ্রামের মৃত পনির উদ্দিনের নাম বয়স্ক ভাতার তালিকাভুক্ত। তার ছেলে আহসান হাবিব জানান, ২০১৯ সালে তার বাবার মৃত্যু হয়। পরিবারের কেউ জানেন না তার নাম বয়স্ক ভাতার তালিকায় রয়েছে। ইউপি মেম্বর-চেয়ারম্যান ও সমাজসেবা অফিসের যোগসাজশে এমন দুর্নীতি হয়েছে। এতদিন কার মোবাইল নম্বরে তার বাবার ভাতার টাকা এসেছে, সেটা জানতে চান তিনি।
একই গ্রামের মৃত রঘুনাথ রায়ের মেয়ে ভাগ্য রাণী ও মৃত কৃপানাথের স্ত্রী মোহনী বালার নাম বয়স্ক ভাতার তালিকাভুক্ত। কিন্তু তারা জানেন না, কত বছর ধরে তাদের নাম বয়স্ক ভাতাভোগীর তালিকায় রয়েছে। কিন্তু সমাজসেবা অফিস অন্যের মোবাইল নম্বরে তাদের ভাতার টাকা দেয়। এখন জানতে পেরে তারা দীর্ঘদিন ধরে তাদের নামে আসা ভাতার টাকা ফেরত চান।
এছাড়া উত্তর দুরাকুটি বসুনিয়াপাড়া গ্রামের আব্দুল মজিদ ৭ বছর আগে মারা গেছেন। ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের মোসলেম খা’র ৫ বছর আগে মৃত্যু হয়েছে। হাজিপাড়া গ্রামের ধউলী বেগম মারা যান ৪ বছর আগে। উপজেলার প্রতিটি গ্রামে এরকম অসংখ্য মৃত ব্যক্তির নাম বয়স্ক ভাতার তালিকায় রয়েছে। কিন্তু তাদের অনেকের পরিবারের জানে না, কারা সেই মৃত ব্যক্তির ভাতার টাকা আত্মসাৎ করছেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জাকির হোসেন জানান, এ ঘটনায় তার অফিসের বা অন্য কেউ জড়িত থাকলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভাতাভোগীর মৃত্যুর পর ১২-১৩ বছর পর্যন্ত তার নাম তালিকাভুক্ত থাকার দায় ইউনিয়ন কমিটির। ইউএনও আরিফুর রহমান জানান, যাচাইয়ে প্রায় দেড় হাজার মৃত ভাতাভোগী শনাক্ত হয়েছে। বিধি অনুযায়ী প্রতিস্থাপন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। মৃত ভাতাভোগীদের তথ্য কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। কারও বিরুদ্ধে অন্যের ভাতার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

