এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা
শূন্য পাশের ২৯৩ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে বোর্ড
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় দেশের ২৯৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই পাশ করতে পারেনি। এমন ফল বিপর্যয়ের কারণ জানতে প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের ডেকেছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানগুলোর গত পাঁচ বছরের শিক্ষার্থী সংখ্যা, পাশের হার, শিক্ষকসংখ্যা ও শিক্ষা কার্যক্রমের তথ্য চাওয়া হয়েছে। তথ্য পর্যালোচনা করে এক সপ্তাহের মধ্যে এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ পাঠানো হবে। ইতোমধ্যে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অধীন শূন্য পাশ করা ২৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। অন্য বোর্ডগুলোকেও এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। শূন্য পাশের ঘটনা বারবার ঘটলে পাঠদানের স্বীকৃতি বাতিল এবং এমপিও বন্ধের মতো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে শিক্ষা প্রশাসনের। তবে অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো সরাসরি বন্ধ না করে কাছাকাছি অবস্থিত অন্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একীভূত বা পুনর্বিন্যাসের চিন্তাও করছে সরকার। এতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের চাকরি হারানোর আশঙ্কা থাকবে না বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ আখতারুজ্জামান জানান, শূন্য পাশ করা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের ডেকে ফল বিপর্যয়ের কারণ জানতে চাওয়া হবে। তাদের বক্তব্য ও সরবরাহ করা তথ্য পর্যালোচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, গত পাঁচ বছরের মধ্যে কোনো প্রতিষ্ঠানে একবার শতভাগ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হলে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে। একই সময়ে দুবার এমন ফল হলে পাঠদানের স্বীকৃতি বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হবে। আর তিনবার এমন ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের এমপিও বন্ধের সুপারিশ করা হবে। তবে শিক্ষকদের এমপিও বাতিল না করে অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বদলির সুপারিশ করা হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শনিবার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর শূন্য পাশ করা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার উদ্যোগ শুরু হয়।
এদিকে শূন্য পাশ করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা প্রতিবছর বাড়ছে। শিক্ষা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ৪২টি। ২০২৪ সালে তা বেড়ে হয় ৬৫টি। ২০২৫ সালে এক লাফে দাঁড়ায় ২০২টিতে। সর্বশেষ এবার এ সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২৯৩টি। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে শূন্য পাশ প্রতিষ্ঠান বেড়েছে ৯১টি।
এবার ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের ১৮১টি, মাদ্রাসা বোর্ডের ৫৫টি এবং কারিগরি বোর্ডের ৫৭টি প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী পাশ করতে পারেনি। বোর্ডভিত্তিক হিসাবে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে সর্বোচ্চ ৪৯টি এবং রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে ৩৯টি প্রতিষ্ঠানে শূন্য পাশের ঘটনা ঘটেছে। ময়মনসিংহ বোর্ডের ১৯টি প্রতিষ্ঠানের ১০২ জন পরীক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য হয়েছেন। সিলেট ও চট্টগ্রাম বোর্ডে ৩টি করে প্রতিষ্ঠানে কেউ পাশ করেনি। বরিশাল বোর্ডে ১১টি এবং কুমিল্লা ও যশোর শিক্ষা বোর্ডে ১৬ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কেউ পাশ করেনি।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অধীন এবার ২৬টি প্রতিষ্ঠানে কেউ পাশ করেনি। এসব প্রতিষ্ঠানের ১০২ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন।
অপ্রয়োজনীয় ও অপরিকল্পিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান একীভূত করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন। ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় অপ্রয়োজনীয়ভাবে অনেক কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সেগুলো রাতারাতি বন্ধ করা সম্ভব নয়। তবে সীমিত পরিসরে কীভাবে প্রতিষ্ঠানগুলোর পুনর্বিন্যাস করা যায়, তা নিয়ে সরকার চিন্তাভাবনা করছে। শূন্য পাশ করা প্রতিষ্ঠানগুলোকে কাছাকাছি অবস্থিত অন্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একীভূত করার বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে। এক্ষেত্রে শিক্ষকদের চাকরি বহাল থাকবে।
শনিবার প্রকাশিত এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলে ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাশের হার দাঁড়িয়েছে ৫২ দশমিক ১২ শতাংশে, যা ২২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। এবার ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাশ করেছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন। গত বছর জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ৬৯ হাজার ৯৭ জন। সেই হিসাবে এবার এ সংখ্যা কমেছে ২৯ হাজার ১৩ জন। সামগ্রিক ফলের এই অবনতির মধ্যে শূন্য পাশ করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠদানের মান, জবাবদিহি ও তদারকি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
