Logo
Logo
×

Advertisement

শেষ পাতা

ক্রেনের ধাক্কায় এবার প্রকৌশলীর মৃত্যু

মানুষ মরে, টনক নড়ে না

রফিকুল ইসলাম

রফিকুল ইসলাম

প্রকাশ: ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

মানুষ মরে, টনক নড়ে না

Advertisement

রাজধানীতে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণে মানা হচ্ছে না ন্যূনতম নিরাপত্তাবিধি। ভারী মালামাল বহন ও ক্রেন চলাচলের সময় থাকছেন না পর্যাপ্ত নিরাপত্তাকর্মী। সংশ্লিষ্টদের চরম অবহেলায় এই নির্মাণকাজ এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। ফলে মাঝেমধ্যেই ঘটছে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। সবশেষ মগবাজার রেইনবো ক্রসিং এলাকায় ঘটে এক ট্র্যাজেডি। সেখানে একটি নিয়ন্ত্রণহীন ক্রেনের ধাক্কায় প্রাণ হারিয়েছেন সিভিল ইঞ্জিনিয়ার আহসান উল্লাহ আরিফ।

ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের অবহেলায় এ মৃৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের। অতীতেও এমন নির্মাণকাজে একাধিক প্রাণহানি ঘটেছে। কিন্তু দায়ীদের বিরুদ্ধে কখনোই কোনো দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা হয়নি।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, নির্মাতা প্রতিষ্ঠান সড়ক বা কোনো অবকাঠামো নির্মাণে শতভাগ সেফটি অনুসারণ করবে। এজন্য বাধ্যতামূলক আইন আছে। কিন্তু কোথাও শতভাগ এই আইন মানা হয় না। দুর্ঘটনা ঘটলেও প্রতিষ্ঠানের শাস্তি হয় না।

সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো সেফটি নিয়ে তদারকি করে না। যদিও দুর্ঘটনার পর তদন্ত কমিটি গঠন হয়। তিনি বলেন, বাস্তবতা হচ্ছে কমিটির তদন্ত রিপোর্ট কখনোই আলোর মুখ দেখে না। আবার আলোর মুখ দেখলেও সেটার দৃশ্যমান বাস্তবায়ন নেই। উত্তরায় নির্মাণাধীন ফ্লাইওভারের কংক্রিটের বিশাল গার্ডার পড়ে ৫ জনের মৃত্যুর ঘটনায় আমরা দেখেছি। সেখানেও দোষীদের শাস্তির আওতায় আনা হয়নি। ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়নি। মগবাজারে একই ঘটনা দেখলাম।

জানা যায়, গত ১৮ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৭টায় বাসা থেকে বের হন সিভিল ইঞ্জিনিয়ার আহসান উল্লাহ আরিফ। উদ্দেশ্য মহাখালী আয়েশা মেমোরিয়াল হাসপাতাল (ইউনিভার্সেল মেডিকেল)। সেখানে ভর্তি ছিলেন তার মা শেলিনা বেগম। মায়ের সঙ্গে দেখা করতে মোটরসাইকেলে আসেন মগবাজারের রেইনবো ক্রসিং এলাকায়। এ সময় বেপরোয়া ও নিয়ন্ত্রণহীনভাবে তার মোটরসাইকেলে সজোরে ধাক্কা দেয় ক্রেন।

এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ভারী মালামাল উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত এই ক্রেনের ধাক্কায় তিনি ছিটকে পড়েন রাস্তায়। চলন্ত ক্রেন উঠে পড়ে তার শরীরে। ক্রেনের চাকায় ডান পা ও শরীরের একাধিক হাড় ভেঙে যায়। পেট ফেটে বেরিয়ে আসে নাড়িভুঁড়ি। পথচারীরা তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যান ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। ভর্তি করা হয় আইসিইউতে। ২৩ অক্টোবর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

আরিফের পরিবারের অভিযোগ, ক্রেন ব্যবহারে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করেনি এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণ ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান স্যংডং হাইস্পিড করপোরেশন লিমিটেড ও সাইনোহাইড্রো জেভি। অভিযুক্ত ড্রাইভারের বিচারের দাবিতে থানায় মামলা করা হয়। যদিও দুর্ঘটনার পর সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর বা নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ভুক্তভোগী পরিবার ও স্ত্রী-সন্তানের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ করা হয়নি।

নিহত আহসান উল্লাহ আরিফের ভাই ইয়াছিন উল্লাহ শরিফ যুগান্তরকে বলেন, বিদেশি বিভিন্ন কোম্পানি দেশের উন্নয়নে কাজ করবে। কিন্তু তারা আমাদের মানুষ মনে করবে না, তা হতে পারে না। তারা নিরাপত্তা নিশ্চিত না করায় আমার ভাইয়ের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এই মৃত্যুর জন্য ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।

হাতিরঝিল থানার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সুমন জানান, এ ঘটনায় গ্রেফতার হয়ে জেলহাজতে রয়েছেন ক্রেনের চালক মেহেদী হাসান সানি। দুর্ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের অবহেলা রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তবে চেষ্টা করেও এসব অভিযোগের বিষয়ে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণ ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান স্যংডং হাই-স্পিড করপোরেশন লিমিটেড ও সাইনোহাইড্রো জেভির সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কারো সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

রাজধানীতে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, উড়াল সড়ক ও অবকাঠামো নির্মাণে দুর্ঘটনা নতুন কিছু নয়। ২০২৩ সালের ২৯ মে মহাখালীতে নির্মাণাধীন উড়াল সড়ক (এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে) থেকে একটি লোহার রড সুমন নামে এক শিশুর মাথায় পড়ে। এতে সেখানেই তার মৃত্যু হয়। ২০২২ সালের ১৫ আগস্ট উত্তরার জসীমউদ্দীন রোড মোড়ে নির্মাণাধীন ফ্লাইওভারের কংক্রিটের বিশাল গার্ডার ক্রেন থেকে পড়ে প্রাইভেটকারে থাকা পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে।

প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা পর গার্ডারটি সরিয়ে লাশগুলো বের করেন উদ্ধারকর্মীরা। ২০২৪ সালে মগবাজারে শরীরের ওপর স্টিলের ফ্রেম পড়ে গুরুতর আহত হন মতিউর রহমান নামে এক হকার। একই বছরে তেজকুনিপাড়ায় ক্রেন থেকে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজের কনটেইনার পড়ে মারা যান শামীম মিয়া। ২০১৭ সালের ১৩ মার্চ মালিবাগ রেলগেট এলাকায় নির্মাণাধীন ফ্লাইওভারের গার্ডার পড়ে একজনের মৃত্যু হয়।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

ঢাকা-কুয়াকাটা সড়ক কম দূরত্বে বেশি টোল

কম দূরত্বে বেশি টোল

গারো পাহাড়ে এবার মানুষ আতঙ্কে হাতি!

গারো পাহাড়ে এবার মানুষ আতঙ্কে হাতি!

কাল থেকে কপ-৩১ সম্মেলন শুরু অনুদানভিত্তিক অর্থায়ন চাইবে বাংলাদেশ

অনুদানভিত্তিক অর্থায়ন চাইবে বাংলাদেশ

হবিগঞ্জের ক্যাসিনো সম্রাট রুবেল টং দোকান থেকে শত কোটি টাকার মালিক!

টং দোকান থেকে শত কোটি টাকার মালিক!

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম