বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন
বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণ বেড়েছে তিনগুণ
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণের স্থিতি গত ১০ বছরের ব্যবধানে বেড়েছে প্রায় তিনগুণ। সরকারি ও বেসরকারি খাতে ঋণ গ্রহণের প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় সার্বিকভাবে বৈদেশিক ঋণ বেড়েছে। ফলে ঋণের স্থিতিও বেড়েছে। ২০১৫ সালে দেশের বৈদেশিক ঋণের স্থিতি ছিল ৩ হাজার ৮৭৭ কোটি ডলার। ২০২৫ সালের শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ৩৪৪ কোটি ডলার। ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে ঋণের স্থিতি বেড়েছে ৮ দশমিক ৬ শতাংশ।
বৃহস্পতিবার রাতে বিশ্বব্যাংকের প্রকাশিত ‘ইন্টারন্যাশনাল ডেট রিপোর্ট ২০২৬’ শীর্ষক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। বিভিন্ন দেশের ২০২৫ সাল পর্যন্ত বৈদেশিক ঋণের তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের জনসংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭ কোটি ৫৭ লাখে। এ হিসাবে মাথাপিছু বৈদেশিক ঋণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৪৫ ডলারে। গত বছরের একই সময়ে দেশের মোট জনসংখ্যা ছিল ১৭ কোটি ৪০ লাখ। মোট বৈদেশিক ঋণের স্থিতি ছিল ১০ হাজার ৪৪৯ কোটি ডলার। এ হিসাবে মাথাপিছু বৈদেশিক ঋণ ছিল ৬০০ ডলার। এ হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে মাথাপিছু বৈদেশিক ঋণ বেড়েছে ৪৫ ডলার।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০২৫ সালের শুরুতে বৈদেশিক ঋণের স্থিতি ছিল ৩৮৭৭ কোটি ডলার। গত বছরের ডিসেম্বরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ৩৪৪ কোটি ডলারে। আলোচ্য সময়ে দেশের বৈদেশিক ঋণ বেড়েছে প্রায় তিনগুণ। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বৈদেশিক ঋণের স্থিতি ছিল ১০ হাজার ৪৪৯ কোটি ডলার। ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে ঋণ বেড়েছে ৪৯৫ কোটি ডলার বা ৮ দশমিক ৬ শতাংশ।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছরের শেষ পর্যন্ত সরকার ও সরকারের গ্যারান্টিতে বৈদেশিক ঋণ নেওয়া ৮ হাজার ৯৫১ কোটি ডলার। বেসরকারি খাত ও গ্যারান্টিবিহীন ঋণের স্থিতি ৯৮৭ কোটি ডলার। আলোচ্য সময়ে স্বল্প মেয়াদি ঋণের স্থিতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪০৬ কোটি ডলার।
সরকারি খাতের ঋণের মধ্যে বহুপাক্ষিক সংস্থা (বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, এডিবি এসব সংস্থা) থেকে নেওয়া হয়েছে ৫ হাজার ১১৪ কোটি ডলার এবং দ্বিপক্ষীয় উৎস্য বা কোনো একক দেশ বা কোম্পানি থেকে নেওয়া হয়েছে ৩ হাজার ২৬৫ কোটি ডলার। বেসরকারি খাত থেকে সরকার ঋণ নিয়েছে ৫৭২ কোটি ডলার।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বহুপাক্ষিক সংস্থাগুলোর মধ্যে বিশ্বব্যাংকের সবচেয়ে কম সুদের ঋণ ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট এজেন্সি (আইডিএ) থেকে নিয়েছে ২ হাজার ২৬৪ কোটি ডলার, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক থেকে ১ হাজার ৭৫২ কোটি ডলার এবং অন্যান্য সংস্থা থেকে ১ হাজার ৯৯ কোটি ডলার। দ্বিপক্ষীয় উৎস্যের মধ্যে জাপান থেকে ১ হাজার ২৭২ কোটি ডলার, রাশিয়া থেকে ৯০২ কোটি ডলার এবং অন্যান্য দেশ থেকে ১ হাজার ৯০ কোটি ডলার।
প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের মোট জাতীয় আয়ের (জিএনআই) তুলনায় বৈদেশিক ঋণের স্থিতি এখন সহনীয় মাত্রায় রয়েছে। এখনও ঝুঁকিতে যায়নি। জিএনআইয়ের তুলনায় মোট বৈদেশিক ঋণের অনুপাত ২৪ শতাংশ। যা গত বছরের তুলনায় বেড়েছে ৫ দশমিক ৯ শতাংশ। রফতানি আয়ের বিপরীতে ঋণ পরিশোধের অনুপাত ১৬ শতাংশ। যা আগের বছরের তুলনায় ৩ দশমিক ১ শতাংশ কম। রপ্তানি আয়ের প্রবৃদ্ধি বৈদেশিক ঋণ বাড়ার তুলনায় কম হওয়ায় এ খাতে সক্ষমতা কমেছে।
