সিআইডি কার্যালয়সহ বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ
দুই বাসে অগ্নিসংযোগ
যুগান্তর প্রতিবেদন ও ধামরাই (ঢাকা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৯ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাজধানীতে বৃদ্ধি পেয়েছে ককটেল বিস্ফোরণ ও গণপরিবহণে অগ্নিসংযোগের ঘটনা। সর্বশেষ রোববারও মালিবাগে সিআইডির প্রধান কার্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, পল্লবী, যাত্রাবাড়ীসহ বেশকিছু স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। ভাটারার প্রগতি সরণি এলাকায় স্কুলবাসে ও ঢাকার ধামরাইয়ে আরেকটি বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
পুলিশ বলছে-এসব ককটেল বিস্ফোরণ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় জড়িত কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও দলটির সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। জড়িতদের ধরতে প্রতিটি ঘটনা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে পুলিশ। রোববার ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. আকতার হোসেন এসব কথা বলেন।
এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নাশকতা ও আতঙ্ক ছড়াতে এসব কাজ করছে। গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ডিএমপির অপারেশনাল কার্যক্রম ও পুলিশ মোতায়েন জোরদার করা হয়েছে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং আতঙ্ক দূর করতে ডিএমপির মোবাইল পার্টি ও পিকেট ডিউটির পাশাপাশি কড়া নজরদারি বজায় রাখা হয়েছে। ইতোমধ্যে এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত কয়েকজনকে গ্রেফতারও করা হয়েছে। গ্রেফতাররা নিষিদ্ধ ঘোষিত বিভিন্ন সংগঠনের সদস্য।
ককটেল তৈরির উপাদানগুলো কোথায় বানানো হচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে আকতার হোসেন বলেন, এর আগে ককটেল তৈরির উপাদান ও বিস্ফোরকদ্রব্যসহ বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। নাশকতার উদ্দেশ্যে পেট্রোল পাম্প বা অন্য কোথাও থেকে দাহ্য পদার্থ কেনাবেচা হচ্ছে কি না-তা মনিটর করা হচ্ছে।
সিআইডির প্রধান কার্যালয়ে ককটেল বিস্ফোরণ : রোববার রাত সাড়ে ৭টার দিকে মালিবাগে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) প্রধান কার্যালয়ের ভেতরে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। দুর্বৃত্তরা মালিবাগ মোড়ের কাছে উড়াল সড়ক থেকে সিআইডি কার্যালয় লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপ করে। পরে কার্যালয়ের ভেতরে ককটেলটি বিস্ফোরিত হয়। তবে এতে কেউ হতাহত হননি। বিষয়টি নিশ্চিত করেন পল্টন থানার ওসি আরিফুল আলম।
রাজধানীতে ককটেল বিস্ফোরণ : এছাড়া এদিন রাজধানীর বেশকিছু স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্তত পাঁচটি স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ হয়। এর মধ্যে সিনেট ভবন ও হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের মাঠসংলগ্ন এলাকায় দুটি, টিএসসি এলাকায় দুটি, শাহবাগগামী সড়কে একটি ও কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ভবনের সামনের সড়কে একটি। এসব ঘটনায় সন্দেহভাজন দুজনকে আটক করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি।
এদিন সন্ধ্যায় ভাটারায় স্কুলবাসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। প্রগতি সরণিতে ভাটারা থানা থেকে কিছুটা দূরে এ ঘটনা ঘটে। বাসটি জলসিঁড়ি ক্যান্টনমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের বলে জানা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগুন দেওয়া বাসটির সামনে একই প্রতিষ্ঠানের আরও একটি বাস পার্ক করা ছিল। তবে ঘটনার সময় বাসটিতে কোনো যাত্রী ছিল না। ভাটারা থানার এসআই মাসুদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘খবর পেয়ে ওসির সঙ্গে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসেছি। এ বিষয়ে বিস্তারিত পরে জানানো হবে।’
রাত সাড়ে ৭টার দিকে পল্লবী থানা গেটে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। অজ্ঞাত দুই দুর্বৃত্ত মোটরসাইকেলে এসে ফ্লাইওভারের ওপর থেকে ককটেল নিক্ষেপ করে। এতে বিস্ফোরণ ঘটলে থানা গেটের ভেতরে অবস্থানরত এসআরবি-৪-এর এক সদস্য আহত হন। পল্লবী থানার ওসি জালাল উদ্দিন বলেন, আতঙ্ক সৃষ্টির লক্ষ্যেই থানা প্রাঙ্গণে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটিয়েছে দুর্বৃত্তরা।
রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে মিরপুর-১ নম্বরের সনি হলের সামনে একটি প্রাইভেটকার লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপ করে দুর্বৃত্তরা। মোটরসাইকেলে এসে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা এ হামলা চালায়। তবে এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের তথ্য পাওয়া যায়নি। মিরপুর মডেল থানার ওসি মো. হাফিজুর রহমান বলেন, আমি ঘটনাস্থলে যাচ্ছি। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।
এর আগে শনিবার গভীর রাতে যাত্রাবাড়ী মোড়ে গভীর রাতে দুটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
ধামরাইয়ে বাসে আগুন : শনিবার রাতে ঢাকা-ধামরাই-কালিয়াকৈর আঞ্চলিক মহাসড়কের ধামরাই সদর ইউনিয়নের শরীফবাগ আফাজ উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে ডি-লিংক পরিবহণের একটি বাসে আগুন দেওয়া হয়। এর আগে দুই রাতেও বাসে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
এ বিষয়ে ধামরাই থানার পুলিশ পরিদর্শক দেবাশীষ সানা বলেন, পুলিশ অগ্নিসন্ত্রাসীদের অল্প সময়ের মধ্যে গ্রেফতার করবে। পুলিশ সে লক্ষ্যেই কাজ করছে।
