রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রতিবেদন
সড়ক দুর্ঘটনায় ৮২ মাসে ৩০০ পরিবার নিশ্চিহ্ন
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৯ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের একাধিক সদস্যের প্রাণহানির ঘটনা ক্রমাগত বাড়ছে। দেশে ছয় বছর ১০ মাসে প্রায় ৩০০ পরিবার পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। মোটরসাইকেল, অটোরিকশা, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, অ্যাম্বুলেন্স ও বাস দুর্ঘটনা সম্পর্কিত রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের (আরএসএফ) তথ্য বিশ্লেষণে এমন চিত্র উঠে এসেছে। রোববার সংস্থাটির প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত দুর্ঘটনার তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। দেশের ৯টি জাতীয় দৈনিক, ১৭টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল, ইলেকট্রনিক গণমাধ্যম ও সংস্থার নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়। এতে বলা হয়, একই পরিবারের একাধিক সদস্য নিহত হয়েছে-এমন ঘটনার মধ্যে অটোরিকশা দুর্ঘটনার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। ৫২৫টি অটোরিকশা দুর্ঘটনায় এক হাজার ৭২৮ জন নিহত হয়েছে। এর মধ্যে একই পরিবারের দু’জন নিহত হয়েছে-এমন ঘটনা ২১১টি। এক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের সাতজন নিহত হয়েছে-এমন ঘটনা ১৩টি।
মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় একসঙ্গে স্বামী-স্ত্রী নিহত হয়েছে ১৯৩টি ঘটনায়। এসব ঘটনায় মারা গেছে ৩৮৬ জন। আর ১৫৯টি দুর্ঘটনায় একসঙ্গে বাবা ও সন্তান নিহত হয়েছে। এসব ঘটনায় প্রাণ গেছে ৩১৮ জনের।
মাইক্রোবাস দুর্ঘটনায় একই পরিবারের একাধিক সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে ১৮৬টি। এসব ঘটনায় নিহত হয়েছে ৭০৮ জন। এক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের ১৪ জন নিহত হওয়ার ঘটনাও রয়েছে। এছাড়া প্রাইভেটকারের ১০৮টি দুর্ঘটনায় ৩৫২ জন, অ্যাম্বুলেন্সের ৪৫টি দুর্ঘটনায় ১৬২ জন এবং বাসের ৩২টি দুর্ঘটনায় ৮৫ জন নিহত হয়েছে। পিকআপ ভ্যান উলটে একই পরিবারের চারজন নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ধরনের একটি ঘটনা ঘটে ১৮ মার্চ বগুড়ার শেরপুরে। ঈদের ছুটিতে ঢাকা থেকে রংপুরের কাউনিয়ায় বাড়ি ফিরছিলেন একই পরিবারের ১৭ সদস্য। শেরপুরের ছোনকা এলাকায় তাদের মাইক্রোবাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়ক বিভাজকে ধাক্কা দেয়। এতে চারজন নিহত হয়। পরদিন যুগান্তরে এ খবর প্রকাশিত হয়। ফাউন্ডেশনের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, মহাসড়কে অটোরিকশা চলাচল এবং ফিটনেসবিহীন মাইক্রোবাস ও অ্যাম্বুলেন্স এ ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। চালকদের অদক্ষতা, পর্যাপ্ত বিশ্রাম ছাড়া গাড়ি চালানো, বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালানো, মানসম্মত হেলমেট ব্যবহার না করা এবং ট্রাফিক আইন অমান্য করার প্রবণতা বাড়ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
