কাজে ফিরেছেন শ্রমিকরা, আশুলিয়ায় ২০ কারখানায় ছুটি
বিজিবি পুলিশ মোতায়েন
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তায় মাঠে সতর্ক অবস্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। রোববার গাজীপুরের কালিয়াকৈরের চন্দ্রা পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় -যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কয়েকদিনের আন্দোলন, অচলাবস্থা কাটিয়ে ঢাকার সাভার, আশুলিয়া, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের পোশাক কারখানাগুলোতে কাজে ফিরেছেন শ্রমিকরা। বিশেষ করে বেশির ভাগ নারী শ্রমিক কর্মস্থলে যোগ দিয়েছেন। রোববার এসব শিল্পাঞ্চলের অধিকাংশ কারখানায় শ্রমিকদের উপস্থিতিতে উৎপাদন কার্যক্রমে কর্মচাঞ্চল্য ফিরে আসে। এসব অঞ্চলের সড়কেও যান চলাচল স্বাভাবিক ছিল। তবে এদিন নতুন করে শ্রমিক অসন্তোষ ও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় সতর্ক অবস্থান নেয় পুলিশ ও বিজিবি। এর মধ্যে দুপুরের দিকে গাজীপুর ও আশুলিয়ায় কয়েকটি কারখানা থেকে শ্রমিকরা বেরিয়ে বিক্ষোভের চেষ্টা করেন। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় তারা সড়ক অবরোধ করতে পারেননি। তাদের দাবির মুখে ২০টির মতো কারখানা রোববার ছুটি ঘোষণা করা হয়।
ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার নির্ধারণ, কালোতালিকাভুক্তকরণ বন্ধসহ বিভিন্ন দাবিতে গত মাসের শেষ দিকে ঢাকার আশুলিয়া, সাভার, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরে শ্রমিক অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। সড়কও অবরোধ করেন তারা। পরে মজুরি বোর্ড গঠন ও তাদের উদ্যোগের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করে। গতকাল এসব শিল্পাঞ্চলের বেশির ভাগ কারখানায় কর্মচাঞ্চল্য দেখা যায়।
রোববার সকালে গাজীপুরের কারখানাগুলোতে কাজে যোগ দেন শ্রমিকরা। এদিন নারী শ্রমিকদের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য। বিকাল পর্যন্ত কোথাও অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। এদিকে শ্রমিক অসন্তোষ ঠেকাতে শিল্পাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
আসমা আক্তার নামে এক শ্রমিক বলেন, রোববার পরিস্থিতি অনেকটা স্বাভাবিক। আমরা ভাঙচুর ও অবরোধ চাই না। সরকারের বেতন বাড়ানোর আশ্বাসে আমরা আশাবাদী।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার আবু নাসের আল-আমিন যুগান্তরকে বলেন, টানা ছুটি শেষে শ্রমিকরা কাজে যোগ দিয়েছেন। অধিকাংশ কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম চালু রয়েছে। রোববার কোথাও শ্রমিক আন্দোলনের তথ্য নেই। মহাসড়কগুলোতেও যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
কালিয়াকৈরের ইউএনও এ এইচ এম ফখরুল হোসাইন বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। আমরা শ্রমিকদের সঙ্গেও কথা বলেছি, তারা কাজে ফিরে আনন্দিত। এরপরও পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ১৩ প্লাটুন বিজিবির পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। তাদের নেতৃত্বে রয়েছেন ২১ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
এদিন নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায়ও বেশির ভাগ কারখানায় কাজে ফিরেছেন পোশাক শ্রমিকরা। রোববার সকালে তারা কাজে যোগ দেন। সংশ্লিষ্টরা জানান, এদিন কারখানাগুলোতে উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে। তবে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়।
নারায়ণগঞ্জ শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন, ‘আমরা শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা আমাদের জানিয়েছেন, আর আন্দোলন করবেন না। শ্রমিকরা সরকারের প্রতি আস্থা রেখেছেন।’
তবে রোববার ব্যতিক্রম চিত্র দেখা গেছে সাভারের আশুলিয়ার কয়েকটি কারাখানায়। এদিন সকালে এই শিল্পাঞ্চলের বেশির ভাগ কারখানায় কাজে যোগ দেন শ্রমিকরা। তবে কয়েক ঘণ্টা পর ছয়তলা এলাকার কয়েকটি কারখানা থেকে শ্রমিকরা কাজ বন্ধ করে বেরিয়ে আসেন। তাদের দাবির মুখে একে একে ২০টি কারখানায় রোববার ছুটি ঘোষণা করা হয়। এছাড়া আরও চারটি কারখানায় কর্মবিরতি পালন করেন শ্রমিকরা।
পুলিশ জানায়, সকালে আশুলিয়ার ছয়তলা এলাকায় একটি কারখানার শ্রমিকরা মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। যে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কারখানাগুলোর সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। আশুলিয়া শিল্প পুলিশের এসপি ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, শিল্পাঞ্চলে মোটামুটি স্বাভাবিক পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
এদিকে শনিবার রাতে এ আন্দোলনে উসকানি ও অর্থ দেওয়ার অভিযোগে নিষিদ্ধ সংগঠন যুবলীগের এক নেতাসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সাভার পৌর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক সালাউদ্দিন আহমেদ সোহেল ওরফে টেনশন সোহেলকে পৌর এলাকার ব্যাংক টাউন থেকে গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে ছাত্র হত্যারও অভিযোগ রয়েছে। রোববার তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এদিন গাজীপুর মহানগরের কোনাবাড়ীর বেশির ভাগ কারখানায় কর্মপরিবেশ ছিল স্বাভাবিক। তবে মণ্ডল গ্রুপের একটি কারখানা থেকে দুপুরে শ্রমিকরা বের হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এছাড়া চন্দ্রা পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় একটি কারখানার শ্রমিকরা বিক্ষোভ করেন। পরে কয়েকটি কারখানায় রোববার ছুটি ঘোষণা করা হয়।
গাজীপুর শিল্পাঞ্চল-২ এর পুলিশ সুপার আমজাদ হোসাইন বলেন, কয়েকটি কারখানার শ্রমিকরা বিক্ষোভ শুরু করলে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কোনাবাড়ী, কাশিমপুর ও জরুন এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
[প্রতিবেদন তৈরিতে তথ্য দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদক ও প্রতিনিধি]
