প্রথম ধাপে ১ হাজার ইউপিতে ভোটের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসি
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৯ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নির্বাচন কমিশন (ইসি) আগামী ২১ জানুয়ারি অনুষ্ঠেয় প্রথম ধাপে কমবেশি এক হাজার ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) ভোটগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। পাঁচ ধাপে সাড়ে চার হাজারের বেশি ইউপিতে নির্বাচনের পরিকল্পনার অংশ হিসাবে প্রথম দুই ধাপেই অধিকাংশ পরিষদের ভোট শেষ করতে চায় কমিশন। এ লক্ষ্যে প্রাথমিক তালিকা তৈরি করে মাঠপর্যায়ে যাচাই-বাছাই চলছে। আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত হতে পারে। রোববার নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।
ইসি সচিব বলেন, প্রথম ধাপে কমবেশি এক হাজার ৫০টি ইউপিতে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। অনেক ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ শেষ হওয়ায় সেগুলো ভোটের উপযোগী হয়েছে। এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রথম ধাপের নির্বাচনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তিনি জানান, আবহাওয়া, উপকূলীয় এলাকার পরিস্থিতিসহ সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে ধাপে ধাপে ইউপির তালিকা চূড়ান্ত করা হবে। প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপেই অধিকাংশ ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন শেষ করতে চায় কমিশন। পরবর্তী ধাপগুলোতে নির্বাচনের সংখ্যা তুলনামূলক কম থাকবে।
আখতার আহমেদ বলেন, প্রাথমিকভাবে একটি উপজেলার সব ইউনিয়ন পরিষদে একই সময়ে ভোটগ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে। এজন্য তালিকা তৈরির কাজ চলছে। কোনো ইউপিতে মামলা বা সীমানাসংক্রান্ত জটিলতা রয়েছে কিনা, তা যাচাই করতে মাঠপর্যায়ে তথ্য পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবারের মধ্যে তালিকা চূড়ান্ত করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
ভোটের প্রস্তুতির বিষয়ে ইসি সচিব বলেন, নির্বাচনি সামগ্রী প্রস্তুত করা হচ্ছে। ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করার পাশাপাশি তিন ধরনের ব্যালট পেপার ছাপানোর প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হবে। কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, পাঁচ ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম ধাপে ২১ জানুয়ারি, দ্বিতীয় ধাপে ৪ ফেব্রুয়ারি, তৃতীয় ধাপে ২৯ এপ্রিল, চতুর্থ ধাপে ১৩ মে এবং পঞ্চম ধাপে ২৭ মে ভোটগ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব নির্বাচনের তফসিল সংশ্লিষ্ট জেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা স্থানীয়ভাবে ঘোষণা করবেন।
এক প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি পর্যায় থেকে সমন্বিতভাবে তথ্য সংগ্রহের বিষয়টি বিবেচনা করছে কমিশন। প্রাথমিক শিক্ষায় ভর্তির সময় জন্মনিবন্ধন সনদের ভিত্তিতে যেসব তথ্য নেওয়া হয়, সেগুলো ইসির ডেটাবেজে সংরক্ষণ করা গেলে পরবর্তী সময়ে নাগরিকদের তথ্য সংগ্রহে জটিলতা কমবে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর তথ্য সমন্বয় করা গেলে নাগরিকদের বাড়তি বিড়ম্বনায় পড়তে হবে না।
ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইভিএমগুলো কী পদ্ধতিতে নিষ্পত্তি করা হবে, সে বিষয়ে কমিটির সুপারিশ পাওয়ার পর সিদ্ধান্ত জানানো যাবে। তবে নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে।
