নবম পে-স্কেল
অসংগতি দূর করতে ৬ মন্ত্রীকে নিয়ে কমিটি
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৯ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামোয় গ্রেডের ক্রম, পদোন্নতি ও উচ্চতর গ্রেড নিয়ে যে অসংগতি দেখা দিয়েছে, তা দূর করতে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এসব অভিযোগ পর্যালোচনা করে বেতন গ্রেড পুনর্বিন্যাস, নতুন ঝুঁকি ভাতা চালু এবং বিদ্যমান ভাতার হার পরিবর্তনের সুপারিশ করতে সরকার ছয় সদস্যের মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করেছে। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে আহ্বায়ক করে গঠিত এ কমিটির নাম ‘কর্মচারীদের বেতন গ্রেড-ভাতা নির্ধারণ ও পরিবর্ধন-পরিমার্জনের বিষয় পর্যালোচনা কমিটি।’ কোনো কোনো পদের বেতন গ্রেড বাড়ানো বা কমানো, বিভিন্ন গ্রেডের মধ্যে সামঞ্জস্য আনা এবং নতুন ভাতা চালুর বিষয়ে সুপারিশ করবে এই কমিটি। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ২ নভেম্বর এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।
কমিটির অন্যরা হলেন-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এবং জনপ্রশাসন ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, কর্মচারীদের কাছ থেকে পাওয়া অভিযোগ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে নিষ্পত্তির জন্য প্রয়োজনীয় সুপারিশ দেবে কমিটি। কমিটিকে সহায়তা করবেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার, অর্থ সচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার ও জনপ্রশাসন সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিবরাও সহায়তা করবেন। অর্থ বিভাগ নবগঠিত কমিটিকে সাচিবিক সহায়তা দেবে। এ কমিটি প্রয়োজনে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে। তবে সুপারিশ দেওয়ার জন্য কোনো সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়নি। সুপারিশ বাস্তবায়নের সময়ও জানানো হয়নি। ফলে বেতন কাঠামোর অসংগতি দূর করতে কর্মচারীদের আরও অপেক্ষা করতে হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশনের প্রতিবেদন পর্যালোচনায় বৈঠক : জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশনের প্রতিবেদন পর্যালোচনায় রোববার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে বৈঠক হয়েছে। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, অর্থ উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী। ইতোমধ্যে সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কশিনের প্রতিবেদন পর্যালোচনা সংক্রান্ত বৈঠকের বিষয়ে অর্থ বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, আসলে নবন পে-স্কেলে সব পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তার বেতন বাড়ানো হয়েছে। জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের অধীনে যারা চাকরি করছেন তাদেরও নিয়মানুযায়ী বেতন-ভাতা বাড়বে। কমিটির সুপারিশগুলো পর্যালোচনা করে ইতোমধ্যে অধিকাংশ বিষয়ের সমাধান করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিগগিরই এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হতে পারে। আবার কমিটি চাইলে আরও দু-একটি বৈঠক করতে পারে। বেতন গ্রেড নিয়ে অসন্তোষ : সরকারি চাকরিতে বিভিন্ন পদ ও পেশার কর্মীদের বেতন গ্রেড নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে। একই ধরনের দায়িত্ব পালন করেও কোনো কোনো পদে বেতন গ্রেডের পার্থক্য, পদমর্যাদার সঙ্গে গ্রেডের অসামঞ্জস্য এবং পদোন্নতির পর আর্থিক সুবিধা কমে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করতে গিয়ে এসব অসংগতি আরও স্পষ্ট হয়েছে। অর্থ বিভাগ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মচারীরা এসব বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। জ্যেষ্ঠতা, গ্রেডের ক্রম, উচ্চতর গ্রেড ও বাড়িভাড়া ভাতা নির্ধারণের অসংগতির কথা জানিয়ে তারা অর্থ সচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদারের কাছে সম্প্রতি আবেদন করেছেন। আবেদনগুলোয় অসংগতির উদাহরণ দেওয়া হয়েছে। নতুন বেতন কাঠামোর একটি অসংগতি হচ্ছে ১১তম ও ১২তম গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণে। নতুন কাঠামোয় ১১তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ২৫ হাজার টাকা। আর ১২তম গ্রেডে তা ২৪ হাজার ৩০০ টাকা। প্রারম্ভিক বেতনে ১১তম গ্রেড এগিয়ে থাকলেও আগের বেতন সমন্বয়ের পর তা উলটে যাচ্ছে। এছাড়া কর্মচারীদের আরেকটি অভিযোগ, পদোন্নতির পর কারও কারও মোট আয় কমে যেতে পারে।
