পাহাড়ে পারিবারিক আদালত প্রতিষ্ঠা করা হোক
Advertisement
প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বিচার পাওয়ার মৌলিক অধিকার থেকে দীর্ঘ দুই দশক ধরে বঞ্চিত হয়ে আসছে তিন পার্বত্য জেলার হাজার হাজার নারী ও শিশু। দেশের অন্যান্য অঞ্চলে পারিবারিক বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য পৃথক পারিবারিক আদালত থাকলেও পার্বত্য চট্টগ্রামে গত প্রায় দুই দশকেও তা প্রতিষ্ঠা করা হয়নি। এর ফলে খোরপোষ, দেনমোহর, বিবাহবিচ্ছেদ, দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধার এবং সন্তানদের অভিভাবকত্ব নির্ধারণের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল পারিবারিক ও সামাজিক বিষয়ে আইনি প্রতিকার পাওয়ার পথ আজও রুদ্ধ। ১৯৮৫ সালের পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশ (যা বর্তমানে ২০২৩ সালের পারিবারিক আদালত আইন দ্বারা প্রতিস্থাপিত) অনুযায়ী, এ আইনের কার্যকারিতা থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলকে বাইরে রাখা হয়েছে। এর পেছনের মূল যুক্তি ছিল এ অঞ্চলের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীগুলোর নিজস্ব প্রথাগত আইন, যেখানে প্রথাগতভাবে কারবারি ও হেডম্যানরা পারিবারিক ও সামাজিক বিরোধের মীমাংসা করে থাকেন। তবে সময়ের পরিক্রমায় পার্বত্য অঞ্চলের সামাজিক ও জনমিতির বিন্যাসে এক বিশাল পরিবর্তন এসেছে। পরিসংখ্যান ব্যুরোর জনশুমারি ও গৃহগণনার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে তিন পার্বত্য জেলায় ৫৭ শতাংশের বেশি স্থায়ী বাঙালি জনগোষ্ঠী বসবাস করছে। তাদের পারিবারিক বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য প্রথাগত আইনের কোনো সুযোগ নেই। এ অবস্থায় পাহাড়ে পারিবারিক আইনের প্রয়োগ অপরিহার্য।
মোহাম্মদ ইলিয়াছ, বান্দরবান
