যে বইগুলো স্বাধীনতা সংগ্রামে ভূমিকা রেখেছিল
Advertisement
হোসাইন মোহাম্মদ জাকি
প্রকাশ: ২২ ডিসেম্বর ২০২৩, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে আমাদের কবি-লেখক-সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা পূর্ব পাকিস্তান সময়কালে কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন তার বিবরণ ও তথ্যাদি ক্রমশ লোকচক্ষুর অন্তরালে হারিয়ে যাচ্ছে। এসব বিষয় সম্পর্কে বিচ্ছিন্ন ও আংশিক আলোচনা কোথাও কোথাও রয়েছে। কখনো স্মৃতিকথামূলক রচনায়, কখনো বা ভিন্ন প্রসঙ্গ আলোচনাকালে তা প্রকাশিত হয়েছে। আর সেগুলো রচিত হয়েছে কখনো সমসাময়িককালে, কখনো বা ঘটনার অনেক পরে। তবে জীবন্ত দলিল হিসাবে রয়ে গেছে সে সময়কার পত্রিকাগুলো। পাঁচশ বছর পরও সে শিরোনামগুলো নিঃসন্দেহে প্রাসঙ্গিক হিসাবে বিবেচিত হবে। ১৯৬৯-৭০ সালে পূর্ব বাংলার লেখক-কবি-শিল্পী-সাহিত্যিকদের ঐতিহাসিক ভূমিকা পূর্ব বাংলার স্বায়ত্তশাসন আন্দোলনকে পূর্ণ স্বাধীনতা আন্দোলনে পরিণত করে।
১৯৬৫-এর পাক-ভারত যুদ্ধ একটি সন্ধিক্ষণ। যুদ্ধের পর পূর্ব পাকিস্তানে ভারতীয় বই ও পত্রিকার প্রবেশ নিষিদ্ধ হয়। তবে পূর্ব পাকিস্তানে বই নিষিদ্ধের সংস্কৃতি আরও পুরোনো। মওলানা ভাসানীর লেখা ‘ভাসানী যখন ইউরোপে’ বইটি পাকিস্তানের সামরিক সরকার দু-দুবার বাজেয়াপ্ত করেছিল। একবার ১৯৫৮, আরেকবার ১৯৬৫ সালে। লেখকের বিরুদ্ধে জারি করা হয়েছিল হুলিয়া এবং দায়ের করা হয়েছিল মামলাও। ব্রিটিশ আমল থেকেই শাসকগোষ্ঠীর মাঝে বই বাজেয়াপ্ত করার একটা প্রবণতা দেখা যায়। শিশির কর-এর লেখা ‘ব্রিটিশ শাসনে বাজেয়াপ্ত বাংলা বই’ থেকে তার একটা বিস্তারিত ধারণা পাওয়া যায়। বিশ্বব্যাপী নিষিদ্ধ গ্রন্থের ইতিহাস এবং পরিণতি পর্যালোচনা করে দেখা যায় সেগুলোর প্রচার, প্রসার, পঠন, সংরক্ষণ কোনোটাই রহিত করা যায়নি। বরং নিষিদ্ধ ঘোষিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সেগুলো পেয়ে যায় ব্যাপক প্রচার। জ্ঞাতে অজ্ঞাতে প্রভাবিত হতে থাকে সমাজ। সমাজ হয়তোবা কখনোই সচেতনভাবে এ প্রভাব নিয়ে ভাবেনি। কিন্তু প্রভাবিত হয়েছে ঠিক ঠিকই। কারণ একটি প্রকৃত গ্রন্থ সমাজকে, সমাজের প্রচলিত ভাবনাকে প্রভাবিত করেই। বহিরাঙ্গিকে, মানস গঠনে, মূল্যবোধ রচনায় রাখে বিশেষ ভূমিকা।
১৯৬৯ সালের শেষ দিকে পাকিস্তান সরকার পর পর কয়েকটি পুস্তকের ওপর ‘কেন বইগুলো বাজেয়াপ্ত করা হবে না’ তার কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করে। এসব পুস্তক-পুস্তিকার মধ্যে ছিল ‘বাইশ থেকে চব্বিশ’ (সম্পাদক সিরাজুল আলম খান ও আমিনুল হক বাদশা)। ১৯৬৯ সালের ২২ মার্চ থেকে ২৪ মার্চ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু যেসব ভাষণ প্রদান করেন ওই পুস্তিকায় সেগুলো গ্রন্থিত হয়েছিল। ২৭ সেপ্টেম্বর ১৯৬৯ আবুল কালাম আজাদ রচিত ‘বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদের উন্মেষ’ নামে একটি গ্রন্থ পাকিস্তানের দুই প্রদেশের মধ্যে শত্রুতা, বিদ্বেষ ও ঘৃণা সৃষ্টির অভিযোগে অভিযুক্ত হয়। এর প্রকাশক ছিলেন জগন্নাথ কলেজের সায়েদুর রহমান হলের মফিজুর রহমান। এরপর সামরিক সরকার একে একে আরও কিছু বইয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। কোনো কোনো লেখক ও প্রকাশকের নামে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করে। এর মধ্যে কামরুদ্দীন আহমেদের ‘সোশ্যাল হিস্ট্রি অফ ইস্ট পাকিস্তান’, মহারাজ ত্রৈলোক্যনাথ চক্রবর্তীর ‘জেলে তিরিশ বছর’, বদরুদ্দিন উমরের ‘সংস্কৃতির সংকট’ ও ‘সাংস্কৃতিক সাম্প্র্রদায়িকতা’, সত্যেন সেনের ‘আলবেরুনী’ এবং আবদুল মান্নান সৈয়দের গল্পগ্রন্থ ‘সত্যের মত বদমাস’ ছিল উল্লেখযোগ্য।
পাঁচটি বিপজ্জনক বই
ভারতের খ্যাতনামা লেখক ও শিক্ষাবিদ পবিত্র সরকার ফেব্রুয়ারি ১৯৭১-এ কলকাতার ‘অমৃতা’ পত্রিকায় পাঁচটি বিপজ্জনক বই নিয়ে লিখেন। অতঃপর একই বছরে সেটার ইংরেজি অনুবাদ ‘Five Dangerous Book’ প্রকাশিত হয় বিখ্যাত ‘Mahfil’ পত্রিকার স্প্রিং-সামার সেশনে (ভলিউম-৭, নং ১ ও ২, Spring-Summer 1971)। এটি মিশিগান স্টেট বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক পরিচালিত দক্ষিণ এশীয়বিষয়ক একটি পত্রিকা। যা পরে ‘জার্নাল অব সাউথ এশিয়ান স্টাডিজ’ নামে খ্যাত হয়। এর মাসখানেক পর লন্ডন থেকে এক উর্দুভাষী গবেষক হামজা আলাভি সেটা আবার উর্দুতে অনুবাদ করেন। যা প্রকাশিত হয় ‘চিঙ্গারি’ (‘স্ফুলিঙ্গ’) নামক পত্রিকায়। নিষিদ্ধ ঘোষিত নির্দোষ বই শাসকের কল্যাণে এভাবেই খ্যাত হয়ে ওঠে! বইগুলো হলো-সংস্কৃতির সংকট (বদরুদ্দীন উমর), সাংস্কৃতিক সাম্প্রদায়িকতা (বদরুদ্দীন উমর), সত্যের মতো বদমাস (আবদুল মান্নান সৈয়দ), আলবেরুনী (সত্যেন সেন) ও জেলে তিরিশ বছর (ত্রৈলোক্যনাথ চক্রবর্ত্তী)। নিষিদ্ধ ঘোষিত এসব বইয়ের অধিকাংশই সমকালীন পাঠকের দৃষ্টিতে নির্দোষ বিবেচিত হলেও শাসকের কোপানলে পড়ে। শাসকের ইচ্ছা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট কবি-সাহিত্যিক যখন তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের সুবিধা (পদ-পদক-পদবি) আদায়ে ধরনা দেয় না, তাদের অনুকূলে সাহিত্য রচনা করে না বরং তাদের রচিত সাহিত্য আমজনতাকে অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মুক্তির পথ দেখায়, নিত্য নতুন চিন্তার খোরাক জোগায়-তখনই সেটা শাসকদের অহমে চরম আঘাত করে, তাদের শঙ্কিত করে। লেখককে অপদস্ত করার প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসাবে তখন তার প্রকাশিত নিবন্ধ, প্রবন্ধ, গল্প, নাটক, কবিতা, রচনা নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। আর সময়টা যদি এমন হয় যে-‘গদি ধরে মারো টান, শাসক হবে খান খান’, তাহলে তো সেটা গোদের ওপর বিষ ফোঁড়া।
‘সত্যের মতো বদমাশ’ গল্পে পাকিস্তান রাষ্ট্রের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কিছু নেই। গল্পের কিশোর মায়ের সঙ্গে মেলায় যায়। সেখানে সে যা দেখে তাই তাকে প্রলুব্ধ করে। এক সময় তার মা ওই মেলায় হারিয়ে যায়। কিন্তু কীভাবে হারায় সে বোঝে না। কিশোরকে চারজন বদমাশ কবরে যাওয়ার খাটিয়ার চারটি পায়ার মতো বয়ে নিয়ে যায়। কারণ এ চারজন শয়তান ভোগের জন্য কিশোরের মাকে না পেয়ে কিশোরকে নিয়ে কামচরিতার্থ করে। সমাজ বা রাষ্ট্র থেকে মানুষ এভাবেই হারিয়ে যায়-এটাই গল্পকার বোঝাতে চেয়েছেন। ‘আলবেরুনী’ একটি ঐতিহাসিক উপন্যাস। আলবেরুনীর ভারত সফরের একটি ইতিহাস। তার জীবনের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। বদরউদ্দিন উমর তার প্রবন্ধে কিছু মৌলিক তাত্ত্বিক বিষয় উত্থাপন করেছেন এবং পাকিস্তান সৃষ্টির অন্তর্নিহিত কিছু বিষয়কে চ্যালেঞ্জ করেছেন। মহারাজের আত্মজীবনীতে একটিও পাকিস্তানবিরোধী বক্তব্য নেই। তিনি একজন প্রবীণ বিপ্লবী, যিনি প্রায় ত্রিশ বছর কারাগারে কাটিয়েছেন। দেশ ভাগের সময় লেখক পূর্ব পাকিস্তানে ছিলেন, জন্মস্থান ছেড়ে যেতে অস্বীকার করেছেন। আইয়ুব খানের অনুমোদিত ও আশীর্বাদপ্রাপ্ত ‘মাইচীফ’ নামক গ্রন্থে বাঙালিদের সম্পর্কে কটাক্ষ করা হয়। এর প্রতিবাদে কামরুদ্দীন আহমেদ ‘সোশ্যাল হিষ্ট্রি অব ইস্ট পাকিস্তান’ নামক গ্রন্থ রচনা করেন।
লেখকের স্বাধীনতার ওপর সামরিক সরকারের হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী তখন প্রতিবাদ উত্থিত হয়। কবি-সাহিত্যিক-সাংবাদিক ও শিক্ষকদের পাশাপাশি রাজনীতিবিদরাও প্রতিবাদে শামিল হন। ২ জানুয়ারি ১৯৭০ সালে দৈনিক সংবাদের শিরোনাম ছিল, ‘মওলানা ভাসানী লিখিত ভোটের আগে ভাত চাই আটক’। সংবাদটিতে লেখা ছিল, “গতকাল (বুধবার) বেলা ১টার সময় পুলিশ লিয়াকত এভেনিউস্থ গণসাহিত্য ভবন ও উহার মালিকের বাসভবন হইতে মওলানা ভাসানী লিখিত ‘ভোটের আগে ভাত চাই’ এবং ইসলামী দুরমুজ পার্টি প্রকাশিত ‘ইসলাম ও সমাজতন্ত্রের শত্রু কারা?’, ‘কাফের কারা?’, ‘রুখিয়া দাঁড়ান’, ‘অসাম্যের বিরুদ্ধে ইসলাম’, ‘নির্যাতিত নবী’ প্রভৃতি পুস্তিকা আটক করিয়াছে।” এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে, সাহিত্য সংসদের নিয়মিত বৈঠকে গণসাহিত্য ভবনের পুস্তক আটকের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। পাশাপাশি সত্যেন সেন ও বদরুদ্দিন উমরের পুস্তকের ওপর ‘কেন বাজেয়াপ্ত করা হইবে না’ কারণ দর্শানো নোটিশ প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়। আটককৃত পুস্তক ফেরত না দিলে লেখক ও শিল্পী সমাজের প্রতি এ ব্যবস্থার বিরুদ্ধে আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়। এ সংশ্লিষ্ট খবরটি ৬ জানুয়ারি ১৯৭০ সালে দৈনিক সংবাদে ‘পুস্তক বাজেয়াপ্তির কারণ দর্শাও নির্দেশ প্রত্যাহার দাবী’ শিরোনামে প্রকাশিত হয়।
পুস্তক বাজেয়াপ্তির বিষয়টি নিয়ে তৎকালীন সরকারের বক্তব্যও ছিল উল্লেখ করার মতো। ৭ জানুয়ারি ১৯৭০ সালে ‘পুস্তক বাজেয়াপ্তি প্রসঙ্গে সরকারের বক্তব্য’ শিরোনামে দৈনিক সংবাদে তা প্রকাশিত হয়। সেখানে বলা হয়, প্রেস ও পাবলিকেশন অর্ডিন্যান্স অনুসারে কারও বই বাজেয়াপ্ত হলে তিনি হাইকোর্টের একজন বিচারপতির নেতৃত্বে গঠিত ট্রাইব্যুনালের সম্মুখে আরজি পেশ করতে পারবেন। পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে ভুল বোঝাবুঝির অবকাশ রয়েছে। আবদুল মান্নান সৈয়দ লিখিত ‘সত্যের মত বদমাশ’ ছাড়া পত্রিকায় উল্লিখিত অন্য কোনো বই-ই বাজেয়াপ্ত করা হয়নি। তবে বদরুদ্দিন উমর লিখিত ‘সাংস্কৃতিক সাম্প্রদায়িকতা’ ও ‘সাংস্কৃতিক সংকট’ পুস্তকের প্রকাশককে ১৯৬০ সালের প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশন অর্ডিন্যান্স অনুসারে এবং সত্যেন সেন লিখিত ‘আল বেরুনী’র প্রকাশককে পাকিস্তান দণ্ডবিধি অনুসারে শোকজের নোটিশ দেওয়া হয়। তাদের জবাব বিবেচনা করার পর তা বাজেয়াপ্ত করা হবে অথবা শোকজ প্রত্যাহার করা হবে। ইতোমধ্যে শোকজের জবাবের পরিপ্রেক্ষিতে জনাব কামরুদ্দীন আহমেদ লিখিত ‘সোশ্যাল হিস্ট্রি অব বেঙ্গল’ নামের পুস্তকের ওপর হতে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছে।
৮ জানুয়ারি ১৯৭০ সালে কবি, শিল্পী, সাহিত্যিক ও সাংবাদিকদের সমন্বয়ে ‘লেখক স্বাধিকার সংরক্ষণ কমিটি’ গঠিত হয়। বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে এর সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ঢাকার ২০টি সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। সিকান্দার আবু জাফর, হাসান হাফিজুর রহমান ও সাঈদ আতিকুল্লাহকে আহ্বায়ক নির্বাচিত করা হয়। বই-পুস্তক বাজেয়াপ্তি এবং শিল্প-সাহিত্য সংস্কৃতিতে সরকারি হস্তক্ষেপে প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলের মাঝেও মারাত্মক ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছিল। মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, সৈয়দ আলতাফ হোসেন, পূর্ব পাকিস্তান সাংবাদিক ইউনিয়ন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৭ জন শিক্ষক ও ১২ জন বিশিষ্ট চিত্রকর বিবৃতির মাধ্যমে তাদের ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ১৩ জানুয়ারি ১৯৭০ সালে দৈনিক সংবাদে তা প্রকাশিত হয়। পুস্তক বাজেয়াপ্ত করায় করাচি লেখক সংঘও প্রতিবাদ করে, যা দৈনিক পূর্বদেশ পত্রিকায় ২৯ জানুয়ারি ১৯৭০ সালে প্রকাশিত হয়। পাকিস্তানি শাসকদের কর্মকাণ্ডে শুধু পূর্ব পাকিস্তান সাহিত্যই নয়, পশ্চিম পাকিস্তান সাহিত্যকে নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টাও ছিল লক্ষণীয়। ১৯ জানুয়ারি ১৯৭০ সালের দৈনিক সংবাদের শিরোনাম ছিল, ‘পশ্চিম পাকিস্তান পুস্তক প্রকাশনা (নিয়ন্ত্রণ) বিধি ঘোষিত’। এ বিধি অনুযায়ী বিদেশে অর্থাৎ পশ্চিম পাকিস্তানের বাইরে ইতঃপূর্বে মুদ্রিত বা প্রকাশিত কোনো বই প্রদেশে পুনঃপ্রকাশ বা মুদ্রণের জন্য অনুমতির বাধ্যবাধকতা নিরূপণ করা হয়।
পূর্ব পাকিস্তানের নবরাজনৈতিক চেতনা সে সময়কার ভাষা ও সাহিত্যকে অবলম্বন করেই বিকশিত হয়েছে। তাই এ সাহিত্যকে শুধু অবসর বিনোদনের বস্তু বা সাহিত্যিকের আর্থিক উন্নতির উপায় হিসাবে দেখার কোনো সুযোগ নেই। নতুন রাষ্ট্রের অন্তর্নিহিত শক্তির বিকাশে এবং মহান স্বাধীনতা সংগ্রামের বুনিয়াদ গঠনে এ সাহিত্য ও সাহিত্যিকের ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য। উনিশশ সাতচল্লিশ হতে একাত্তর পর্যন্ত মহান মুক্তিসংগ্রামে এবং বাংলাদেশ রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠায় পূর্ব পাকিস্তান সাহিত্যের এ পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণ আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নিঃসন্দেহে আরও উজ্জীবিত করবে। পাকিস্তান সামরিক শাসকদের কলাকৌশল, দমননীতি ও সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের বিপরীতে পূর্ব পাকিস্তানি লেখক-কবি-শিল্পী-সাহিত্যিকরা যে প্রতিরোধ সংগ্রাম ও সাংস্কৃতিক আন্দোলন করেছেন তা ইতিহাস স্মরণে রাখবে নিশ্চয়।
