Logo
Logo
×

Advertisement

খবর

রাজশাহী বক্ষব্যাধি হাসপাতাল

বহুমুখী সংকটে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা

Advertisement

Icon

রাজশাহী ব্যুরো

প্রকাশ: ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

বহুমুখী সংকটে রয়েছে রাজশাহী বক্ষব্যাধি হাসপাতাল। বিভাগীয় এই হাসপাতালকে সবাই চেনে যক্ষ্মা হাসপাতাল হিসাবে। নগরীর টিবি পুকুর এলাকায় ষাটের দশকে প্রতিষ্ঠিত পুরোনো হাসপাতালটির সব ভবন জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। খসে পড়ছে ছাদের পলেস্তারা। ঝুঁকি নিয়ে চলছে চিকিৎসা কার্যক্রম।

জানা গেছে, রোগীর সংখ্যা ও সেবার পরিধি বাড়লেও নড়বড়ে অবকাঠামো, জনবল আর আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাবে রোগীরা পূর্ণাঙ্গ সেবা পাচ্ছেন না। প্রতিদিন গড়ে ২৫০ থেকে ৩০০ রোগীর চিকিৎসার জন্য ১০ জন চিকিৎসক কর্মরত থাকেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, রাজশাহী বিভাগ ছাড়াও হাসপাতালে খুলনা ও রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে রোগীরা আসেন। কিন্তু রোগীদের সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে স্বল্পসংখ্যক চিকিৎসকদের। হাসপাতালটিতে দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে সিনিয়র কনসালট্যান্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদ। সব মিলিয়ে রোগীদের চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. শারিকুল ইসলাম জানান, পদসংখ্যা না বাড়ায় এবং কোনো চিকিৎসক ছুটি বা প্রশিক্ষণে থাকলে তখন পূর্ণাঙ্গ সেবা সচল রাখা খুবই কঠিন হয়ে পড়ে। হাসপাতালটিতে আরও চিকিৎসকের পদ সৃষ্টি করা জরুরি।

শুধু চিকিৎসক সংকটই নয়, রোগ নির্ণয়ের মূল সরঞ্জামের অন্যতম ল্যাবরেটরি অ্যানালাইজার মেশিনটি ৬ মাস ধরে নষ্ট থাকায় রক্তসহ বিভিন্ন জটিল পরীক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না হাসপাতালে। রোগীদের চড়া মূল্যে বাইরের ক্লিনিক থেকে পরীক্ষা করিয়ে আনতে হচ্ছে। অনেক গরিব ও অসচ্ছল রোগী অর্থ সংকটে বিপাকে পড়ছেন। অনেকেই শ্বাসতন্ত্রের ব্যয়বহুল চিকিৎসা সামলাতে গিয়ে ঋণগ্রস্ত হচ্ছেন।

হাসপাতালটির নার্স ও ল্যাব টেকনোলজিস্টদের মতে, ব্যাকআপ মেশিন না থাকায় একটি যন্ত্র অচল হলেই পরীক্ষা-নিরীক্ষা সেবা বন্ধ হয়ে পড়ে। এছাড়া এক্স-রে বিভাগের একমাত্র ডিআর ডিজিটাল এক্স-রে মেশিনটি বারবার বিকল হয়ে পড়ার পর পুরোপুরি সেবা উপযোগী হয়নি। হাসপাতালের মাত্র একটি ইসিজি মেশিনের ওপরই ভরসা রাখতে হচ্ছে চিকিৎসা নিতে আসা শত শত রোগীকে। ৫ মিনিটের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে সিরিয়াল পেতে সময় লাগছে ২ দিন।

এদিকে হাসপাতালটিতে ৪৮ ধরনের ওষুধ সরবরাহের কথা থাকলেও রোগীরা পাচ্ছেন মাত্র ২০ ধরনের ওষুধ। অনেক প্রয়োজনীয় ওষুধ রোগীদের নিজ খরচেই দোকান থেকে কিনতে হচ্ছে। ল্যাব ও এক্স-রে সেবার জন্য মাত্র একজন করে টেকনোলজিস্টকে দায়িত্ব পালন করতে হয়। ২৪ ঘণ্টা সেবা দিতে হাসপাতালে ন্যূনতম ৫ জন টেকনোলজিস্টের প্রয়োজনের কথা জানিয়েছেন হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মজিবুর রহমান। এই বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে কয়েক দফা পত্র পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

সম্প্রতি হাসপাতালটি সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, বারবার মেরামত ও সংস্কার করার পরও হাসপাতাল ভবনটি এখনো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে আছে। ১৫০ শয্যার হাসপাতালটিতে সব সময় দুই শতাধিক রোগী চিকিৎসাধীন থাকেন। শীতকালে রোগীর সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। তখন চিকিৎসা সেবা দিতে চিকিৎসক ও নার্সদের হিমশিম খেতে হয়।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মজিবুর রহমান বলেন, চিকিৎসক ও সহায়ক সরঞ্জামের সংকট থাকার পরও আমরা সাধ্যমতো আউটডোর, ইনডোর ও জরুরি সেবা দিয়ে থাকি। পূর্ণাঙ্গ সেবা দিতে হলে চিকিৎসক-নার্সসহ সহায়ক সরঞ্জামের ঘাটতি পূরণ করা জরুরি।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

রাজশাহী বক্ষব্যাধি হাসপাতাল বহুমুখী সংকটে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা

বহুমুখী সংকটে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা

আতঙ্কে স্থানীয় বাসিন্দারা নড়িয়ায় তীররক্ষা বাঁধের ৩০ মিটার পদ্মায় বিলীন

নড়িয়ায় তীররক্ষা বাঁধের ৩০ মিটার পদ্মায় বিলীন

মালয়েশিয়ায় পাচারের চেষ্টা সমুদ্র থেকে বোটসহ উদ্ধার ৭৬ জন, আটক ১১ দালাল

সমুদ্র থেকে বোটসহ উদ্ধার ৭৬ জন, আটক ১১ দালাল

চট্টগ্রামে হৃদয় হত্যায় ৩২ জনের বিরুদ্ধে মামলা

চট্টগ্রামে হৃদয় হত্যায় ৩২ জনের বিরুদ্ধে মামলা

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম