‘ভারত-বাংলাদেশ চোরের দেশ’ বক্তব্য ঘিরে তোলপাড়
Advertisement
জামালপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের সদস্য (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) শহিদুল ইসলামের বক্তব্যের একটি ভিডিও ঘিরে জামালপুরে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার জামালপুরের মাদারগঞ্জে আরপিসিএল সোলার পাওয়ার প্ল্যান্ট পরিদর্শনকালে তিনি এ বক্তব্য দেন। ভাইরাল ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘বাংলাদেশে সবচেয়ে ব্যর্থ হলো ইন্ডিয়ানরা, আমি আগেও বলেছি। চায়নারাও চোর আছে, কিন্তু ওদের যখন চুরি ধরা পড়ে, এত সাই ফিল (লজ্জাবোধ) করেন.... কিন্তু এরা (ইন্ডিয়ানরা) আমি পচা দিছি...খায়।’ একপর্যায়ে তিনি বলতে থাকেন-‘ইন্ডিয়াও চোরের দেশ, বাংলাদেশও চোরের দেশ, সবই চলে এখানে। ঘুস-ঘাস, অমুক-তমুক দিয়া অবৈধরে বৈধ করা যায়।’
এ সময় সামনে থাকা একজন কর্মকর্তাকে জিজ্ঞেস করেন, ‘তোমার বাড়ি ইন্ডিয়া না বাংলাদেশে?’ তার বাড়ি ‘দিনাজপুর’ বলার পর তিনি বলতে থাকেন, ‘ইন্ডিয়ান এখানে কেউ নাই? থাকলেও আমার কিছু আসে-যায় না। সত্য কথা আমি সবার সামনে বলি।’
এদিকে, শুক্রবার বিকালে আরইবি এবং আরপিসিএল ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মাদারগঞ্জ প্রকল্প পরিদর্শনে আসেন। এ সময় ওই বক্তব্য ঘিরে সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এ ব্যাপারে শহিদুল ইসলামের মন্তব্য জানতে তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি মিটিংয়ে আছেন বলে ফোন কেটে দেন। এ বিষয়ে ভারতীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এআরআইপিএল’র কনস্ট্রাকশন ম্যানেজার জ্যোতিরিন্দু চ্যাটার্জী যুগান্তরকে বলেন, আরইবি সদস্যের বক্তব্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। প্রকল্পে ভারতীয় ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানটির কাজের মূল্যায়ন, বিল পরিশোধ এবং চুক্তি-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে নিরপেক্ষতা কীভাবে নিশ্চিত করা হচ্ছে এ বিষয়ে একটি সন্দেহের উদ্রেক হয়েছে। আমরা এ বিষয়ে ভারতীয় হাইকমিশনারকে জানানোর জন্য একটি চিঠি রেডি করছি। এ ধরনের বক্তব্য বাংলাদেশ-ভারতের বিদ্যমান সম্পর্ক এবং বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি ঠিকাদার ও বিনিয়োগকারীদের আস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করেন সচেতন মহলও।
উল্লেখ্য, বিদ্যুৎ বিভাগের আওতায় আরপিসিএল কর্তৃক ‘মাদারগঞ্জ ১০০ মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ (২য় সংশোধিত)’ শীর্ষক প্রকল্প চলতি বছরের ১৯ আগস্ট একনেকে অনুমোদিত হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রায় ২১২ কোটি টাকা বিল বকেয়া ও মূল প্রকল্প থেকে প্রায় ২০০ কোটি টাকার কাজ বাদ দেওয়ায় প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
