ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন
সংখ্যালঘু ও আওয়ামী ভোটার বড় ফ্যাক্টর
বিজিবি মোতায়েন
Advertisement
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ বিরাজ করছে। নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু করতে এলাকায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। এদিকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে সংখ্যালঘু ও আওয়ামী ভোটার বড় ফ্যাক্টর হতে পারে। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠেয় উপনির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন (ধানের শীষ) ও জামায়েতে ইসলামীর প্রার্থী দেলোয়ার হোসেনের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
ঐতিহাসিকভাবে ঠাকুরগাঁও-১ আসনকে আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি হিসাবে গণ্য করা হতো। ১১টি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাতবার, বিএনপির প্রার্থী চারবার এবং জাতীয় পার্টির প্রার্থী একবার জয়লাভ করেন। ৫ লাখ ১৬ হাজারের অধিক ভোটারের এ আসনে ১ লাখ ৩৫ হাজারের বেশি সংখ্যালঘু (সনাতনী ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী) ভোটার। নতুন রাজনৈতিক সমীকরণে আওয়ামী লীগের সমর্থক ও সংখ্যালঘুদের মন জয় করতে প্রার্থীরা মরিয়া হয়ে মাঠে নেমেছেন। নির্বাচনি প্রচারে বিএনপি প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন জানান, আমার বাড়ি তাঁতিপাড়ায়, মন্দিরের দেওয়াল আমাদের জায়গার সীমানা। আমাদের বাড়ির জবা ফুলে আপনাদের পূজা হয়, আর আপনাদের বাড়ির তুলসীগাছের পাতায় আমাদের অসুখ সারে। আমার শরীরে একবিন্দু রক্ত থাকতে কখনোই আপনাদের ক্ষতি হতে দেব না। জামায়াত প্রার্থী দেলোয়ার হোসেন বলেন, ২০২৪ সালের আগস্টে হিন্দু ভাই-বোনদের ওপর যখন হামলা হয়েছিল, সেসময় আমরা তাদের পাশে ছিলাম। আমি নির্বাচিত হলে সেই হামলার প্রতিটি ঘটনার বিচার নিশ্চিত করা হবে।
সোমবার প্রেস ব্রিফিংয়ে ঠাকুরগাঁও সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মোহাম্মদ সুরুজ মিয়া জানান, সাধারণ টহলের পাশাপাশি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ও প্রবেশদ্বারে বিশেষ চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। এছাড়া যে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড দমনে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা হয়েছে। নিরাপত্তা কার্যক্রমে ড্রোন ক্যামেরা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বডি-ওর্ন ক্যামেরা এবং বিশেষ প্রশিক্ষিত ডগ স্কোয়াড ব্যবহার করা হচ্ছে।
উপনির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ঠাকুরগাঁও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম জানান, ভোটাররা যাতে সম্পূর্ণ ভীতিমুক্ত ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সেজন্য সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
