যবিপ্রবি অধ্যাপকের উদ্ভাবন
ন্যানো ইউরিয়া ব্যবহারে খরচ কমবে ৮২ শতাংশ
Advertisement
যবিপ্রবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সাশ্রয়ী ন্যানো ইউরিয়া সার উদ্ভাবন করেছেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) এক গবেষক। তিনি হলেন কেমিকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ও ন্যানোপ্রযুক্তি গবেষক জাভেদ হোসেন খান। তার দাবি-এক বিঘা জমি চাষাবাদ করতে ন্যানো ইউরিয়া ব্যবহারে খরচ হবে মাত্র ২৩০ টাকা। প্রচলিত ইউরিয়া সারে ভর্তুকিসহ খরচ হয় প্রায় চার হাজার ২০০ টাকা। প্রচলিত সারের চেয়ে আবিষ্কৃত ইউরিয়া ব্যবহারে খরচ কমবে প্রায় ৮২ শতাংশ। এটি পরিবেশবান্ধব। গবেষণার স্বীকৃতি হিসাবে রোববার বাংলাদেশ পেটেন্ট অফিস তার উদ্ভাবিত ন্যানো ইউরিয়ার পেটেন্ট অনুমোদন করেছে।
গবেষকের সূত্রে জানা যায়, ন্যানো ইউরিয়া স্প্রে মেশিনের মাধ্যমে ব্যবহার করতে হবে। এটি সরাসরি গাছের পাতায় স্প্রে করা হয়। এ সারের কণাগুলো অতি ক্ষুদ্র। তাই গাছ তা দ্রুত শোষণ করতে পারে। ফলে অপচয় কমে। এতে মাটির গুণগত মানেও প্রভাব পড়ে না। এ প্রযুক্তির মাঠপর্যায়ের কার্যকারিতা বগুড়ার শেরপুর, যশোরের আব্দুলপুর ও গাজীপুর অঞ্চলে বিভিন্ন ফসলের ওপর পরীক্ষা করা হয়। কৃষকদের দাবি, চাষাবাদে আবিষ্কৃত ইউরিয়া প্রয়োগে প্রচলিত ইউরিয়ার চেয়ে উৎপাদন বেড়েছে।
ড. জাভেদ বলেন, ‘২০১৯ সালে ন্যানো ইউরিয়া সার উদ্ভাবনের কাজ শুরু করি। সাত বছরের চেষ্টায় সফল হয়েছি। এ উদ্ভাবন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বেশকটি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক জৈবসার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান কোলাবায়োর সঙ্গে একটি চুক্তিও সই হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘দেশের মাটি, দেশের কৃষি এবং কৃষকের স্বার্থকে সামনে রেখেই আমরা কাজ করছি। দেশে প্রতি বছর প্রায় ৩০ লাখ টন ইউরিয়া ব্যবহৃত হয়, যার প্রায় ৮০ শতাংশই আমদানিনির্ভর। ন্যানো ইউরিয়া ব্যাপকভাবে প্রয়োগ করলে এ খাতে বিপুল ব্যয় কমবে। অতিরিক্ত সার জমিতে না পড়ার ফলে জমির দূষণও রোধ হবে।’
ড. জাভেদ জাপানের ওয়াসেদা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি সম্পন্ন করেন। বিভিন্ন বিষয়ে তার ১৩০টির বেশি গবেষণাপত্র ও ছয়টি পেটেন্ট রয়েছে। ২০২২ সালে তিনি জাতীয় বিজ্ঞান একাডেমি স্বর্ণপদক পান। ২০২৫ সালে তিনি বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্সেসের ফেলো নির্বাচিত হন।
