বাঁশ কেটে নেওয়ার প্রতিবাদ করায় যুবকের হাত বিচ্ছিন্ন
১৩ মহিষ ও দুই গাড়ি পাট লুট
Advertisement
দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে না জানিয়ে বাঁশ কেটে নেওয়ার প্রতিবাদ করায় রনি (৩২) নামে এক যুবকের হাত বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। এ সময় তার বাড়িঘরে হামলা, ১৩টি মহিষ, দুই গাড়ি পাট (৩০ মন ) লুট ও রনির মোটরসাইকেলও পুড়িয়ে দেওয়া হয়।
উপজেলার প্রাগপুর ইউনিয়নের জামালপুর গ্রামে শুক্রবার সকাল ৯টায় এ ঘটনা ঘটে। আহত রনি ওই গ্রামের মৃত বিশু লাঠারের ছেলে। গুরুতর অবস্থায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দিন আগে জামালপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্তে বিজিবির বসার মাঁচা তৈরির জন্য স্থানীয়দের কাছে বাঁশ চাওয়া হয়। এ সময় রনির অনুমতি ছাড়াই তার বাঁশঝাড় থেকে চার-পাঁচটি বাঁশ কেটে বিজিবিকে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় সুমন নামে এক ব্যক্তিকে রনি গালাগাল করেন। এর জেরে শুক্রবার সকালে মহিষের জন্য মাঠ থেকে ঘাস কেটে বাড়ি ফেরার পথে কবরস্থানের পাশে রনিকে একা পেয়ে হামলা চালানো হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, নাজিরের ছেলে সুমনের নেতৃত্বে শামসুল মণ্ডলের ছেলে উজির, উজিরের ছেলে রুমন, রবকুলের ছেলে কামু, জাম্বু, রঞ্জিত মণ্ডলের ছেলে লস্কর, শহিদুলের ছেলে মন্টুসহ আরও কয়েকজন দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে রনির ওপর হামলা চালায়। এ সময় রনি হামলা ঠেকানোর চেষ্টা করলে তার ডান হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। শরীরের বিভিন্ন স্থানেও গুরুতর জখম হয়।
পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে কুষ্টিয়ায় পাঠানো হয়। অবস্থার আরও অবনতি হলে পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
এদিকে, রনিকে হাসপাতালে নেওয়া নিয়ে পরিবারের সদস্যরা ব্যস্ত হয়ে পড়লে হামলাকারীরা তার বাড়িতে লুটপাট চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় বাড়িতে থাকা ১৩টি মহিষ, দুই গাড়ি পাট নিয়ে যাওয়া হয় ও একটি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেওয়া হয়।
দৌলতপুর থানার ওসি খালেদুর রহমান বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লুটের ১৩টি মহিষ ও দুই গাড়ি পাট উদ্ধার করেছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করা হয়েছে। দ্রুত তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। এ বিষয়ে কুষ্টিয়া ৪৭ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি বলেন, বিজিবির জন্য বাঁশ কাটার বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। বিষয়টি জেনে পরে জানাবেন।
