শেরপুরে দুই গ্রামের সংঘর্ষ
মহাসড়কে যান চলাচল সাড়ে চার ঘণ্টা বন্ধ
Advertisement
শেরপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
শেরপুরে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে তিন পুলিশ সদস্যসহ উভয় পক্ষে ১০-১২ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের জেরে শেরপুর-জামালপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে সাড়ে চার ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। শনিবার সকালে সদর উপজেলার চরপক্ষীমারী ইউনিয়নের ডাকপাড়া ব্যাঙের মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ভোর ৬টা থেকে সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত সড়ক অবরোধ করে রাখেন দুই গ্রামের লোকজন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকালে সাতপাকিয়া পাইকারি কাঁচাবাজারে সবজি বহনকারী একটি গাড়ির সঙ্গে শরীরে ঘষা লাগাকে কেন্দ্র করে কথা কাটাকাটি হয়। এর জেরে ডাকপাড়া এলাকার এক কৃষককে মারধর করেন সাতপাকিয়া এলাকার কয়েকজন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয়দের মধ্যে সংঘর্ষের আশঙ্কা দেখা দিলে শুক্রবার রাতেই মাইকিং করে লোকজন জড়ো হওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। শনিবার সকালে দুই গ্রামের বাসিন্দারা শেরপুর-জামালপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের দুই পাশে অবস্থান নেন।
একপর্যায়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তারা সংঘর্ষে জড়ান। শুরু হয় ধাওয়া-পালটাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ। এতে তিন পুলিশ সদস্যসহ উভয় পক্ষের ১০-১২ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে সদর থানার এসআই আসিফ, এএসআই হাকিম এবং কনস্টেবল জুয়েলসহ সদর উপজেলার সাতপাখিয়া গ্রামের আহতদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হলেন রুস্তম হাজির ছেলে মোফাজ্জল হোসেন, সিরাজের ছেলে কানু, মুক্তার আলীর ছেলে মোস্তফা, লতিফের ছেলে লিটন এবং রুস্তম আলীর স্ত্রী পরী বানু। আহতরা স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) নাসরিন আক্তার ও সদর থানার ওসি খোকন চন্দ্র ঘোষ ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে সকাল সাড়ে ১০টায় দুই পক্ষ সড়ক থেকে সরে গেলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ব্যাঙের মোড় এলাকায় সড়কের দুই পাশে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অবস্থান নিয়েছিলেন দুই পক্ষের লোকজন। সড়কের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল ইটপাটকেল। সদর থানার ওসি খোকন চন্দ্র ঘোষ বলেন, অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
