পরকীয়া ফাঁসের আশঙ্কায় কেশবপুরে জোড়া হত্যা
যশোর ব্যুরো
প্রকাশ: ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
পরকীয়া সম্পর্ক প্রকাশ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় যশোরের কেশবপুরে আলেক সর্দার ও তার স্ত্রী মাজেদা বেগমকে খুন ও লাশ গর্তে ফেলে রাখা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। মঙ্গলবার জেলা পুলিশের কনফারেন্স রুমে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান মণিরামপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) ইমদাদুল হক। হত্যার ঘটনায় পুলিশ সোমবার কেশবপুরের মাগুরখালি গ্রামের নুর ইসলামের স্ত্রী জেসমিন বেগম ও একই গ্রামের কিসমত সরদারের ছেলে মোস্তফা কামালকে আটক করে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে জোড়া হত্যা রহস্য উদ্ঘাটিত হয়।
পুলিশ জানায়, হত্যা মামলার পর তদন্ত শুরু করে তাদের একটি দল। হত্যায় জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে সোমবার রাতে প্রথমে জেসমিন এবং পরে মোস্তফাকে আটক করা হয়।
এএসপি ইমদাদুল জানান, জেসমিন ও মাজেদা অভয়নগরের একটি জুট মিলে কাজ করতেন। শুক্রবার মিল বন্ধ থাকায় সকালে বাড়ির কাজ শেষ করে দুজন মাঠে ঘাস কাটতে যান। তখন মাজেদার স্বামী আলেকও মাঠে কাজ করছিলেন। আটক জেসমিন পুলিশকে জানিয়েছে, মোস্তফার সঙ্গে তার চার-পাঁচ মাস ধরে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ছিল। মাঠে জেসমিন ও মোস্তফাকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলেন মাজেদা। তাদের অনৈতিক সম্পর্কের কথা গোপন রাখতে মাজেদা ও তার স্বামী আলেককে হত্যার সিদ্ধান্ত নেন ওই দুইজন। পরে কৌশলে জেসমিন মাঠের একপাশে কলমিশাক পাওয়া যাবে এমন প্রলোভন দেখিয়ে আলেক ও মাজেদাকে একটি ঘেরের পাশে নিয়ে যান। সেখানে মোস্তফা তার হাতে থাকা ধারাল অস্ত্র (কাঁচি) দিয়ে আলেকের শরীরে ও মাথায় আঘাত করেন। অন্যদিকে, জেসমিন ওড়না দিয়ে মাজেদার গলায় ফাঁস দেন। পরে মাজেদার মৃত্যু নিশ্চিত করতে কাঁচি দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। এরপর দুজনের লাশ পুরোনো সেচযন্ত্রের গর্তে ফেলে দেওয়া হয়।
