ওয়ারীতে দুই ভাইকে কুপিয়ে হত্যা
‘ফ্ল্যাট নিয়ে দ্বন্দ্বের জের’
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১৫ আগস্ট ২০২৪, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাজধানীর ওয়ারী থানাধীন হাটখোলা এলাকায় আপন দুই ভাইকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তারা হলেন-আল আমিন ভূঁইয়া (৪২) ও তার ছোট ভাই নুরুল আমিন ভূঁইয়া (৩৫)। বুধবার বেলা ১১টার দিকে ওয়ারীর হাটখোলা এলাকার ফকির বানু টাওয়ারের পাশের গলিতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আল আমিন ওয়ারী থানার ৪১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তবে কে বা কারা তাদের খুন করেছে সেটি নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। ফ্ল্যাট নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে দুই ভাইকে হত্যা করা হতে পারে বলে দাবি স্বজনদের। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন। স্বজনরা জানান, নিহত দুই ভাই ওয়ারীর ২নং কেএম দাস লেনের শামসুদ্দিন ভূঁইয়ার ছেলে। আল আমিন বিএনপির রাজনীতি করতেন। আর ছোট ভাই নুরুল আমিন ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল (রাইড শেয়ার) চালাতেন। নিহতদের বড় ভাই রুহুল আমিন যুগান্তরকে বলেন, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ফকির বানু টাওয়ারের পাশের গলিতে আল আমিন ভূঁইয়া ও নুরুল আমিন ভূঁইয়াকে কুপিয়ে জখম করেছে দুর্বৃত্তরা এমন খবর পান তারা। প্রথমে তারা আল আমিনকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আল আমিনকে উদ্ধারের ২ ঘণ্টা পর একই এলাকা থেকে ছোট ভাই নুরুল আমিনকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে বেলা পৌনে ৩টার দিকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকেও মৃত ঘোষণা করেন। রুহুল আমিন আরও বলেন, মঙ্গলবার রাতে স্থানীয় আসিফ, ইকবাল, ফয়সাল ও টুটুলসহ কয়েকজন যুবক আলামিনকে ডেকে নিয়ে হত্যার হুমকি দেয়। তারা সবাই কাউন্সিলর আলোর লোক ছিল। এর মধ্যে বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় বাসা থেকে দুই ভাই বের হন। বেলা সাড়ে ১১টায় খবর পান যে, দুই ভাইকে কে বা কারা কুপিয়ে ফেলে রেখে গেছে। আমরা ধারণা করছি, কাউন্সিলর আলোর ইন্ধনে দুই ভাইকে হত্যা করা হতে পারে। আল আমিন ভূঁইয়ার স্ত্রী মুনমুন বলেন, দেড় বছর আগে ক্লাসিক ডেভেলপার কোম্পানির মালিক রিপনের কাছ থেকে প্রায় দেড় কোটি টাকা দিয়ে আমরা একটি ফ্ল্যাট কিনেছিলাম। ফ্ল্যাট রেডি হলেও তা বুঝিয়ে দেওয়া হচ্ছিল না। এসব নিয়ে তাদের সঙ্গে আমাদের বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জেরে রিপন তার লোকজন নিয়ে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে থাকতে পারে।
স্ত্রী মুনমুন আরও বলেন, মঙ্গলবার রাত ১২টার দিকে কয়েকজন যুবকের সঙ্গে আমার স্বামীর তর্ক হলে তারা তাকে হত্যার হুমকি দেয়। সকালে কেউ একজন আমার স্বামীকে ফোন করে নিচে নামতে বলে। নিষেধ করার পরেও তিনি নিচে নামেন। এর কিছুক্ষণ পর জানতে পারি, কে বা কারা তাকে কুপিয়ে ফেলে রেখে গেছে। ওয়ারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানে আলম মুন্সি বলেন, ফ্ল্যাট সম্পর্কিত ঝামেলায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে স্বজনরা অভিযোগ করেছেন। তারা একটি হত্যা মামলা করবেন বলে পুলিশকে জানিয়েছেন। হত্যার সঙ্গে যে বা যারাই জড়িত থাকুক, সবাইকে চিহ্নিত করে দ্রুত গ্রেফতার করা হবে।
