জেনে নিন
চোখ যে মনের কথা বলে
Advertisement
মুহাম্মদ শফিকুর রহমান
প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
চোখ যে মনের কথা বলে। শুধু চোখে চোখ রাখাই নয়, গানের কথার মতো চোখও কথা বলে। প্রিয় মানুষের চোখে জমে থাকে কত কথা। চোখের ভাষা বুঝতে হলে সবার আগে প্রয়োজন সুস্থ চোখ। অথচ শরীরের অন্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের যত্ন নিলেও চোখের প্রতি আমরা অনেক সময় তেমন গুরুত্ব দিই না। চোখে ঝাপসা দেখা, পানি পড়া বা ব্যথা শুরু হলেই শুধু চিকিৎসকের কাছে ছুটে যাই।
চোখ যে কত মূল্যবান, তা সবচেয়ে ভালো বোঝেন যারা পৃথিবীর আলো দেখতে পান না। তাই চোখের যত্নে একটু সচেতন হওয়া জরুরি। খাদ্যাভ্যাসে সামান্য পরিবর্তন এনেও চোখের স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়া যায়। ভিটামিন এ, সি, ই, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ও লুটেইন চোখের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান। তাই এসব উপাদানসমৃদ্ধ খাবার নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখা ভালো।
সহজলভ্য সবজি গাজরে রয়েছে ভিটামিন এ। চোখের জন্য প্রয়োজনীয় এ উপাদান পেতে গাজর খাওয়া যেতে পারে। কমলাতেও রয়েছে প্রচুর ভিটামিন সি। আম, পেঁপে, ডিম, মাছ, বাদাম ও টমেটোর মতো খাবারও চোখের জন্য উপকারী। ডিমের কুসুমে থাকা লুটেইন ও জিংক চোখের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। মাছের ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডও চোখের রেটিনার জন্য উপকারী। বাদামে থাকা ভিটামিন ই-ও চোখের যত্নে ভূমিকা রাখে।
শুধু খাবার নয়, দৈনন্দিন অভ্যাসেও চোখের যত্ন নিতে হবে। বর্তমানে দীর্ঘ সময় কম্পিউটার, মোবাইল ও টেলিভিশনের পর্দায় তাকিয়ে থাকতে হয়। একটানা পর্দার দিকে তাকিয়ে থাকা চোখের জন্য অস্বস্তিকর হতে পারে। তাই কাজের ফাঁকে চোখকে বিশ্রাম দেওয়া দরকার। ঘনঘন চোখের পলক ফেলুন, মাঝে-মধ্যে চোখ বন্ধ করুন এবং দূরের কোনো কিছুর দিকে তাকান।
কম্পিউটারে কাজের সময় ‘২০-২০-২০ রুল’ অনুসরণ করা যেতে পারে। অর্থাৎ, প্রতি ২০ মিনিট পরপর অন্তত ২০ সেকেন্ডের জন্য ২০ ফুট দূরের কোনো কিছুর দিকে তাকানো। এতে চোখের ওপর চাপ কমাতে সাহায্য করতে পারে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রামও জরুরি। প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণত প্রতিদিন ৭-৯ ঘণ্টা ঘুমের পরামর্শ দেওয়া হয়।
চোখের নিচে কালো দাগ বা ফোলা ভাব নিয়েও অনেকে চিন্তিত থাকেন। ঘুমের অভাব, ক্লান্তি কিংবা অন্যান্য কারণেও এমনটি হতে পারে। তাই চোখের চারপাশে যে কোনো তেল, ক্রিম বা ভিটামিন ক্যাপসুল ব্যবহারের আগে সতর্ক থাকা উচিত। চোখের চারপাশের ত্বক সংবেদনশীল হওয়ায় বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।
চোখ ভালো রাখতে পরিচ্ছন্নতার দিকেও নজর দিতে হবে। চোখে হাত দেওয়ার আগে হাত পরিষ্কার রাখা জরুরি। চোখে কোনো সমস্যা দেখা দিলে নিজের মতো করে ওষুধ বা ড্রপ ব্যবহার না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া, চোখ দিয়ে অতিরিক্ত পানি পড়া, চোখব্যথা, ময়লা জমা, চুলকানি বা চোখ লাল হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা করা উচিত নয়। দ্রুত চক্ষু চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া প্রয়োজন।
চোখ শুধু মনের কথাই বলে না, আমাদের চারপাশের পৃথিবীটাকেও দেখায়। তাই চোখের যত্নে সচেতনতা জরুরি। সঠিক খাবার, পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও কিছু ভালো অভ্যাসই পারে চোখকে সুস্থ রাখতে।
