শহর থেকে দূরে প্রশান্তির খোঁজে
Advertisement
সুমন্ত গুপ্ত
প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
আসছে ২৭ সেপ্টেম্বর বিশ্ব পর্যটন দিবস। দিবসটি সামনে রেখে বাংলাদেশ আবারও পর্যটন খাত নিয়ে বড় স্বপ্ন দেখছে। পর্যটন আজকের দিনে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শিল্প ও অর্থনৈতিক খাত। এটি শুধু বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন বা কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে না, বরং এটি সংস্কৃতি বিনিময় ও বৈশ্বিক ঐক্যকে শক্তিশালী করে, প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে ভূমিকা রাখে, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনমান ও ক্ষমতায়নকে উন্নত করে, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। লেখা ও ছবি সুমন্ত গুপ্ত
দ্য প্যালেস লাক্সারি রিসোর্ট
হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার পুটিজুরী পাহাড়ে দ্য প্যালেস রিসোর্ট। প্রায় ১৫০ একর পাহাড়ি ভূমিতে ৩০ হাজার গাছ, ঝরনা, চা বাগান, রাবার বাগান দিয়ে রিসোর্টটি গড়ে তোলা হয়েছে। বর্তমানে টাওয়ার বিল্ডিংয়ে ১০৭টি বিলাসবহুল গেস্টরুম এবং পাহাড়ের বুকে ২২টি এক্সক্লুসিভ ভিলা নিয়ে সর্ববৃহৎ রিসোর্ট হিসাবে নিজের পরিচয় সুদৃঢ় করেছে। চমৎকার নির্মাণশৈলী ও মনোরম পরিবেশের এ রিসোর্ট সত্যিকার অর্থেই যেন এক রাজপ্রাসাদ। হানিমুন কিংবা পরিবার নিয়ে নিরিবিলিতে ছুটির সময় কাটাতে চাইলে দ্য প্যালেস লাক্সারি রিসোর্ট একটি অতুলনীয় স্থান।
সাইরু হিল রিসোর্ট
পার্বত্য অঞ্চলের মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত হলো সাইরু হিল রিসোর্ট। এ রিসোর্টে যেতে হলে চিম্বুক থানচি সড়ক হয়ে বান্দরবান শহর থেকে ১৮ কিলোমিটার দূরে চিম্বুক পাহাড়ের কাছে যেতে হবে। যে পাহাড়ের ওপর এ রিসোর্টটি তা ভূমি থেকে প্রায় ১ হাজার ৮০০ ফুট উঁচু। এখানে থাকা ও খাওয়ার জন্য প্রায় চার ধরনের ২০টি কটেজ রয়েছে।
দুসাই রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা
বাংলাদেশের প্রথম পাঁচতারকা মানের বুটিক ভিলা রিসোর্ট যা ২০১৭ সালে বিশ্ব বিলাসবহুল হোটেল পুরস্কার অর্জন করে। দুসাই রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা বাংলাদেশের সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার জেলার মৌলভীবাজার-শ্রীমঙ্গল মহাসড়কের গিয়াসনগরে অবস্থিত। ১৭ একর জায়গা নিয়ে সুদৃশ্য লেক ও পাহাড়ের ওপর পরিবেষ্টিত ট্রপিক্যাল গাছের সারির মাঝে গড়ে উঠেছে । কটেজগুলো কুঁড়েঘর আকৃতিতে তৈরি। এ রিসোর্টটি পরিবেশবান্ধব হওয়ায় অবকাশ যাপনের জন্য একটি আদর্শ জায়গা।
সায়মন বিচ রিসোর্ট
১৯৬৪ সালে প্রতিষ্ঠিত কক্সবাজারের প্রথম প্রাইভেট হোটেল, সায়মন বিচ রিসোর্ট যা এখন পুনর্নির্মিত হয়েছে ৫ তারকা হোটেল রূপে। কক্সবাজারে বিচ ফ্রন্ট লোকেশনে অবস্থিত রিসোর্টটি সৌন্দর্যপিপাসুদের জন্য পার্ফেক্ট হলিডে ডেসটিনেশন। অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধাসমৃদ্ধ কলাতলী বিচের মেরিন ড্রাইভে অবস্থিত রয়েছে প্রায় ২২৮টি অভিজাত রুম। এ ছাড়া রয়েছে ১৬টি প্যানারোমা ওশান স্যুট এবং ৩৬টি ডিলাক্স সুট। কেন্দ্রীয় ওয়াটার হিটিং সিস্টেম ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ১৭৬টি সি ভিউ সংবলিত রুম। জনপ্রিয়তার শীর্ষে সায়মন বিচ রিসোর্ট পৃথিবীর দীর্ঘতম ১২০ কিলোমিটার প্রশস্ত কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের একদম সামনেই অবস্থিত। এয়াপোর্ট থেকে ১০-১৫ মিনিট গাড়িতে ড্রাইভ করলে রিসোর্টে যাওয়া যাবে। এ ছাড়া এ রিসোর্টের আশপাশে ৫-১০ মিনিটের ড্রাইভিং ডিসট্যান্সে বার্মিজ মার্কেট, বোদ্ধমন্দির, লাইট হাউজের মতো উল্লেখযোগ্য স্থানগুলো আছে। মোট কথা, সি বিচের একদম মেইন পয়েন্টেই এ রিসোর্টের অবস্থান।
মেঘপুঞ্জি রিসোর্ট
মেঘ-পাহাড়ের আলিঙ্গন দেখতে পর্যটকদের কাছে এখন সবচেয়ে আকর্ষণীয় গন্তব্য সাজেক। সাজেকের রূপের আসলে তুলনা হয় না। বছরের যে কোনো সময় সাজেক ভ্রমণ করতে পারেন। তবে বর্ষা, শরৎ ও হেমন্তে সাজেকের চারপাশে মেঘের খেলা দেখা যায় বেশি। দিনের শেষ আর শুরুতে এই রং যেন পুরো পাহাড় সোনায় মুড়িয়ে রাখে। উপত্যকা পেরিয়ে ক্রমে পাহাড়ের ভাঁজ যেন আকাশচুম্বী হয়েছে ওখানে। আর এ দীর্ঘ উপত্যকাজুড়ে অরণ্যের সীমানা। সাজেকে বিকাল পেরিয়ে সন্ধ্যা নামতেই নৈসর্গিক নীরবতা পাহাড়ের চারপাশে। আকর্ষণীয় ল্যান্ডস্কেপিক ভিউ পাওয়া যায় মেঘপুঞ্জি রিসোর্টে। মেঘপুঞ্জিতে আছে চারটি কটেজ, প্রতিটিতে তিন-চারজন থাকা যাবে।
সবকটিই মূলত কাপল কটেজ। বাঁশ, কাঠ ও গ্লাস দিয়ে তৈরি ইকো কটেজ। কটেজের ভেতর থেকেই ইনফিনিটি ভিউ। ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ। পূর্ণ নিরাপত্তা ও প্রাইভেসি। সেলফি ব্রিজ। কটেজের কক্ষগুলোর ভাড়া পড়বে ২৫০০-৩৫০০ টাকা। যোগাযোগ : ০১৮১৫৭৬১০৬৫। সাজেক ভ্রমণ খরচ মূলত নির্ভর করবে আপনার নাগালের মধ্যেই। যাওয়া আসাসহ দুদিনের জন্য জিপ ভাড়া পড়বে ৮,০০০ টাকা। চাঁদের গাড়ির জন্য যোগাযোগ : দীঘিনালার চাঁদের গাড়ির ড্রাইভার নূর আলম- ০১৮২০৭৩২০৪৩, রাজ-০১৮২০৭৪১৬৬২, ০১৮৪৯৮৭৮৬৪৯, হানিফ-০১৮২৮৮২৯৯০৮, মিধল-০১৮৬৭১৩৫২১৪, শিবু-০১৮২০৭৪৬৭৪৪।
শুকতারা রিসোর্ট
সিলেট শহর থেকে সাড়ে ৭ কিলোমিটার দূরে শুকতারা রিসোর্টের অবস্থান। শাহপরান (রহ.)-এর মাজার গেট থেকে একটু এগিয়ে বামে মোড় নিয়ে মিনিট ২ এগোলেই মিলবে কাঙ্ক্ষিত শুকতারা। ১৪ একর জায়গাজুড়ে এ রিসোর্ট। চা বাগানের রাস্তা থেকে শুকতারা রিসোর্টের পথ ধরে এগোলে প্রথমে সুবজ একটি টিলা স্বাগত জানায়। টিলার নিচে একপাশে রিসোর্টের ফটক। একপাশে রয়েছে টয় ট্রেন লাইন। সমতল থেকে প্রায় ৫০ ফুট উঁচুতে উঠলে প্রকৃতিকে সঙ্গী করে নির্মিত ছোট ছোট নিবাস, কটেজ নজর কাড়ে। ওপরে উঠে প্রথমেই চোখে পড়বে ৩ তলাবিশিষ্ট একাশিয়া রেস্টুরেন্ট। দ্বিতীয় তলায় খাবারের আয়োজন। তৃতীয় তলায় বসার, আলাপচারিতার ঘর। ওপরে উঠেই চোখে পড়বে খোলা মঞ্চের মতো জায়গা। যে দিকেই তাকাবেন সবুজের হাতছানি ও সারি বাঁধা আকাশছোঁয়া পাহাড়। চাইলে রুমে বসেই দেখতে পারেন পাহাড় আর সবুজের মিতালি। বারান্দার ওপরে টিনের চাল। রুমের ছাদে বসেও উপভোগ করতে পারেন প্রকৃতি। রিসোর্টে মোট ১১টি কটেজ। ঘরের ভেতরে খাট থেকে শুরু করে টেবিল-চেয়ার সবই সিলেটের ঐতিহ্য বেতের তৈরি। শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ আর ২৪ ঘণ্টা গরম পানির ব্যবস্থাও আছে কটেজে। বাগানের তাজা ও সতেজ চা-কফি নিজ হাতেই তৈরি করতে পারবেন। কটেজের বাসিন্দারা জানালা ও বারান্দার কাছ থেকে পাহাড়-টিলা দেখার অপূর্ব সুযোগ পান। গ্রন্থাগারে আছে দেশ-বিদেশের বই ও পত্রপত্রিকা এবং বড় পর্দার টেলিভিশন। সৌরবিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। পর্যটকদের জন্য গাইডের ব্যবস্থা রয়েছে, যারা সিলেটের বিভিন্ন জায়গা দেখবেন তাদের ঘুরিয়ে দেখাবেন।
নাজিমগড় রিসোর্ট
সিলেট শহর থেকে সামান্য দূরে খাদিমনগরে এক নির্জন দ্বীপ গড়ে উঠেছে নাজিমগড় রিসোর্ট। তাদেরই ব্যবস্থাপনায় মেঘালয় সীমান্তে লালাখালে তৈরি হয়েছে পিকনিক স্পট। এক আদর্শ অবসর যাপনকেন্দ্র এ নাজিমগড় রিসোর্ট। সিলেট শহর থেকে মাত্র ১৫ মিনিটের রাস্তা। সিলেট-জাফলং মহাসড়কের পাশেই অবস্থিত। প্রায় ৬ একর জায়গার ওপর এ রিসোর্টটি যেখানে রয়েছে প্রায় ২ শতাধিক লোকের খাওয়া-দাওয়াসহ রাতযাপনের সুবিধা। রিসোর্টটি সব বয়সিদের জন্যই উপযোগী।
পাহাড়ের ঢেউ দেখার দারুণ জায়গা। ১৫টি কটেজ আছে এখানে। রয়েছে রেস্টুরেন্টের হরেক পদের খাবার। ঢাকা থেকে এত দূরে নুড়ি পাথরের রাজ্য জাফলংয়ে পাশে এমন একটি রিসোর্ট ভাবাই যায় না।
নদীতে ঘুরে বেড়ানোর জন্য নিজস্ব স্পিডবোট। স্পিডবোটে করে সারি নদী হয়ে লালাখাল ভ্রমণ-যে কোনো পর্যটকের জন্যই লোভনীয় অফার। লালখালে আবার রয়েছে নাজিমগড়ের আকর্ষণীয় রেস্টুরেন্ট, সূর্যোদয়, সূর্যাস্ত ও ওপারের মেঘালয় পাহাড় দেখার জন্য পাহাড়ের ওপরে ওয়াচ টাওয়ার। নুড়ি পাথরের রাজ্য জাফলংয়েও নিজস্ব রেস্টুরেন্ট রয়েছে নাজিমগড়ের। নদীর ওপারে ঝুলন্ত সেতু, এপারে নাজিমগড়ের রেস্টুরেন্ট। পাশেই খাসিয়া পল্লি, পানের বরজ। নদীতে চলছে পাথর উত্তোলনের কাজ। নাজিমগড় রিসোর্টে থাকার জন্য আছে তিন ধরনের ব্যবস্থা। একেকটির ভাড়া একেক রকম, তবে আধুনিক সুযোগ-সুবিধায় পাঁচতারকা হোটেলের সমান। আছে স্পা ও পুল, যেখানে দূর করতে পারেন শরীরের অবসাদ। সবচেয়ে বড় কথা-প্রতিটি স্থাপনাই গাছপালা-জঙ্গলে ছাওয়া টিলার ধারে। ভিলা, টেরেস বা বাংলোর বারান্দায় বসে হাত বাড়ালেই যেন পাওয়া যায় গাছগাছালির ছোঁয়া। আমাদের প্রাকৃতিক ঐশ্বর্য বিদেশের বহু দর্শনীয় জায়গাকে হার মানাতে পারে।
বনলতা রিসোর্ট
একঘেয়ে জীবনধারায় হাঁপিয়ে ওঠা মানুষের জন্য ঘুরে বেড়ানো একটি নেশা। তাই সামর্থ্য বিবেচনা করে মানুষ যখন সময় পায় তখনই বেরিয়ে পড়ে অজানার উদ্দেশ্যে। ব্যতিক্রম চেহারা ও বাস্তবতায় গড়ে উঠেছে সিলেট শহর থেকে ৩৫ মিনিটের দূরত্বের বনলতা রিসোর্ট। যন্ত্রদানবের শব্দহীন জোনাকি পোকার ঝিঁঝি শব্দে রাতের নিস্তব্ধতাকে মাতিয়ে তোলার অনন্য এক বৈশিষ্ট্য হলো বনলতার। সিলেটের গোয়াইনঘাটে রাতারগুল সোয়াম ফরেস্টের একদম কাছের দূরত্বে। প্রকৃতির কাছাকাছি শহুরে জঞ্জাল থেকে দূরে সম্পূর্ণ গ্রামের আবহাওয়া ও পরিবেশ উপভোগ করতে হলে এই ইকো রিসোর্টটি রাখতে পারেন পছন্দের শীর্ষে।
শহরের কোলাহল থেকে মুক্তি পাওয়ার এ যেন এক বড় পাওয়া। ছোট্ট একটি লেকে নৌকা ভেসে বেড়াচ্ছে। সারি সারি গাছের ফাঁকে সূযের্র লুকোচুরি খেলা ‘নিঃসন্দেহে’ নিয়ে যাবে অন্য ভুবনে। বনলতার সবকটিই ইকো কটেজ। কোনোটি বাঁশের কটেজ আবার কোনোটি মাটির কটেজ। কটেজগুলোর নামের ভিন্নতা রয়েছে। কোনো কটেজের নাম অরণী কোনোটা লাবণ্য, কোনোটা সূর্যশিশির আবার কোনোটা চারুলতা। বনলতার রান্নাবান্না হয় মাটির চুলায়। আর খাবার পরিবেশনও করা হয় মাটির বাসনে। খাবারের মূল্য একদম নাগালের ভেতরে ২০০ থেকে ৫৫০ টাকার ভেতরে। খাবারে মেনুতে থাকছে নানা পদের ভর্তা, হাওড়ের মাছ, দেশি মুরগির মাংস। একসঙ্গে অনেকজন বসা যায়। আর বসে পুরো রিসোর্ট দেখা যায়। আর তার সঙ্গে বাড়তি পাওয়া হলো পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র ভারতের নয়নাভিরাম পাহাড়ের সৌন্দর্যগুলো। বনলতায় কটেজ পাবেন ৩ হাজার টাকা থেকে ৬ হাজার টাকার ভেতর।
কীভাবে যাবেন : বনলতা সিলেট শহর থেকে মাত্র ৪০ মিনিট দূরত্বে রাতারগুল সোয়াম ফরেস্টের কাছেই রামনগর গ্রামে অবস্থিত। মূল রাস্তার ওপর বনতলার অবস্থান। সিলেট শহরের আম্বরখানা থেকে সাহেববাজার অভিমুখী সিএনজি নিয়মিত পাওয়া যায়। ভাড়া নেবে জনপ্রতি ৩০ টাকা।
যোগাযোগ: +৮৮০১৭১৭৬৭৪৩১০, +৮৮০১৭৩৫০২৪২০৫, ই-মেইল : [email protected]
