শাড়িতে নারী
Advertisement
ফারিন সুমাইয়া
প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
পোশাক মানুষের ব্যক্তিত্বের ভাষা। চারপাশের পরিবেশ থেকে শুরু করে আপনার রুচির পরিচয় সবকিছুই প্রকাশ পায় পোশাকে। আর তা যদি হয় মেয়েদের ক্ষেত্রে, তবে আরাম আর স্বাচ্ছন্দ্য এ দুটি বিষয় কাজ করে সবার আগে। বাংলার ঐতিহ্যের হাত ধরে পোশাকের ফ্যাশনে এসেছে অনেক পরিবর্তন। তবে সবকিছু ছাপিয়ে যা তার জায়গা ধরে রেখেছে সবসময়, তা হচ্ছে শাড়ি। যে কোনো অনুষ্ঠান কিংবা অফিস কিংবা ক্লাস অথবা প্রেজেন্টেশেন শাড়ি এ সময়ের নারীদের অন্যতম পছন্দ।
দৈনন্দিন কাজে ব্যবহার করা শাড়িগুলো হয় খুব সাধারণ। না থাকে ভারী কাজ না থাকে রঙের বাড়াবাড়ি। একটি কিংবা দুটি হালকা রঙের মাঝেই থাকে এর পরিধি। সুতি কাপড় তাই পছন্দের সবার ওপরে। এ ধরনের কাপড়ের শাড়িতে কখনো ফ্লোরাল প্রিন্ট আবার কখনো অল্প স্বল্প ডিজাইন চোখে পড়ে। তবে এক রঙের শাড়িতে দুই একটি সুতার ফুল, প্রজাপতিই যেন যথেষ্ট শাড়ির সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুলতে।
যারা আবার ভারী কাজের শাড়ি খোঁজেন তাদের জন্য আছে জামদানি, রাজশাহী সিল্ক শাড়ি, কাতান শাড়ির লম্বা তালিকা। এসব শাড়ি আপনি যে কোনো অনুষ্ঠান বা ঘরোয়া পার্টিতে বেছে নিতে পারেন। তবে যখনই আসে আপনার প্রতিদিনের অনুষঙ্গ তখন সুতি, স্ক্রিন প্রিন্ট কিংবা টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ি অন্যতম। এসব শাড়ি পরতে যেমন আরামের তেমনি ক্যারি করতেও সহজ। তাই যারা শাড়ি পরতে পছন্দ করেন, তারা এ ধরনের শাড়িই বেছে নিতে চান যে কোনো আয়োজনে।
অনেকেই আছেন আবার শাড়ি তো পছন্দ, কিন্তু পরতে গেলেই বাধে যত বিপত্তি। তাদের জন্য বেশ কিছু ডিজাইনের মাঝে আছে রেডিমেট শাড়ি। পরতে খুব বেশি হলে কয়েক মিনিট সময় আপনার দিতে হবে ঘড়ি ধরে। তবে শাড়ির বিষয়ে নিজস্বতাই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বের। এ ক্ষেত্রে আপনি কেমনভাবে শাড়িকে ফুটিয়ে তুলতে চান, তা নির্ভর করবে আপনার। পিওর সুতি যেমন আছে তেমনি আছে মিক্সড কটন শাড়ির প্রচলন। এর বাইরে অনেকেই আবার কাপড় কিনে নিজস্ব মান আর রঙের সুতার বুননে শাড়িতে নানা ডিজাইন ফুটিয়ে তোলেন। অনেকেই আবার শাড়ির পাড়ের সঙ্গে টারসেল অথবা পুঁতি কিংবা ছোট ছোট পাথর অথবা গ্লাস বসিয়েও নিজস্বতাকে ফুটিয়ে তোলেন।
ছোট বড় তাই সবার কাছেই শাড়ি মানেই উৎসব, শাড়ি মানেই ভিন্ন কোনো আয়োজন। ধর্মীয় কিংবা তার বাইরে দেখা যায়, শাড়িতেই নারী বেশি স্বাচ্ছন্দ্যেবোধ করে। অন্যদিকে শাড়ি বেছে নিতে আছে নানা ঝামেলাও। কোন রঙের শাড়ির সঙ্গে কেমন রঙের ব্লাউজ মানাবে, তা আগেভাগে গুছিয়ে রাখাই সবচেয়ে ভালো। ব্লাউজের ক্ষেত্রে যারা বাইরে শাড়ি ক্যারি করেন, তাদের জন্য ফুলহাতা ব্লাউজই সবচেয়ে ভালো। অথবা হাফহাতা ব্লাউজের পাশাপাশি ম্যাগি হাতার প্রচলন এখনো আছে। এর বাইরেও নানা ডিজাইন, রং আর কাপড়ের বিন্যাস চোখে পড়ে শাড়ির ক্ষেত্রে। তবে শাড়ির কথা এলেই বাঙালির মাঝে এক ধরনের শাড়িপ্রীতি লক্ষ করা যায় সবার আগে। শাড়ির প্রতি এ ভালোবাসার কারণেই উৎসব কিংবা আয়োজনে শাড়িকেই নারী বেছে নেয়। শাড়ির সঙ্গে পরা যায়-মন ভরে গয়না, খোঁপায় গুঁজে রাখা যায় ফুলের সুবাস, হাতে পরা যায় রেশমি চুড়ি। তাই শাড়ি শুধু নারীর একটি অনুষঙ্গ নয়, অব্যক্ত ভালোবাসাও। একটা সময় শাড়ি শুধু ছিল প্রতিদিনের পোশাক। ধীরে ধীরে সেই পোশাকের রঙে, কাপড়ের ধরন ও ডিজাইনে এসেছে পরিবর্তন। তেমনি ফ্যাশনের মাপকাঠিতে মাপলে শাড়িতেও এসেছে অনেক পরিবর্তন। তবে এতশত পরিবর্তনের মাঝেও শাড়ির নিজস্ব সৌন্দর্য আছে ঠিক আগের মতোই।
