‘নিরাপত্তা, দুর্নীতি ও জ্বালানি’বিষয়ক সংলাপে জ্বালানি উপদেষ্টা
সুবিধা নিতে অনেকেই চান দুর্নীতি থাকুক
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেছেন, আমরা দুর্নীতির বিষয়ে সন্তুষ্ট নই। অনেকেই চান দুর্নীতি থাকুক, যাতে সুবিধা নিতে পারেন। শুধু অতীতের নয়, বর্তমানের দুর্নীতি থামানোর দিকেও নজর দিতে হবে। এ দেশে উন্নয়নের জন্য নয়, বরং দুর্নীতির জন্য অনেক প্রকল্প করা হয়।
বৃহস্পতিবার সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘নিরাপত্তা, দুর্নীতি ও জ্বালানি’বিষয়ক সংলাপে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের চেয়ারম্যান জিল্লুর রহমানের সঞ্চালনায় সংলাপে নির্বাচন সংস্কার কমিশনের চেয়ারম্যান বদিউল আলম মজুমদার, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, বিআইপিএসএস-এর প্রেসিডেন্ট মেজর জেনারেল (অব.) এ এন এম মনিরুজ্জামান, সিজিএস-এর নির্বাহী পরিচালক পারভেজ করিম আব্বাসী, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু বক্তব্য দেন।
ফাওজুল কবির খান আরও বলেন, আইন করা হয় দুর্নীতি থামানোর জন্য। কিন্তু এ দেশে আইন ও নীতিনির্ধারণের মাধ্যমেই দুর্নীতি করা হয়েছে। তিনি বলেন, জ্বালানি খাতে দুর্নীতির কাঠামো ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এ খাতে ৩ দশমিক ২ বিলিয়ন টাকার বকেয়া ছিল, যার অনেকটাই পরিশোধ করা হয়েছে। প্রতিযোগিতা ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তেল আমদানির জন্য আগে রিফাইনারি মালিক হতে হতো, সেটি বাতিল করা হয়েছে। অপ্রয়োজনীয় ব্যয় ও প্রকল্প বন্ধ করে দিয়েছি।
বদিউল আলম মজুমদার বলেন, আমাদের নিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা। এর জন্য দরকার কার্যকর গণতন্ত্র। আমাদের রাজনীতি ও নির্বাচন অঙ্গনকে পরিষ্কার করতে হবে। দুর্নীতির মূল চালিকাশক্তি হলো টাকা। আমাদের টাকার খেলা বন্ধ করতে হবে। তিনি বলেন, আইন থাকা সত্ত্বে গত তিনটি নির্বাচন ঠিকমতো হয়নি। রাজনীতিকে দুর্নীতিমুক্ত না করতে পারলে দুর্নীতি বন্ধ করা যাবে না।
ড. আব্দুল মঈন খান বলেন, সিকিউরিটির ৫টি তাত্ত্বিক দিক আছে। রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, অর্থনীতি, রাজনীতি, কূটনীতি ও সমাজ। সিকিউরিটি অফ দ্য পিপল নিয়ে আমি উদ্বিগ্ন। মানুষের নিরাপত্তা না থাকলে সেই রাষ্ট্র অর্থহীন।
এ এন এম মনিরুজ্জামান বলেন, জুলাই বিপ্লবোত্তর অনেক কমিশন করা হলেও, জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে কোনো কমিশন করা হয়নি। জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে কোনো কৌশল নেই। পানি নিরাপত্তা নিয়ে বাংলাদেশ ঝুঁকিতে আছে। পানি নিয়ে যে সমস্যা আছে তা সমাধান না করা হলে আমরা সমস্যায় পড়ব।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের সিনিয়র গবেষণা ফেলো সাফকাত মুনির বলেন, জাতীয় নিরাপত্তাকে সামগ্রিকভাবে বিবেচনা করতে হবে। প্রথাগত ও অপ্রথাগত নিরাপত্তা নিয়ে আমাদের গুরুত্ব দিতে হবে।
