রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতিতে কালি
আয়াসসহ ৪ জন রিমান্ডে
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতি নষ্ট ও বিকৃত করার চেষ্টা, উসকানিমূলক বক্তব্য এবং ধর্মীয় সম্প্রীতিতে আঘাত হানার চেষ্টার অভিযোগে করা মামলায় রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের সদস্য সচিব আ ন ম আয়াসসহ ৪ জনের বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। রোববার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। আয়াস ও মো. সাকিবুল হাসানের তিন দিন করে এবং মো. সুজন মিয়া ও খন্দকার মারজিয়া খন্দকার রিমির দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন বিচারক। একই সঙ্গে আসামিদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।
রাজধানীর শিল্পকলা একডেমির সীমানা প্রাচীরে আঁকা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় শনিবার তাদের আটক করে শাহবাগ থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। রোববার তাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক আব্দুল গাফফার হিমেল তাদের ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।
রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা কার নির্দেশে, কেন এবং কার সহযোগিতায় ঘটনাটি ঘটিয়েছেন, সে বিষয়ে তথ্য দিতে কৌশলে বিরত রয়েছেন। ঘটনার মূল রহস্য উদ্ঘাটন ও সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাদের রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন।
আবেদনে আরও বলা হয়, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের শনাক্ত, গ্রেফতার এবং পলাতক আসামিদের পূর্ণাঙ্গ নাম-ঠিকানা সংগ্রহ; ঘটনার ইন্ধনদাতা ও মদদদাতাদের শনাক্ত; পরিকল্পনাকারীদের খুঁজে বের করা এবং ঘটনায় অর্থায়নের উৎস জানতে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।
রিমান্ড শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, ‘আসামিরা গ্রাফিতি মুছে ফেলার মাধ্যমে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। তারা সরকারের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের উদ্দেশ্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতিতে কালি দিয়েছেন। এ ঘটনার পেছনে আর কারা জড়িত, তা জানতে আসামিদের ১০ দিনের রিমান্ড প্রয়োজন।’
তিনি বলেন, ‘জুলাই যোদ্ধা হোক বা না হোক, কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নন। দেশের নিরাপত্তা ও শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় সবাইকে আইনের মধ্যে থেকে কাজ করতে হবে।’
অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী মনির হোসাইন সুমন রিমান্ড বাতিল ও জামিনের আবেদন করেন। তিনি বলেন, ‘আসামিরা সবাই জুলাই যোদ্ধা। তারা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেননি। জুলাইয়ের আগে তারা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এবং পরিবর্তন আনতে ভূমিকা রেখেছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘সাংস্কৃতিক ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভ রয়েছে এবং জুলাইকে বিভক্ত করার চেষ্টা চলছে।’ শুনানি শেষে আদালত আসামিদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে বিকাল ৪টার দিকে শাহবাগ থানা থেকে পুলিশি পাহারায় আসামিদের আদালতে নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু হয়। এ সময় তাদের হেলমেট, বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ও হাতকড়া পরানো হয়। তবে নারী আসামি রিমির হাতে হাতকড়া ছিল না। পরে হেঁটে তাদের আদালতের চতুর্থ তলায় নেওয়া হয়। অসুস্থতা বোধ করায় আয়াসের হেলমেট ও বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট খুলে দেওয়া হয়। বিকাল ৪টা ৪৮ মিনিটে রিমান্ড শুনানি শুরু হয়।’
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ফুটপাত থেকে হকার উচ্ছেদ কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির ফটকের বিপরীতে গণপূর্তের সীমানা প্রাচীর সংলগ্ন ফুটপাত থেকে হকারদের উচ্ছেদ করা হয়। পরে ওই সীমানা প্রাচীরে বাংলাদেশের শিল্প, সংস্কৃতি ও সাহিত্যবিষয়ক বিভিন্ন গ্রাফিতি আঁকা হয়। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, শিল্পকলা একাডেমির সীমানা প্রাচীরে আঁকা রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতি চুনকালি দিয়ে মুছে ফেলতে আসামিরা শনিবার সেখানে উপস্থিত হন। ওই সময় আয়াস তার বক্তব্যে পাকিস্তানে অবস্থিত জিন্নাহর কবর ও নামফলক প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। অন্যদিকে মারজিয়া খন্দকার রিমি ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জমিদারিতে মুসলমানদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ তুলে বক্তব্য দেন। এরপর তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতিতে কালি মাখিয়ে দেন।
এছাড়া আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়িয়ে ধর্মীয় অনুভূতি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মধ্যে বিরোধ সৃষ্টির চেষ্টার অভিযোগও আনা হয়েছে মামলায়। ঘটনাস্থল থেকে চার আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় অজ্ঞাতনামা কয়েকজন পালিয়ে যান।
