ছয় দিন ধরে নিখোঁজ
মুক্তিপণ দেওয়ার পরও ছাড়া পায়নি ১১ বছরের জিসান
Advertisement
হাজারীবাগ (ঢাকা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাজধানীর বংশাল থেকে নিখোঁজ ১১ বছরের মো. জিসানের ছয় দিনেও সন্ধান মেলেনি। এর মধ্যে অপহরণকারীদের ১০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দেওয়ার পরও শিশুটিকে ফেরত দেয়নি বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার। তারা পরে আরও ৪০ হাজার টাকা দাবি করেছে। গত ২১ সেপ্টেম্বর আসরের পর স্থানীয় সাতরওজা খাজে নেহাল জামে মসজিদের মাদ্রাসা থেকে বের হয়ে সে নিখোঁজ হয়। এ ঘটনায় ২২ সেপ্টেম্বর বংশাল থানায় জিডি করেছেন তার বাবা মো. সাজু মিয়া। তার বাড়ি গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের মাদারীপাড়া হরিপুরে।
মাদ্রাসার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, বের হওয়ার প্রায় এক মিনিট পর সে আবার মাদ্রাসার ভেতরে ঢোকে। প্রায় ২০ মিনিট পর আবার বের হয়ে যায়। এরপর আর মাদ্রাসায় ফেরেনি। জিডি করার পর পুলিশ পরিবার ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। সাজু মিয়া বলেন, জিডির দুই দিন পর ইমোতে ফোন করে জিসানকে অপহরণ করা হয়েছে জানিয়ে ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। পরে দেন-দরবার করে ১০ হাজার বিকাশে পাঠানো হয়। ২৪ সেপ্টেম্বর জিসানকে ফেরত দিতে চাইলেও ছেড়ে দেওয়া হয়নি।
তিনি আরও বলেন, পরে ওই বিকাশ নম্বরটি পুলিশকে দিলে গাজীপুরের শ্রীপুরের একটি বিকাশের দোকানের ঠিকানা পাওয়া যায়। এরপর বংশাল থানা পুলিশ আমাদের শ্রীপুরে যেতে বলে। সাজু মিয়ার অভিযোগ, শ্রীপুর থানায় গিয়ে তারা সহযোগিতা পাননি। শ্রীপুর থানার ওসি, তখনকার নারী ডিউটি অফিসার ও অন্য কর্মচারীরা তাদের সঙ্গে অসদাচরণ করেন। বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত থানায় বসিয়ে রাখা হয়। পরে পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, তথ্য বংশাল থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত এসআইকে দেওয়া হবে।
বংশাল থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই রাশেদুল ইসলাম বলেন, একটি অভিযোগ পেয়েছি। পরিবারের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা নেওয়ার জন্য ব্যবহৃত সিমটি ঝর্ণা রানী নামে এক নারীর ভোটার আইডি দিয়ে নিবন্ধিত। বিকাশ অ্যাকাউন্টটি মোছাম্মৎ রাবেয়া নামে ব্যবহার করা হয়েছে। গাজীপুরের শ্রীপুরের ওই এলাকায় পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তবে ওই দোকান বা ওইখানের সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া যায়নি। বিকাশ নম্বরটি বর্তমানে বন্ধ। তবে আমরা শিশুটিকে উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছি।
এ বিষয়ে শ্রীপুর থানার ওসি মো. শাহিনুর আলম বলেন, আমি বংশাল থানার ওসির সঙ্গে সমন্বয় করে ওই বিকাশের দোকানে টিম পাঠিয়েছি। পরিবারের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ওই নারী কর্মকর্তা হয়তো বুঝতে পারেননি। আমি জানার পর ব্যবস্থা নিয়েছি।
