মাদক রিকভারি দিবসের আলোচনা
মাদকাসক্তদের ৬৯ শতাংশ চান চিকিৎসা, পান ১৩ ভাগ
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মাদক থেকে টেকসই রিকভারির (স্বাভাবিক জীবনে প্রত্যাবর্তন) জন্য চিকিৎসার পাশাপাশি পরিবারের সমর্থন, পূর্ণ পরিচর্যা, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এমনটাই বলেছেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ও ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি অব সাবসটেন্স ইউজ প্রফেশনালস (আইসাপ) বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের চেয়ারম্যান প্রফেসর ডা. এমএ মোহিত কামাল। তিনি বলেন, চিকিৎসা শেষে পুরোনো পরিবেশ, বেকারত্ব, পারিবারিক দ্বন্দ্ব ও সামাজিক কলঙ্কে ফিরে গেলে পুনরায় মাদক ব্যবহারের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাদের ‘অসুস্থ’ হিসাবে দেখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘একজন মানুষের বর্তমান সমস্যাই তার সম্পূর্ণ পরিচয় নয়। কলঙ্ক নয়, সহমর্মিতাই রিকভারির পথকে সহজ করে।’ আন্তর্জাতিক রিকোভারি দিবস উপলক্ষ্যে বুধবার ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন ও আইসাপ বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের আয়োজনে আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি। শ্যামলীতে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন স্বাস্থ্য পুষ্টি সেক্টরের সভাকক্ষে এ সভা হয়। প্রতিবছর সেপ্টেম্বর বিশ্বব্যাপী ‘রিকভারি মাস’ হিসাবে পালিত হয়। এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘সেরে ওঠা বাস্তব : জীবনের প্রতিটি দিক পুনরুদ্ধার।’
আইসাপ বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল মাসুদ মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনা করেন। সিনিয়র সাইকোলজিস্ট রাখি গাঙ্গুলীর সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন দৈনিক ইত্তেফাকের সিনিয়র রিপোর্টার জামিউল আহ্সান শিপু, বেসরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র ‘আশ্রয়’-এর পরিচালক মো. শামীম খান, সেফ হোম মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের পরিচালক লুৎফর রহমান মানিক এবং ‘উৎস’ মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের পরিচালক শাহাবুদ্দিন চৌধুরী সুমন।
ইকবাল মাসুদ বলেন, গবেষণা দেখা গেছে, বাংলাদেশে প্রায় ৮২ লাখ মানুষ কোনো-না-কোনো মাদক ব্যবহার করছেন, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ। এর মধ্যে ৩৩ শতাংশ ব্যবহারকারী ৮ থেকে ১৭ বছর এবং ৫৯ শতাংশ ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সে প্রথম মাদক নেওয়া শুরু করেন। প্রায় ৯০ শতাংশ ব্যবহারকারী জানিয়েছেন, তাদের কাছে মাদক সহজলভ্য। প্রায় ৬৯ শতাংশ মানুষ চিকিৎসা বা পুনর্বাসন চান। অথচ মাত্র ১৩ শতাংশ চিকিৎসা বা পুনর্বাসনের সুযোগ পেয়েছেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই ব্যবধান মাদক চিকিৎসা ও পুনর্বাসন সেবার ঘাটতি স্পষ্ট করে।
