Logo
Logo
×

Advertisement

দ্বিতীয় সংস্করণ

উচ্ছেদে জব্দ পণ্য নিলামে বিক্রিতে হকারদের ক্ষোভ

মিরপুরে দেড়শ স্পটে চাঁদা তোলে ৭২ জন * দোকানভেদে দিনে চাঁদা ১০০-৩০০

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

রাজধানীর মিরপুরে উচ্ছেদ অভিযানের পর জব্দ করা পণ্য নিলামে বিক্রির ঘটনায় হকারদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তাদের অভিযোগ, উচ্ছেদ অভিযানের পর ট্রাকে জব্দ করা পণ্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। পরে বিকালে অভিযান এলাকায় সেসব পণ্য নিলামে বিক্রি করা হলে হকরারই কিনে নিচ্ছেন। কয়েকজন হকার অভিযোগ করেন, প্রতিটি দোকান নির্দিষ্ট পরিমাণের দৈনিক চাঁদা দিয়ে ব্যবসা করছে। সেখানে প্রতিদিন অভিযান চালিয়ে পণ্য জব্দ করে নিয়ে যাওয়ায় হকাররা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এমনকি নিজেদের পণ্য নিজেদেরই কিনতে হচ্ছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীতে চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত ১ হাজার ২৮০ জনের নাম উঠে এসেছে। একইভাবে তাদের আশ্রয় ও প্রশ্রয়দাতা হিসাবে এসেছে ৩১৪ জনের নাম। পুলিশের তালিকায় মিরপুর অঞ্চলের সাতটি থানা এলাকায় চাঁদাবাজির দেড়শর বেশি স্পট রয়েছে। এসব স্পট থেকে চাঁদা তোলে ৭২ জন। আর তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতা রয়েছে ২৫ জন।

বুধবার সংঘর্ষ চলাকালে সরেজমিন দেখা গেছে, মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর থেকে ১৪ নম্বরের দিকে যেতে রাস্তার ওপর ও ফুটপাতে শত শত দোকান বসানো হয়েছে।

মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর এলাকার একাধিক হকারের সঙ্গে কথা হলে তারা যুগান্তরকে জানান, প্রতিটি দোকানে অবস্থান ও আকারভেদে দৈনিক ১০০ থেকে ৩০০ টাকা চাঁদা দিতে হয়। এছাড়া প্রতিটি বৈদ্যুতিক বাতির জন্য দৈনিক ৫০ টাকা দিতে হয়। সাধারণত বিকাল ও সন্ধ্যার দিকে নির্দিষ্ট একজন ব্যক্তি এসে টাকা নিয়ে যায়। তাদের ভাষায় টাকা নেওয়া ব্যক্তিকে ‘লাইনম্যান’ বলা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মার্চে ডিএমপি ও পুলিশের অন্যান্য শাখার সমন্বয়ে রাজধানীতে চাঁদাবাজির স্পট ও চাঁদাবাজদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। তালিকায় চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত হিসাবে ১ হাজার ২৮০ জনের নাম এবং আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতা হিসাবে ৩১৪ জনের নামে উঠে আসে। মিরপুর অঞ্চলের সাতটি থানা এলাকায় চাঁদাবাজির দেড়শর বেশি স্পট রয়েছে। এসব স্পট থেকে চাঁদা তোলে ৭২ জন। আর তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয় ২৫ জন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চাঁদাবাজিতে জড়িতদের বড় অংশই বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলের থানা এবং ওয়ার্ড পর্যায়ের সাবেক ও বর্তমান নেতাকর্মী। আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতা ২৫ জনের মধ্যে অন্তত ২০ জন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। পুলিশের তথ্যানুযায়ী, ফুটপাতের দোকান থেকে টাকা তোলেন পুলিশের তালিকার সন্ত্রাসী আব্বাস আলী, তার সহযোগী তাজ ও সোহেল ওরফে ভাগনে সোহেল এবং মিরপুর থানা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রাকিবুল হাসান সোহেল, স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মী জুয়েল ও বাবুল।

তালিকায় আরও দেখা যায়, মিরপুর ১০ থেকে ১৩ নম্বর সেকশন পর্যন্ত সড়কের ফুটপাতে প্রায় ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ দোকান রয়েছে। দৈনিক গড় চাঁদা দোকানপ্রতি ২০০ টাকা ধরে হিসাব করে দেখা যায়, মাসে অন্তত ৯০ লাখ টাকা চাঁদা ওঠে।

হোপ স্কুল গলি এলাকায় জুতার দোকান করা এক নারী বলেন, একদিকে দৈনিক চাঁদাও দিতে হচ্ছে, আবার সিটি করপোরেশন এসে অভিযান চালিয়ে দোকান ভেঙে পণ্যসামগ্রী নিয়ে যাচ্ছে।

মিরপুর গার্লস আইডিয়াল স্কুলের সামনে এক হকার বলেন, আগে অভিযান চালালেও পণ্যসামগ্রী নিয়ে যেত না। এখন অভিযানের পর ট্রাকে সব নিয়ে যাচ্ছে। পরে আবার বিকালে সেগুলো নিলাম করে বিক্রি করছে।

এ বিষয়ে উত্তর সিটি করপোরেশনের অভিযানসংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেন, অভিযানে গেলে পুলিশসহ অভিযানকারী দলের একটি খরচ আছে। মূলত জব্দ করা পণ্য বিক্রি করে সেটা দিয়ে উচ্ছেদ দল ও যানবাহনের খরচ মেটানো হয়।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

উচ্ছেদে জব্দ পণ্য নিলামে বিক্রিতে হকারদের ক্ষোভ

উচ্ছেদে জব্দ পণ্য নিলামে বিক্রিতে হকারদের ক্ষোভ

ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের বিকল্প স্থান নির্ধারণ করে ব্যবসা করতে দিতে হবে: জামায়াত আমির

ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের বিকল্প স্থান নির্ধারণ করে ব্যবসা করতে দিতে হবে: জামায়াত আমির

মাদক রিকভারি দিবসের আলোচনা মাদকাসক্তদের ৬৯ শতাংশ চান চিকিৎসা, পান ১৩ ভাগ

মাদকাসক্তদের ৬৯ শতাংশ চান চিকিৎসা, পান ১৩ ভাগ

কৃষি ও স্বাস্থ্যসেবায় এআই কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে: জহির উদ্দিন স্বপন

কৃষি ও স্বাস্থ্যসেবায় এআই কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে: জহির উদ্দিন স্বপন

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম