বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক
পানি ব্যবস্থাপনায় বাড়তি তহবিল চায় বিজিএমইএ
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
তৈরি পোশাক খাতের টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশবান্ধব রূপান্তর ত্বরান্বিত করতে বিশ্বব্যাংকের চলমান অর্থায়ন বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ। সংস্থাটি বলেছে, টেকসই পানি ব্যবস্থাপনায় কারখানাগুলোর আগ্রহ ও চাহিদার তুলনায় বর্তমান অর্থায়ন ও প্রকল্পের পরিধি অপ্রতুল।
বুধবার উত্তরায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের টেকসই উন্নয়নবিষয়ক আঞ্চলিক পরিচালক মারা কে. ওয়ারউইকের নেতৃত্বাধীন উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে এ আহ্বান জানানো হয়। বৈঠকে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান ও পরিচালক ড. মো. হাসিব উদ্দিন অংশ নেন।
বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিদলে ছিলেন লিড ওয়াটার স্পেশালিস্ট ডেভিড মেলকম লর্ড, সিনিয়র ওয়াটার সাপ্লাই অ্যান্ড স্যানিটেশন স্পেশালিস্ট রোকেয়া আহমেদ, ওয়াটার স্পেশালিস্ট মো. মাহাদী হাসান এবং এনভায়রনমেন্টাল স্পেশালিস্ট বুশরা নিশাত। বৈঠকে বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় বাস্তবায়নাধীন ‘ঢাকা ওয়াটার সিকিউরিটি অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স প্রোগ্রাম’ (ডি-ওয়াটার) এবং এর আওতায় ৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের ভিজিএফ (ভায়াবিলিটি গ্যাপ ফান্ডিং) পাইলট প্রকল্প নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ প্রকল্পের আওতায় বিজিএমইএর পক্ষ থেকে ৩১টি কারখানার একটি প্রাথমিক তালিকা দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্য থেকে ৮টি কারখানা নিয়ে কাজ শুরু করবে বিশ্বব্যাংক।
বিজিএমইএ বলেছে, টেকসই প্রযুক্তির প্রতি দেশের পোশাক কারখানাগুলোর বিপুল আগ্রহ ও চাহিদার তুলনায় ৫ মিলিয়ন ডলারের তহবিল এবং নির্বাচিত কারখানার সংখ্যা অত্যন্ত কম। এ কারণে প্রকল্পের তহবিল ও সামগ্রিক পরিধি আরও বাড়ানোর জন্য বিশ্বব্যাংকের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। বৈঠকে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, পানি ব্যবস্থাপনা এখন শুধু পরিবেশগত বিষয় নয়; এটি বাংলাদেশের পোশাক খাতের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতার সঙ্গেও সরাসরি যুক্ত। আন্তর্জাতিক ক্রেতারা, বিশেষ করে ইউরোপীয় ব্র্যান্ডগুলো পোশাক উৎপাদনের বিভিন্ন পর্যায়ে পানির ব্যবহার কমানো, বর্জ্যপানি পরিশোধন এবং পানি পুনর্ব্যবহারের তথ্যকে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসাবে বিবেচনা করছে।
তিনি বলেন, ঢাকার নদী ও ভূগর্ভস্থ পানির স্তর রক্ষার পাশাপাশি রপ্তানি বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে পানি সাশ্রয়ী আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের বিকল্প নেই।
বৈঠকে পোশাক কারখানাগুলোর জন্য টেকসই পানি ব্যবস্থাপনার প্রধান বাধা হিসাবে উচ্চ বিনিয়োগ ব্যয়ের বিষয়টি তুলে ধরা হয়। বিজিএমইএ নেতারা বলেন, এ ধরনের প্রকল্পে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ প্রয়োজন হওয়ায় উদ্যোক্তাদের জন্য প্রকল্পের আর্থিক কার্যকারিতা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে। এর সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের যথাযথ মূল্য না পাওয়ার বিষয়টিও নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। বৈঠকে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়। অনেক কারখানার নিজস্ব বর্জ্য শোধনাগার বা ইটিপি স্থাপনের জায়গা থাকলেও আশপাশে উপযুক্ত জলাশয় বা ড্রেনেজ ব্যবস্থা নেই। আবার অনেক ক্ষুদ্র ও মাঝারি কারখানার এককভাবে বড় শোধনাগার স্থাপনের আর্থিক সক্ষমতা নেই। এ ধরনের পরিস্থিতিতে স্থায়ী পাইপলাইন স্থাপনের পরিবর্তে লরি বা ট্যাংকারের মাধ্যমে শিল্পবর্জ্য অপসারণ এবং ক্লাস্টারভিত্তিক বর্জ্য শোধনাগার ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে এ ধরনের কার্যক্রম শুধু ঢাকায় সীমাবদ্ধ না রেখে দেশের অন্যান্য শিল্পাঞ্চলেও দ্রুত সম্প্রসারণের আহ্বান জানানো হয়।
