বিশিষ্টজনদের শঙ্কা
সাইবার সুরক্ষা আইনের সংশোধনী বাকস্বাধীনতা সংকুচিত করবে
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সাইবার সুরক্ষা আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনী নতুন করে ডিজিটাল ফ্যাসিবাদের পথ সুগম ও বাকস্বাধীনতা সংকুচিত করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন দেশের বিশিষ্টজনরা। তাদের মতে, প্রস্তাবিত আইনের অস্পষ্ট বিধান ও এর অপব্যবহারের সুযোগ নাগরিক অধিকার এবং বাকস্বাধীনতাকে গুরুতরভাবে সংকুচিত করতে পারে।
শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘সাইবার সুরক্ষা আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনী-বাকস্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকারের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় বক্তারা এ আশঙ্কার কথা তুলে ধরেন। এনসিপির সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটি এই সভার আয়োজন করে।
সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন শিক্ষাবিদ এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ও গুমসংক্রান্ত কমিশন অব ইনকোয়ারির সাবেক সদস্য ড. নাবিলা ইদ্রিস। এতে আরও বক্তব্য দেন এনসিপির সদস্যসচিব ও রংপুর-৪ আসনের সংসদ-সদস্য আখতার হোসেন, আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান ভূঁইয়া মঞ্জু, এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য সারোয়ার তুষার, ডেইলি ওয়াদার ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ফয়সাল মাহমুদ, লেখক, বিশ্লেষক ও নাটশেল টুডের নির্বাহী সম্পাদক অপূর্ব জাহাঙ্গীর এবং এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব ও আইন সম্পাদক অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম মুসা। সভা সঞ্চালনা করেন এনসিপির কেন্দ্রীয় সংগঠক অ্যাডভোকেট আরমান হোসাইন।
এনসিপির সদস্যসচিব ও সংসদ-সদস্য আখতার হোসেন বলেন, বিগত সরকারের আমলে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপপ্রয়োগের মাধ্যমে অসংখ্য মানুষকে গ্রেফতার ও হয়রানি করা হয়েছে। সাংবাদিক, লেখক ও সাধারণ মানুষও সেই আইনের শিকার হয়েছেন। লেখক মুশতাক আহমেদের কারাগারে মৃত্যুর ঘটনা সেই আইনের ভয়াবহতা প্রমাণ করে। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে অন্তর্বর্তী সরকার সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ প্রণয়ন করেছিল, যাতে অযাচিত গ্রেফতার ও হয়রানির সুযোগ সীমিত থাকে। কিন্তু বর্তমান সরকার প্রস্তাবিত সংশোধনীর মাধ্যমে অপরাধের সংজ্ঞা অস্পষ্ট ও ব্যাপক করার উদ্যোগ নিয়েছে, যা বাকস্বাধীনতা হরণের আশঙ্কা তৈরি করছে।
মূল প্রবন্ধে ড. নাবিলা ইদ্রিস বলেন, সাইবার সুরক্ষা আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনীর পক্ষে সরকারের দেওয়া যুক্তিগুলোর যৌক্তিকতা যাচাই করা জরুরি। অনলাইনে উসকানি, নারী ও শিশুর প্রতি হয়রানি বা অপতথ্য প্রতিরোধের মতো বিষয়গুলো বিদ্যমান আইনেই অপরাধ হিসাবে বিবেচিত। ফলে নতুন সংশোধনী কেন প্রয়োজন, তার স্পষ্ট ব্যাখ্যা থাকা দরকার।
এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান ভূঁইয়া মঞ্জু বলেন, প্রস্তাবিত সংশোধনীতে ২৬(ক) ধারার মতো বিষয়গুলো অস্পষ্ট রাখা হয়েছে, যা অপপ্রয়োগের ব্যাপক সুযোগ তৈরি করবে। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, ভুল তথ্যের ভিত্তিতে কেউ কোনো মৃত্যুর খবরে আন্তরিকভাবে দোয়া করলেও তিনি শাস্তির মুখে পড়তে পারেন।
এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন অধ্যাদেশের আদলে বর্তমান সরকার সাইবার আইনে এমন সংশোধনী আনতে চাইছে যা ডিজিটাল কর্তৃত্ববাদ কায়েম করতে পারে। মানহানি বা গুজবের সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা না থাকায় সাধারণ মানুষের মতপ্রকাশ ব্যাহত হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
লেখক ও বিশ্লেষক অপূর্ব জাহাঙ্গীর বলেন, আইনটি প্রণয়নের ক্ষেত্রে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গিতে এক ধরনের অহমিকার প্রতিফলন ঘটছে। কোনটি অপতথ্য বা বিভ্রান্তিকর তথ্য, তা নির্ধারণের ক্ষমতা একচ্ছত্রভাবে সরকারের হাতে থাকা উচিত নয়। তিনি সংশোধনীর ঝুঁকিপূর্ণ দিকগুলো পুনর্বিবেচনা করার আহ্বান জানান।
