হঠাৎ সংসদীয় দলের সভা ডেকেছেন প্রধানমন্ত্রী
দলীয় শৃঙ্খলা ও সংবিধান সংশোধন নিয়ে আসতে পারে নির্দেশনা
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
হঠাৎ সংসদীয় দলের সভা ডেকেছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান। আজ রোববার সন্ধ্যা ৬টায় জাতীয় সংসদ ভবনে সরকারি দলের সভাকক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। নিয়মিত সংসদীয় কার্যক্রমের বাইরে এই সভা ডাকা নিয়ে বিএনপির ভেতরে নানা আলোচনা চলছে। দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দখল, চাঁদাবাজি ও অনিয়মের অভিযোগ, সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সংবিধান সংশোধন এবং আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন বৈঠকের আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে। পাশাপাশি দলের সাংগঠনিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা ও সংসদ-সদস্যদের করণীয় নিয়েও দিকনির্দেশনা আসতে পারে।
বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল নেতার সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। তাদের ধারণা, গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয়ে সংসদ-সদস্যদের স্পষ্ট বার্তা দিতেই নিয়মিত বৈঠকের বাইরে এই সভা ডাকা হয়েছে।
সাধারণত সংসদের অধিবেশন শুরুর দু-এক দিন আগে অথবা অধিবেশন চলাকালে সংসদীয় দলের সভা হয়। তবে এবার পরবর্তী অধিবেশনের তারিখ নির্ধারণের আগেই বৈঠক ডাকা হলো। আগামী নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে সংসদের অধিবেশন শুরু হতে পারে বলে আলোচনা রয়েছে।ঢাকার একজন সংসদ-সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, প্রধানমন্ত্রী সবাইকে ডেকেছেন। নিশ্চয়ই গুরুত্বপূর্ণ ও জরুরি বিষয়ে নির্দেশনা দেবেন।
এদিকে ক্ষমতায় আসার পর দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দখল, চাঁদাবাজি, অনিয়ম ও সহিংসতার অভিযোগ বিএনপির জন্য রাজনৈতিক চাপ তৈরি করেছে। এসব ঘটনায় দলীয় ভাবমূর্তি রক্ষা এবং সাংগঠনিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এখন দলের নেতৃত্বের অন্যতম চ্যালেঞ্জ। এর সাম্প্রতিক উদাহরণ রাজধানীর মিরপুরে বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র রাড্ডায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা। এ ঘটনায় অভিযোগের মুখে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ-সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি পদত্যাগ করেছেন। তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তাধীন। ঘটনার পর ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপিসহ তিনটি কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। বিভিন্ন পর্যায়ের ১৪ নেতাকর্মীকেও বহিষ্কার করা হয়েছে।
এসব সাংগঠনিক পদক্ষেপের মাধ্যমে দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে অনিয়ম ও সহিংসতায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের বার্তা দিয়েছে বিএনপি। সংসদীয় দলের বৈঠকে এ বিষয়ে সংসদ-সদস্যদের সতর্ক করা এবং দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আরও কঠোর নির্দেশনা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে সংসদ-সদস্য ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রত্যাশা কী, দলীয় পরিচয়ের অপব্যবহার ঠেকাতে কী ধরনের পদক্ষেপ নিতে হবে এবং সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষায় জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা কেমন হওয়া উচিত, সেসব বিষয় আলোচনায় আসতে পারে।বিএনপির আরেকজন সংসদ-সদস্য বলেন, সংবিধান সংশোধন ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের বিষয়টিও বৈঠকের গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য হতে পারে। সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাব এবং সনদ বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি কাজ করছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও কমিটির সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমদ গত ২০ সেপ্টেম্বর জানিয়েছিলেন, ডিসেম্বরের মধ্যে আলোচনা শেষ করে সংসদে প্রতিবেদন দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক দল, সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও বিভিন্ন অংশীজনের মতামত নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
