৩ কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি
ফতুল্লায় ব্যবসায়ীকে ৬ ঘণ্টা আটকে নির্যাতন
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন, নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় এক ব্যবসায়ীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তুলে নিয়ে একটি পোশাক কারখানার অফিসে ছয় ঘণ্টা আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তার দুবাইপ্রবাসী ভগ্নিপতির কাছে সাড়ে তিন কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
ভুক্তভোগী মো. সাগর হোসেনের অভিযোগ, রোববার বিকালে ইসদাইরের অক্টো অফিস এলাকার নিঝুম সোসাইটির গলি থেকে তাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। সাগর ফতুল্লার দেওভোগ নূর মসজিদ এলাকার শরিফ হোসেনের ছেলে। তিনি পোশাক ব্যবসায়ী।
সাগর জানান, রোববার বিকাল পৌনে ৪টায় বন্ধুর সঙ্গে ওই গলি দিয়ে যাওয়ার সময় ধারালো অস্ত্রের মুখে তাকে জিম্মি করা হয়। তার বন্ধুকেও অস্ত্রের মুখে হুমকি দেওয়া হয়। পরে তাকে বিসিকের শাসনগাঁও এলাকার ‘অ্যাম্পায়ার কটন’ নামে একটি অফিসে নিয়ে আটকে রাখা হয়। সেখানে লোহার বস্তু দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়, নির্যাতনের একপর্যায়ে সাগরের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে ওই ফোন থেকে তার দুবাইপ্রবাসী ভগ্নিপতি হিরু সিকদারকে হোয়াটসঅ্যাপে কল করা হয়। এ সময় মুক্তিপণ হিসাবে সাড়ে ৩ কোটি টাকা দাবি করা হয়।
সাগর বলেন, তাকে উদ্ধারে তার বন্ধু থানা পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এ তৎপরতার খবর পেয়ে অভিযুক্তরা রাত পৌনে ১০টার দিকে তাকে ছেড়ে দেয়। তবে টাকা না দিলে এবং পুলিশকে জানালে হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকি দেওয়া হয়।
রাতে নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে ফতুল্লা থানায় লিখিত অভিযোগ দেন সাগর। অভিযোগে বিসিকের শাসনগাঁও এলাকার অরুণ হাওলাদারের ছেলে মো. রাইসান রোমান, মো. আতিক, মাসদাইরের আব্দুস সালামসহ অজ্ঞাতনামা আরও পাঁচ-ছয়জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে রাইসান রোমান বলেন, তার অফিসে গিয়ে সামনাসামনি কথা বলতে। ফতুল্লা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন বলেন, তারা লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। বিষয়টি ওসি দেখছেন। তার নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
