বেতন পরিশোধ ও বৃদ্ধির দাবি
উত্তরায় শ্রমিক অবরোধে পুলিশের ধাওয়া, শ্রীপুরে সাউন্ড গ্রেনেড
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন ও উত্তরা পশ্চিম প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
টানা চতুর্থ দিন বৃহস্পতিবার রাজধানীর উত্তরায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন পোশাক শ্রমিকরা। তাদের দাবি, মাসিক বেতন ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করতে হবে। একই সঙ্গে বকেয়া বেতন পরিশোধসহ অন্যান্য সুবিধা বাড়ানোর দাবিও জানিয়েছেন তারা। এ সময় পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে পালটাপালটি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। অন্যদিকে গাজীপুরের শ্রীপুরে পোশাক শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করলে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়ে।
জানা যায়, উত্তরায় বেলা ১১টা থেকে আজমপুর ও জসীমউদ্দীন এলাকায় অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন কয়েক হাজার শ্রমিক। এতে সড়কের উভয় পাশে অ্যাম্বুলেন্স, বাসসহ সব যানবাহন আটকে পড়ে। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েন হাজারো যাত্রী। সাড়ে ১২টার দিকে পুলিশ আন্দোলনকারীদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে পালটাপালটি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে তাদের সরিয়ে দিতে সক্ষম হয় পুলিশ।
জানা যায়, দক্ষিণখান ও উত্তরখানের বিভিন্ন পোশাক কারখানায় কর্মরত শ্রমিকরা বেতন বাড়ানোর দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবারও অবরোধ করেন তারা। আন্দোলনকারীদের অনেকের মাথায় লাল কাপড় বাঁধা এবং কারও কারও হাতে লাঠিসোঁটাও দেখা গেছে। তাদের দাবি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, বাসা ভাড়া, চিকিৎসা ব্যয় ও সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ বেড়ে যাওয়ায় সংসার চালানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তাই ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সর্বনিম্ন ৩০ হাজার টাকা বেতন নির্ধারণ করতে হবে। এই দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানিয়েছেন তারা।
এদিকে শ্রমিকদের অবরোধের কারণে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের উভয় পাশে যানবাহনের দীর্ঘ জট তৈরি হয়। আজমপুর, জসীমউদ্দীন ও আশপাশের বিভিন্ন সংযোগ সড়কেও যানজট ছড়িয়ে পড়ে। এতে চরম বিপাকে পড়েন অফিসগামী মানুষ, রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সের যাত্রীসহ সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে গণপরিবহণের যাত্রীরা দীর্ঘ সময় যানবাহনে আটকা পড়ে দুর্ভোগের শিকার হন। অনেকে নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে না পেরে বাস থেকে নেমে হেঁটেই রওয়ানা দেন। নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীদের দুর্ভোগ ছিল আরও বেশি।
এমন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দুপুর ১২টার দিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা জসীমউদ্দীন এলাকার বিক্ষোভরতদের সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালান। একপর্যায়ে শ্রমিকদের সঙ্গে তাদের পালটাপালটি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে ওই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া আখতার হোসেন অভিযোগ করে বলেন, উচ্চমূল্যের বাজারে বর্তমান বেতনে জীবনযাপন করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। আমরা বাধ্য হয়ে রাজপথে নেমেছি। পুলিশের উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) রেজাউল করিম জানান, শ্রমিকদের একটি দল পুলিশের দিকে ইটপাটকেল নিক্ষেপের চেষ্টা করে। এরপর পুলিশ ধাওয়া দিয়ে তাদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেয়।
শ্রীপুরে মহাসড়ক অবরোধ : শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি জানান, বৃহস্পতিবার সকালে সেপ্টেম্বরের বকেয়া বেতনের দাবিতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। উপজেলার মুলাইদ গ্রামের এমসি বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বিক্ষোভকারীরা এমসি বাজার ইউনিয়ন মোড় এলাকার সি স্টেজ (বিডি) লিমিটেড কারখানার শ্রমিক।
সকাল ৯টার দিকে শিল্প পুলিশের সদস্যরা শ্রমিকদের সড়ক ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করেন। শ্রমিকরা অবরোধ চালিয়ে গেলে পুলিশ কয়েকটি সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়ে। সড়ক ছেড়ে ছত্রভঙ্গ হয়ে শ্রমিকরা কারখানার সামনে জড়ো হতে শুরু করে। কারখানার শ্রমিক সামিরা আক্তার বলেন, নির্ধারিত সময়ে বেতন না পাওয়ায় আমরা ক্ষুব্ধ।
