কুরিয়ারের গুদামে ভাঙচুর-লুট
ভাড়ার টাকা শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমনকে দেওয়ার নির্দেশ
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাজধানীর হাজারীবাগে এজেআর পার্সেল অ্যান্ড কুরিয়ার সার্ভিসের প্রধান গুদাম ও কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ইমন ওরফে ক্যাপ্টেন ইমনের গ্রুপের সদস্য পরিচয়ে একদল দুর্বৃত্ত এ হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। হামলাকারীরা জমির ভাড়া ইমনের গ্রুপকে দিতে হবে বলে হুমকি দিয়েছে। অন্যথায় সেখানে ব্যবসা করতে দেওয়া হবে না বলেও জানিয়েছে তারা।
মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় রাজধানীর বারইখালী এলাকায় শিকদার মেডিকেল কলেজসংলগ্ন ওই কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। হামলাকারীরা অফিসের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে এবং ল্যাপটপ, সিসিটিভি ক্যামেরা ও ডিভিআরসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যায়। ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় হাজারীবাগ থানা পুলিশ।
এজেআরের নিরাপত্তা ইনচার্জ মো. রুহুল আমিন জানান, মুখে মাস্ক ও মাথায় হেলমেট পরা একদল দুর্বৃত্ত হঠাৎ গুদামে ঢুকে ভাঙচুর শুরু করে। প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের ভাষ্য, হামলার আগে দুর্বৃত্তরা আশপাশের বাড়ির সিসিটিভি ক্যামেরাও বন্ধ করে দেয়। পরে দেওয়াল টপকে কার্যালয়ে ঢুকে নিরাপত্তাকর্মীদের হুমকি দেয় তারা।
প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা জানান, প্রায় দুই বছর আগে শিকদার গ্রুপের কাছ থেকে চুক্তির মাধ্যমে জমিটি ভাড়া নেয় এজেআর। সেখানে প্রধান গুদাম ও কার্যালয় নির্মাণ করা হয়। চুক্তি অনুযায়ী এতদিন শিকদার গ্রুপকে ভাড়া দিয়ে আসছিল প্রতিষ্ঠানটি।
কর্মকর্তাদের দাবি, হামলাকারীরা নিরাপত্তাকর্মীদের জানায়, শিকদার গ্রুপের মালিকের সঙ্গে তাদের কথা হয়েছে। এখন থেকে জমির ভাড়া ইমনের গ্রুপকে দিতে হবে। ভাড়া না দিলে ব্যবসা করতে দেওয়া হবে না। তবে শিকদার গ্রুপের সঙ্গে এমন কোনো সমঝোতা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। হাজারীবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোশাররফ হোসেন যুগান্তরকে বলেন, প্রাথমিকভাবে কর্মচারীদের কাছ থেকে জানা গেছে, ইমনের গ্রুপের ১০ থেকে ১৫ জন সদস্য হামলায় অংশ নেয়। হামলাকারীরা যাতে শনাক্ত না হয়, সেজন্য আগে থেকেই আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরা অকার্যকর করেছিল বলে ধারণা পুলিশের।
ওসি জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করেছে। জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। এ গুদাম থেকে প্রতিদিন প্রায় ৪০০ গাড়িতে সারা দেশে পণ্য আনা-নেওয়া করা হয়। হামলার পর প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
