সুনামগঞ্জে এমপি নুরুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ
৯ কোটি টাকার কাজে এক কোটি চাঁদা দাবি
Advertisement
সিলেট ব্যুরো
প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সুনামগঞ্জে প্রায় ৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকার কাজে এক কোটি টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ-সদস্য নুরুল ইসলাম নুরুল এবং তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। এছাড়া চাঁদা দাবি, প্রাণনাশের হুমকি, পুলিশি হয়রানি, পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং সরকারি উন্নয়নকাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগও এসেছে। প্রতিকার চেয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের কাছে লিখিত আবেদন দিয়েছেন ইসলাম ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী ও ঠিকাদার মো. শফিকুল ইসলাম। আবেদনটি যুগান্তরের হাতে আসে গত মঙ্গলবার।
আবেদনকারী মো. শফিকুল ইসলাম সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট বাজার এলাকার কুনাহাট গ্রামের মো. তাজুল ইসলামের ছেলে। গত সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে করা আবেদনে তিনি নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা দাবি করেছেন।
এদিকে মঙ্গলবার বিকালে একই ঠিকাদারের ৮৭ কোটি টাকার আরও একটি কাজের অনিয়মের অভিযোগ তুলে দলবল নিয়ে বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন এমপি নুরুল। এ সময় ঠিকাদারের লোকজনকে মারধরও করেন। মঙ্গলবার রাতে আহতরা সুনামগঞ্জ থেকে পালিয়ে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন।
আবেদনে শফিকুল ইসলাম উল্লেখ করেছেন, তিনি একজন সাধারণ ঠিকাদার ও ব্যবসায়ী এবং নিরীহ, অরাজনৈতিক ব্যক্তি হিসাবে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। কিন্তু এমপি ও তার ক্যাডার বাহিনীর সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে তার কাছে এক কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে আসছেন। টাকা না দেওয়ায় নানাভাবে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। এমনকি চাঁদার অর্থ পরিশোধ না করলে তাকে গুম করে হত্যা করার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
আবেদনে ওই ব্যবসায়ী উল্লেখ করেন, ‘গত ১৭ সেপ্টেম্বর হাজীপাড়া এলাকায় ছাত্রলীগের মিছিলের ঘটনায় সুনামগঞ্জ সদর থানায় মামলা হয়। আমাকে সেই মামলার ৫১ নম্বর আসামি করা হয়েছে। অথচ আমি কোনোভাবেই মিছিলে অংশ নিইনি। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় সংসদ-সদস্যের নির্দেশে সুনামগঞ্জ জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল হাসান রাজু মামলার আসামি করতে পুলিশকে চাপ দেন।’
সরকারি উন্নয়নকাজে বাধা ও চাঁদা দাবির বিষয়ে আবেদনে বলা হয়, গত ২০ অক্টোবর সকাল ১১টায় এবং একই দিন বিকাল সাড়ে ৫টায় বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার মুক্তিরখলা-১ ব্রিজের নির্মাণকাজে বাধা দেয় এমপির লোকজন এবং কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়। সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করে বন বিভাগের অনুমতি নিয়ে গাছ কাটতে গেলে এমপির ক্যাডার বাহিনী চাঁদা দাবি করে কাজে বাধা সৃষ্টি করে। তারা নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেয়।
ওই ব্যবসায়ীর অভিযোগ, ‘২০ অক্টোবর রাতে এমপির নিজস্ব ঠিকাদার ও সুনামগঞ্জ পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদুল হাসান নাঈম তাকে ফোন করে দ্রুত এমপির সঙ্গে দেখা করে বিষয়টি সমাধান করার জন্য চাপ ও হুমকি দেন। এর আগে ৫ অক্টোবর এমপির ঘনিষ্ঠ হিসাবে পরিচিত সুনামগঞ্জ জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. কামরুল হাসান রাজুও ফোন করে হুমকি দিয়েছিলেন।’
ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলামের আশঙ্কা, তিনি বা তার পরিবারের সদস্যরা যে কোনো সময় হামলা বা প্রাণনাশের শিকার হতে পারেন। এমনকি তাকে হত্যা করে লাশ গুম করার ঘটনাও ঘটতে পারে। তিনি সুবিচার দাবি করেন। পাশাপাশি ঘটনা তদন্ত করে সংসদ-সদস্য, সহযোগী এবং জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। আবেদনের সঙ্গে বাসায় পুলিশের অভিযানের সিসিটিভি ফুটেজ এবং ফোনকলের অডিও রেকর্ডিং যুক্ত করেন তিনি। এ বিষয়ে ঠিকাদার শফিকুল ইসলাম বলেন, চাঁদা না দেওয়ায় হুমকির মুখে পালিয়ে বেড়াতে হচ্ছে।
এসব অভিযোগের ব্যাপারে সংসদ-সদস্য নুরুল ইসলাম বলেন, তিনি কারও কাছে চাঁদা দাবি করেননি। তার দলের কেউ যদি কারও কাছে চাঁদা দাবি করে থাকেন সেটাও তদন্ত হোক। তিনি চান তার নির্বাচনি এলাকায় সব উন্নয়নকাজ যেন যথাযথভাবে হয়। কোনো অনিয়ম তিনি করতে দেবেন না। এতে যদি কেউ তার বিরুদ্ধে কুৎসা রটায়, তা সরকারের বিভিন্ন সংস্থা আছে, তারা তদন্ত করে দেখবে।
