সবাই চান বাড়তি কমিশন
গণশুনানিতে এলপিজির কৃত্রিম সংকটের অভিযোগ
Advertisement
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) বাজারে বেশ কিছুদিন ধরে অস্থিরতা চলছে। সরবরাহ সংকটের অজুহাতে দাম বাড়িয়ে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে চাপে আছেন ভোক্তারা। এর মধে?্যই এলপিজি বিক্রিতে কমিশন বাড়ানোর প্রস্তাব দাবি করেছেন আমদানিকারক, পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতা। এ নিয়ে চলছে গণশুনানি। বৃহস্পতিবার ঢাকার বিয়াম মিলনায়তনে গণশুনানির আয়োজন করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। এতে বিভিন্ন আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ও পরিবেশকরা তাদের প্রস্তাব তুলে ধরেছেন। সবচেয়ে বেশি ব?্যবহৃত ১২ কেজির সিলিন্ডারে আমদানিকারকরা কমিশন হিসাবে ৩০০ টাকার বেশি ও পরিবেশকরা ১৫০ টাকা করার প্রস্তাব জমা দিয়েছেন। শুনানিতে এলপিজির কৃত্রিম সংকটের অভিযোগ তুলেছেন আমদানিকারক এক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি।
শুনানিতে এলপি গ্যাসের বাজার নিয়ন্ত্রণকারী (আমদানিকারক) প্রতিষ্ঠান মেঘনা, পেট্রোমেক্স, ডেল্টা, ওমেরার প্রতিনিধিরা বলেন, ‘এলপিজির জাহাজ ভাড়া বা ফ্রেইড, মজুত ও বোতলিং চার্জ ডিস্ট্রিবিউটর ও খুচরা বিক্রেতাদের কমিশন দ্বিগুণের বেশি বাড়িয়ে দিতে হবে।’ তবে ওরিয়ন এলপিজির চিফ অপারেটিং অফিসার অনুপ কুমার সেন বলেন, ‘ব্যাংকের এলসিসহ বিভিন্ন সমস্যার কারণে এখন দেশে ৫ কোটি সিলিন্ডারের মধ্যে দেড় কোটি সিলিন্ডার খালি পড়ে আছে। কারণ এখন এলপিজি আমদানি করতে পারছে মাত্র ৮-১০টি কোম্পানি। আর ১৭টি কোম্পানি এলপিজি আমদানি করে সিলিন্ডার বাজারে দিতে পারছে না। এতে কৃত্রিম সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। এর খেসারত দিচ্ছে সাধারণ জনগণ।’ তিনি বলেন, ‘ব্যাংক সুবিধার সীমাবদ্ধতার কারণে ১৭টি কোম্পানি এলপিজি আমদানি করতে পারছে না। এরা কোনোভাবে টিকে থাকতে আমদানিকারক বাকি ৮-১০টি কোম্পানির কাছ থেকে পাইকারিতে (বাল্কে) এলপিজি কিনছে। এতে ওই এলপিজি কোম্পানি বেশি দাম নিচ্ছে। বেশি দাম দিয়ে কিনে বাজারে এলপিজি সরবরাহ দেওয়া সম্ভব নয়। তাই বাজারে গুটিকয়েক কোম্পানির সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে। অন্যদিকে ওরিয়নের মতো ১৭টি কোম্পানি ব্যবসা করতে পারছে না এবং বাজারে কোনো প্রতিযোগিতা হচ্ছে না। এক্ষেত্রে বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়াতে বাল্ক গ্রাহকদের জন্য এলপিজির দাম ঠিক করে দিতে হবে।’ কয়েকটি কোম্পানি তাদের প্রস্তাবে কমিশন বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে। ১২ কেজির সিলিন্ডারে বর্তমান কমিশন ২০০ থেকে বাড়িয়ে ওমেরা ৪৭৮, পেট্রোম্যাক্স ৩৪৯ ও ডেল্টা ৩৬০ টাকা দাবি করেছে। তবে সবচেয়ে কম ৩০০ টাকা করার প্রস্তাব করেছে মেঘনা গ্রুপ। অন্যদিকে পরিবেশকরা ৫০ থেকে বাড়িয়ে ১৫০ টাকা, খুচরা বিক্রেতারা ৪৫ থেকে বাড়িয়ে ৭০ টাকা নির্ধারণের আবেদন করেছেন। এছাড়া পরিবহণে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের প্রতি লিটারের কমিশন ৮ থেকে বাড়িয়ে ১১ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন-বিইআরসির কারিগরি কমিটি ১২ কেজি সিলিন্ডারের এলপি গ্যাসের দাম ১ হাজার ৮৩৭ থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৯৭৬ টাকা করার সুপারিশ করেছে। অবশ্য অপারেটররা ২ হাজার ২৩২ টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করেছিলেন। এই দাম চলতি অক্টোবর মাসের জন্য। নভেম্বরের এলপি গ্যাসের দাম ঘোষণা করা হবে রোববার। বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদের সভাপতিত্বে শুনানিতে আরও বক্তব্য দেন এলপিজি অটোগ্যাস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সিরাজুল মওলা, ডিস্ট্রিবিউটরদের পক্ষে মেসার্স উজ্জল ট্রেডার্সের মালিক মনি মুক্তা পাল ও তাহের এন্টারপ্রাইজের মালিক আবু তাহের।
