Logo
Logo
×

Advertisement

দ্বিতীয় সংস্করণ

১৪৪ ধারা, তবু ভিড়

ইনানীতে গ্যাসের সঙ্গে তেলের অস্তিত্ব

১৫ দিন পর্যবেক্ষণে রাখবে পেট্রোবাংলা

Advertisement

Icon

কক্সবাজার প্রতিনিধি

প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে নলকূপ খননের সময় ভূগর্ভ থেকে বের হওয়া গ্যাসের সঙ্গে তেলের উপস্থিতি পেয়েছে পেট্রোবাংলা। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে গ্যাসটিকে ‘থার্মোজেনিক’ বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। গ্যাসের উৎস ও মজুত সম্পর্কে নিশ্চিত হতে ১৫ দিন পর্যবেক্ষণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ সময় গ্যাসের প্রবাহ অব্যাহত থাকলে তা বন্ধ করতে রিলিফ কূপ খননের পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে আপাতত আগুন নেভানো কিংবা গ্যাস বের হওয়ার পথ বন্ধ না করার নির্দেশনা দিয়েছেন পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা। তাদের মতে, জোর করে আগুন নেভানো বা গ্যাসের পথ বন্ধ করা হলে ভূগর্ভে গ্যাস জমে উচ্চচাপ তৈরি হতে পারে। এতে বড় ধরনের বিস্ফোরণের আশঙ্কা রয়েছে। শুক্রবার রাতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মাইনস) প্রকৌশলী মো. শোয়েব এসব কথা জানান। তিনি বলেন, প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে নির্গত গ্যাসটি থার্মোজেনিক বলে মনে হচ্ছে। এর সঙ্গে কিছুটা তেলের মিশ্রণ বা উচ্চ হাইড্রোকার্বনের উপস্থিতিও রয়েছে। গ্যাসের উৎস ও পরিমাণ নিশ্চিত হতে ১৫ দিন নিবিড় পর্যবেক্ষণ করা হবে। এ সময় আগুনের শিখার উচ্চতা ও গ্যাস নির্গমনের পরিস্থিতি দেখা হবে। মো. শোয়েব বলেন, পর্যবেক্ষণ শেষে আগুনের শিখা একইরকম থাকলে বা উচ্চতা বাড়লে গ্যাসের প্রবাহ বন্ধ করতে রিলিফ কূপ খননের পরিকল্পনা রয়েছে। এক্ষেত্রে সাইড ট্র্যাকিং প্রযুক্তি ব্যবহার করা হতে পারে। মূল কূপের পাশ দিয়ে বিকল্প কূপ খনন করে গ্যাসের প্রবাহ বন্ধ করার চেষ্টা করা হবে। তবে এর মধ্যে গ্যাসের প্রবাহ কমে গেলে বা বন্ধ হয়ে গেলে পরিস্থিতি অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, কোনোভাবেই জোর করে আগুন নেভানো যাবে না। গ্যাস বের হওয়ার পথও বন্ধ করা যাবে না। এতে ভূগর্ভে গ্যাস জমে বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে আশপাশের কয়েকটি ভূতাত্ত্বিক স্তর থেকেও গ্যাস জ্বলতে দেখা গেছে বলে জানান পেট্রোবাংলার এই কর্মকর্তা। ভূগঠনের পরিবর্তনের কারণে এসব স্তর দিয়ে গ্যাস বের হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে পরবর্তী সময়ে বাপেক্স ওই এলাকায় ত্রিমাত্রিক (থ্রিডি) ভূকম্পন জরিপ পরিচালনা করবে। জরিপের তথ্য বিশ্লেষণ করে ভূগর্ভে গ্যাসের মজুতের সম্ভাবনা যাচাই করা হবে। অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক মজুত পাওয়া গেলে সেখানে নতুন কূপ খননের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।

বাপেক্সের ভূতাত্ত্বিক বিভাগের মহাব্যবস্থাপক শামসিয়া মুকতাদির বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাপেক্সের অভিজ্ঞতা ও কারিগরি সক্ষমতা রয়েছে। তবে যে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে।

তবু মানুষের ভিড় : গত ২৭ অক্টোবর সকালে উখিয়ার জালিয়াপালং ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইনানী ছোট খাল ব্রিজসংলগ্ন একটি বাড়িতে নলকূপ বসানোর কাজ চলছিল। মাটির প্রায় এক হাজার ফুট গভীরে পাইপ প্রবেশ করানোর পর গ্যাস বের হতে শুরু করে। একপর্যায়ে গ্যাসে আগুন ধরে যায়। শুক্রবার পর্যন্ত টানা চার দিন ধরে আগুন জ্বলছিল।

এদিকে জননিরাপত্তার স্বার্থে ঘটনাস্থলের ২০০ মিটারের মধ্যে সাধারণ মানুষের প্রবেশ ও অবস্থান নিষিদ্ধ করেছে উপজেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার উখিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পান্না আক্তার স্বাক্ষরিত আদেশে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। আদেশে ঘটনাস্থল ও আশপাশে আগুন জ্বালানো, ধূমপান, দিয়াশলাই বা লাইটার ব্যবহারসহ আগুনের স্ফুলিঙ্গ তৈরি হতে পারে এমন কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। এলাকায় মাইকিং করার পাশাপাশি কাঁটাতারের বেড়া ও লাল পতাকা টানানো হয়েছে। এরপরও প্রতিদিন ঘটনাস্থলে ভিড় করছেন উৎসুক মানুষ।

স্থানীয় বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বাপেক্সের পক্ষ থেকে আগে ৭২ ঘণ্টার সময়সীমার কথা বলা হয়েছিল। তাদের আশা ছিল, এর মধ্যে আগুনের তীব্রতা কমবে। কিন্তু আগুন জ্বলতে থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে। স্থানীয় শহিদুল আলম বলেন, প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও অনেকে কাঁটাতারের বেড়া অতিক্রম করে ঘটনাস্থলের কাছে যাচ্ছে। এভাবে মানুষের ভিড় চলতে থাকলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

১৪৪ ধারা, তবু ভিড় ইনানীতে গ্যাসের সঙ্গে তেলের অস্তিত্ব

ইনানীতে গ্যাসের সঙ্গে তেলের অস্তিত্ব

গাজীপুরে তিতাস সার্ভে টিমের ওপর হামলা, আহত ৬

গাজীপুরে তিতাস সার্ভে টিমের ওপর হামলা, আহত ৬

ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু হাসপাতালে ১২৬২

ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু হাসপাতালে ১২৬২

পুলিশে দেওয়ার হুমকি, ফাঁস দিল শিশু

পুলিশে দেওয়ার হুমকি, ফাঁস দিল শিশু

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম