অবৈধ সাবলেট বন্ধে কঠোর সরকার
হঠাৎ বাসা ছাড়ার নির্দেশে বিপাকে শিক্ষার্থীরা
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সরকারি বাসা ও ফ্ল্যাটে অবৈধ সাবলেট বন্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। সরকারি আবাসন পরিদপ্তর শনিবারের মধ্যে সব অননুমোদিত ভাড়াটিয়াকে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। আকস্মিক এ সিদ্ধান্তে বিপাকে পড়েছেন রাজধানীর বিভিন্ন সরকারি আবাসনে সাবলেট থাকা শিক্ষার্থীরা। বিশেষ করে আজিমপুর সরকারি কলোনিতে বসবাসকারী ইডেন মহিলা কলেজ ও বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজের ছাত্রীরা নতুন বাসা খুঁজতে হিমশিম খাচ্ছেন। সামনে পরীক্ষা থাকায় পড়াশোনা ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন তারা।
গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন যুগান্তরকে বলেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বরাদ্দ করা কোয়ার্টারে সাবলেট ভাড়া অনিয়ম। শনিবারের মধ্যে সবাইকে সাবলেট বাতিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আবাসন পরিদপ্তর গণবিজ্ঞপ্তিও জারি করেছে। এরপরও কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী এ ধরনের অনিয়ম করলে তার নামে বরাদ্দ করা বাসা বাতিল করা হবে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয় কঠোর অবস্থানে রয়েছে। আবাসন পরিদপ্তরও সে অনুযায়ী মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের পরিদর্শনে কয়েকটি বাসার এক বা একাধিক কক্ষ এবং পুরো ফ্ল্যাট অন্যের কাছে ভাড়া দেওয়ার ঘটনা ধরা পড়ে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার জরুরি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সরকারি বাসা বরাদ্দ পাওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিজেদের বসবাসের জন্য। অন্যের কাছে ভাড়া দেওয়া বাংলাদেশ বরাদ্দ বিধিমালা, ১৯৮২-এর পরিপন্থি। নির্ধারিত সময়ের পর সাবলেট পাওয়া গেলে বরাদ্দ বাতিলসহ শাস্তিমূলক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আজিমপুর সরকারি কলোনিতে ২২ অক্টোবর থেকেই কয়েকজন শিক্ষার্থীকে বাসা ছাড়ার নোটিশ দেওয়া হয় বলে তাদের অভিযোগ। ইডেন মহিলা কলেজের এক শিক্ষার্থী জানান, পূজার ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে থাকার সময় তাকে বাসা ছাড়তে বলা হয়। ২৬ অক্টোবর ঢাকায় ফিরে আবাসন সংকটে পড়েন তিনি। ডিসেম্বরে চূড়ান্ত পরীক্ষার আগে এমন পরিস্থিতিতে পড়াশোনার প্রস্তুতি ব্যাহত হচ্ছে।
বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজের আরেক শিক্ষার্থী জানান, রাত পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় বাসা খুঁজেও উপযুক্ত আবাসন পাচ্ছেন না তারা। কলেজের হলে আসন না পেয়ে বাইরে ভাড়া থাকতেন। এখন সেখান থেকেও চলে যেতে হচ্ছে।
আজিমপুরের একটি ভবনের পরিচালনা কমিটির সদস্য মাহবুব আলম জানান, ভবনের কিছু কক্ষ সাবলেট দেওয়ার অভিযোগ ছিল। ইতোমধ্যে ভাড়াটিয়াদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, বাকিরাও চলে যাবেন।
সরকারি বাসায় অবৈধ সাবলেট বন্ধের উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা থাকলেও আকস্মিক সময়সীমায় বিপাকে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। অনিয়মকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি নির্দোষ ভাড়াটিয়া, বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের বিকল্প আবাসন ও বাসা ছাড়ার জন্য যুক্তিসংগত সময় দেওয়ার দাবি উঠেছে।
