থার্ড টার্মিনাল পরিচালনা চুক্তি
জাপানি শর্তে বড় ছাড়
চুক্তির অসংগতি নিয়ে সংসদীয় কমিটিতে সমালোচনা * ১০০ কিলোমিটারের মধ্যে ১৫ বছরে প্রতিযোগী বেসামরিক বিমানবন্দর নয় * এমন ধরনের শর্তে যৌক্তিকতা নেই-মফিদুর রহমান, বেবিচকের সাবেক চেয়ারম্যান
Advertisement
সাইফ আহমাদ
প্রকাশ: ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল পরিচালনায় জাপানি কনসোর্টিয়ামকে বড় ধরনের ছাড় দিয়েছে সরকার। বেবিচকের প্রাথমিক আপত্তি সত্ত্বেও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শর্তে সম্মতি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে-রাজস্ব ভাগাভাগি, আইন পরিবর্তনের প্রভাব, নির্মাণ ত্রুটির দায় এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কার্যক্রমসংক্রান্ত শর্ত। এছাড়া ঢাকার প্রধান বিমানবন্দরের ১০০ কিলোমিটারের মধ্যে ১৫ বছরে কোনো প্রতিযোগী বেসামরিক বিমানবন্দর বাণিজ্যিকভাবে চালু না করা এবং থার্ড টার্মিনাল অপারেশনে গেলে টার্মিনাল-১ ও ২ দিয়ে কোনো ফ্লাইট পরিচালনা করা যাবে না-এমন শর্তে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) সম্মতি দিয়েছে। এসব শর্তসহ পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ (অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স) চুক্তি দ্রুত চূড়ান্ত করতে বেবিচককে তাগিদ দিয়েছে বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রণালয়।
রোববার বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে চুক্তির বিভিন্ন অসংগতি নিয়ে সমালোচনা করা হয়। এ নিয়ে একপর্যায়ে হট্টগোলও হয়। বৈঠকে একজন সদস্য বেবিচক চেয়ারম্যানের কাছে জানতে চান-জাপানি কনসোর্টিয়ামকে তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব দিতে গিয়ে প্রথম ও দ্বিতীয় টার্মিনালের কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হলে সেগুলোর কী হবে? সরকার সেখানে হাজার হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। এসব অবকাঠামো ও সক্ষমতা কি তাহলে অব্যবহৃত পড়ে থাকবে-এমন প্রশ্নও তোলেন তিনি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, থার্ড টার্মিনাল দেশের বিমানবন্দর অবকাঠামো আধুনিকায়নের বড় প্রকল্প। জাপানের অর্থায়ন ও কারিগরি সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ হলেও পরিচালনা চুক্তিতে রাষ্ট্রের রাজস্ব, বিমান চলাচলের স্বাধীনতা এবং ভবিষ্যৎ অবকাঠামো উন্নয়নের সুযোগ সুরক্ষিত রাখা জরুরি। বেবিচকের সাবেক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) এম মফিদুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, থার্ড টার্মিনাল পরিচালনায় বিদেশি অপারেটর নিয়োগের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। একটি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যৎ অবকাঠামো উন্নয়নের সুযোগ সংকুচিত করা উচিত নয়। জাপান বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগী বন্ধু। তাদের পক্ষ থেকে এ ধরনের শর্ত দেওয়ার যৌক্তিকতা দেখছি না। রাজস্ব ভাগাভাগি, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ বিমানবন্দর উন্নয়নের ক্ষেত্রে দেশের স্বার্থ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতা অক্ষুণ্ন রাখতে হবে।
বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত যুগান্তরকে বলেন, ১৬ ডিসেম্বর (বিজয় দিবস) থার্ড টার্মিনালটি আংশিক চালুর লক্ষ্যে কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। পুরোপুরি চালু হতে আরও সময় লাগবে। পাঁচ থেকে ছয় মাসের মধ্যে তৃতীয় টার্মিনাল পুরোপুরি চালু হবে। তিনি বলেন, বিগত সরকারের আমলে টার্মিনালের ভবন উদ্বোধন করা হলেও চালুর প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। টার্মিনালে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হয়নি। এছাড়া কার্যক্রম পরিচালনার সুনির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনাও ছিল না।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, বর্তমানে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল-১ ও ২ পরিচালনা করছে বেবিচক। অন্যদিকে থার্ড টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব পেতে যাচ্ছে জাপানি কনসোর্টিয়াম। চুক্তির শর্তে বলছে, তৃতীয় টার্মিনাল চালু হলে প্রথম ও দ্বিতীয় টার্মিনাল দিয়ে কোনো ফ্লাইট পরিচালনা করা যাবে না। অথচ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিমানবন্দরে একাধিক অপারেটর পাশাপাশি টার্মিনাল পরিচালনা করছে। যুক্তরাষ্ট্রের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে টার্মিনাল ৪ পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে একটি প্রতিষ্ঠান। অন্যদিকে টার্মিনাল-১, ২ ও ৩ পরিচালনা করছে পৃথক অপারেটর। অর্থাৎ, একই বিমানবন্দরে একাধিক অপারেটরের কার্যক্রম পরিচালনায় কোনো বাধা নেই। সংসদীয় কমিটির সভায় একজন সদস্য বলেন, নতুন টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়া প্রতিষ্ঠানকে বাড়তি সুবিধা দিতে গিয়ে বিদ্যমান টার্মিনালগুলোর কার্যক্রম বন্ধ রাখার এমন শর্ত বিশ্বে নজিরবিহীন। জবাবে বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, তার দায়িত্ব নেওয়ার আগে বিষয়গুলো চুক্তি প্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়েছে। এদিকে মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো চিঠিতেও চুক্তির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্তে সম্মতির বিষয়টি উঠে এসেছে।
সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা-১ শাখা থেকে ড. সাইফুর রহমান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে জাপানি সাব-ওয়ার্কিং গ্রুপের উত্থাপিত বিষয়গুলো দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মূত্রমতে, এ মাসের তৃতীয় সপ্তাহে জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত করার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে বেবিচক। ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে সীমিত পরিসরে থার্ড টার্মিনাল উদ্বোধনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
১৫ বছর প্রতিযোগী বিমানবন্দরে : চুক্তির সবচেয়ে সুদূরপ্রসারী শর্তগুলোর একটি হলো শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ১০০ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে ১৫ বছর কোনো প্রতিযোগী বেসামরিক বিমানবন্দর বাণিজ্যিকভাবে চালু না করার শর্ত। জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে আলোচনায় বেবিচক এ শর্ত মেনে নিয়েছে। অর্থাৎ, নতুন বিমানবন্দর নির্মাণের সুযোগ থাকলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ১০০ কিলোমিটার এলাকায় কোনো প্রতিযোগী বেসামরিক বিমানবন্দর বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করতে পারবে না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ শর্ত বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি বিমান চলাচল পরিকল্পনায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে। এম মফিদুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, শাহজালাল বিমানবন্দরে একটি রানওয়ে। টার্মিনাল সম্প্রসারণ করে রানওয়ের সীমাবদ্ধতা দূর করা সম্ভব নয়। এ অবস্থায় ঢাকার বিকল্প বা পরিপূরক কোনো বিমানবন্দর ভবিষ্যতে বাণিজ্যিকভাবে চালু করতে ১৫ বছরের শর্ত কতটা প্রভাব ফেলবে, তা গুরুত্বপূর্ণ। দেশের বিমান পরিবহণ খাতের চাহিদা বাড়লে শাহজালালের ওপর চাপ কমাতে বিকল্প বিমানবন্দর প্রয়োজন হতে পারে। অথচ চুক্তির শর্ত সেই সম্ভাবনাকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সীমিত করে দিতে পারে। এ শর্ত পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।
রাজস্বে ছাড় : থার্ড টার্মিনাল পরিচালনার চুক্তিতে রাজস্ব ভাগাভাগি নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা হয়েছে। সম্মত কাঠামো অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট রাজস্বের ২৭ শতাংশ পাওয়ার কথা বাংলাদেশের। তবে আংশিক কার্যক্রম (ওপিসিডি) থেকে পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক পরিচালনায় (সিএমডি) উত্তরণের সময় জাপানি অপারেটরের ১৩.৫ শতাংশের শর্তও মেনে নিয়েছে সরকার। ২৫ অক্টোবর ইস্যু করা মন্ত্রণালয়ের চিঠিতেও ওপিসিডি থেকে সিএমডি পর্যন্ত সময়ের রাজস্ব ভাগাভাগি ও হিসাবনিকাশের পদ্ধতি নিষ্পত্তির নির্দেশনা রয়েছে। পরিকল্পিত বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরুর তারিখ থেকে বাস্তবে পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক পরিচালনা শুরুর মধ্যবর্তী সময়ে রাজস্ব কীভাবে বণ্টিত হবে, তা চুক্তিতে স্পষ্ট করতে হবে। বেবিচকের সদস্য এয়ার কমোডর আবু সাইদ মেহবুব খান বলেন, রাজস্ব ভাগাভাগির মূল হার ২৭ শতাংশই থাকবে। তবে আংশিক কার্যক্রম চলাকালে এ পূর্ণ হার কার্যকর হবে না।
বিমানের ওপর মাশুলের দায় : বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কার্যক্রম নিয়েও জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে বিরোধ তৈরি হয়। বিমান একদিকে উড়োজাহাজ পরিচালনাকারী এয়ারলাইন্স, অন্যদিকে নিজস্ব উড়োজাহাজের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবাদাতা। জাপানি পক্ষ গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের অর্থ পরিশোধসংক্রান্ত কিছু শর্ত বিমানের এয়ারলাইন্স কার্যক্রমের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করতে চেয়েছে। বেবিচকের পক্ষ থেকে দুটি পৃথক বাণিজ্যিক কার্যক্রমে একই শর্ত প্রয়োগের যৌক্তিকতা নিয়ে আপত্তি তোলা হয়। পরে বিষয়টি মন্ত্রণালয়ে গড়ালে জাপানি পক্ষের অবস্থান মেনে নেওয়া হয়। মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে বিমানকে দুটি পরিচয়ে অর্থ পরিশোধের বাধ্যবাধকতা স্পষ্ট করার কথা বলা হয়েছে। এয়ারলাইন্স হিসাবে ফ্লাইট পরিচালনা, ল্যান্ডিং ও পার্কিং চার্জ এবং সেলফ-গ্রাউন্ড হ্যান্ডলার হিসাবে নির্ধারিত সেবা মাশুল পরিশোধের শর্ত পৃথকভাবে নির্ধারণ করতে বলা হয়েছে। গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের জন্য বেবিচক ও টার্মিনাল অপারেটরকে যথাসময়ে অর্থ পরিশোধের বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে।
আইন পরিবর্তন ও নির্মাণ ত্রুটির দায় : চুক্তির আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো চেঞ্জ ইন ল এবং ডিফেক্ট নোটিফিকেশন পিরিয়ড। চুক্তির মেয়াদকালে বাংলাদেশের আইন, বিধিবিধান বা নীতিমালায় পরিবর্তন এলে তার প্রভাব কীভাবে সামাল দেওয়া হবে-সেটিই চেঞ্জ ইন ল-এর বিষয়। কোনো আইন পরিবর্তনে জাপানি অপারেটরের পরিচালন ব্যয় বাড়লে অথবা ব্যবসায়িক কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হলে ক্ষতিপূরণ বা আর্থিক সমন্বয়ের প্রশ্ন আসতে পারে। এক্ষেত্রে সরকারের ওপর কোনো আর্থিক দায় বর্তাবে কি না, তা চুক্তির ভাষার ওপর নির্ভর করবে। অন্যদিকে নির্মাণ ত্রুটি শনাক্ত ও সংশোধনের সময়সীমা নির্ধারণের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। টার্মিনাল হস্তান্তরের পর কোনো কারিগরি ত্রুটি দেখা দিলে নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান, বেবিচক নাকি অপারেটর-কার দায়িত্ব কতটুকু, তা স্পষ্ট করতে হবে। ত্রুটি সংশোধনের ব্যয় কে বহন করবে এবং কতদিন পর্যন্ত নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের দায় কার্যকর থাকবে-সেটিও চুক্তিতে নির্ধারণ করা প্রয়োজন। এ দুটি বিষয়ে জাপানি পক্ষের সঙ্গে বিরোধ ছিল। মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে চেঞ্জ ইন ল এবং ডিফেক্ট নোটিফিকেশন পিরিয়ডের শর্ত চূড়ান্ত করার নির্দেশনা রয়েছে।
জাইকার বিনিয়োগ ও সরকারের নিশ্চয়তা : থার্ড টার্মিনাল নির্মাণে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) অর্থায়ন রয়েছে। প্রকল্পের অর্থায়ন কাঠামোয় জাইকার প্রেফারেন্স শেয়ার বা অগ্রাধিকার শেয়ারের বিষয়টিও চুক্তি চূড়ান্ত করার আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলেছে মন্ত্রণালয়। এছাড়া বিদেশি বিনিয়োগ ও ব্যাংকিং লেনদেনের নিরাপত্তায় মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে লেটার অব কমফোর্ট বা প্রাতিষ্ঠানিক আশ্বাসপত্র দেওয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত করতে বলা হয়েছে। এ বিষয়ে অর্থ বিভাগ ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের মতামতের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখার নির্দেশনা রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চুক্তি কত দ্রুত স্বাক্ষর হলো-সেটিই সাফল্যের একমাত্র মাপকাঠি হতে পারে না। বরং ১৫ বছরের প্রতিযোগিতা নিষেধাজ্ঞা, রাজস্ব ছাড়, বিমানের ওপর আর্থিক বাধ্যবাধকতা এবং সরকারের সম্ভাব্য দায়-সবকিছুর পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশের মধ্য দিয়েই বোঝা যাবে থার্ড টার্মিনাল পরিচালনার চুক্তিতে রাষ্ট্রের স্বার্থ কতটা রক্ষা করা হয়েছে।
