Logo
Logo
×

Advertisement

দ্বিতীয় সংস্করণ

বন্ডের অপব্যবহার

দুই গার্মেন্টের ১০২ কোটি টাকা শুল্ক ফাঁকি

Advertisement

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

বন্ড সুবিধায় শুল্কমুক্তভাবে আনা কাপড় খোলাবাজারে বিক্রি, কম মূল্যে রপ্তানি দেখানোর মাধ্যমে দুটি গার্মেন্ট ১০২ কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকি দিয়েছে। প্রতিষ্ঠান দুটি হচ্ছে-রিয়াজ নিটওয়্যার লিমিটেড ও লিশা টেক্স (প্রা.) লিমিটেড। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি) এই শুল্ক ফাঁকির ঘটনা উদ্ঘাটন করেছে। সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে এনবিআর।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ৫ অক্টোবর রিয়াজ নিটওয়্যারে সরেজমিন পরিদর্শন করে সিআইসির গোয়েন্দা দল। পরিদর্শনে প্রতিষ্ঠানটির সর্বশেষ নিরীক্ষার পর ব্যাক-টু-ব্যাক ঋণপত্র ও এফওসির মাধ্যমে আনা কাঁচামাল, কারখানার মজুত এবং রপ্তানির তথ্য বন্ডেড ওয়্যারহাউস, নিটিং, কাটিং, সুইং ও ফিনিশিংসহ পুরো প্রাঙ্গণের মজুত যাচাই করা হয়। অপরদিকে ১০ সেপ্টেম্বর লিশা টেক্সের ওয়্যারহাউজ থেকে শুরু করে কাটিং, সুইং ও ফিনিশিং সেকশনের মজুতের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংক, অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড, বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ-এর তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়।

সরেজমিন পরিদর্শনে সিআইসি দেখতে পায়, রিয়াজ নিটওয়্যার ৪১টি ইউটিলাইজেশন ডিক্লারেশনের (ইউডি) আওতায় বন্ড সুবিধায় মোট ২ হাজার ৮৬২ টন ওভেন পলিয়েস্টার কাপড় আমদানি করে। আমদানিকৃত এসব কাপড়ের প্রায় ৭৮ শতাংশ, অর্থাৎ ২ হাজার ২৩৭ টন কাপড় কারখানার গুদামে নেই, রপ্তানির হিসাবেও নেই। বন্ডেড ওয়্যারহাউজ থেকে এই কাপড় অবৈধভাবে অপসারণের মাধ্যমে খোলাবাজারে বিক্রি করা হয়েছে। সুতা ও নিট কাপড়ের হিসাব রপ্তানির সঙ্গে মিললেও ওভেন পলিয়েস্টার কাপড়ে বড় ঘাটতি দেখা গেছে। যে ৩১টি ইউডিতে কোনো রপ্তানি হয়নি, তার ৩০টিতে আমদানি করা কাপড়ের পুরোটাই অবৈধভাবে অপসারণ করা হয়েছে। আংশিক রপ্তানির ১০টি এন্ট্রিতেও আমদানির প্রায় ৫৩ শতাংশ কাপড়ের হিসাব মেলেনি। পুরো প্রাঙ্গণে পাওয়া গেছে ৬৯ হাজার কেজি সুতা, ৮ লাখ ৪৫ হাজার পিস তৈরি পোশাক এবং মাত্র ২৫ হাজার ৫৩৩ কেজি ওভেন পলিয়েস্টার কাপড়, যা আমদানির ১ শতাংশেরও কম।

সিআইসির হিসাবে, অবৈধভাবে অপসারিত কাপড়ের শুল্কায়নযোগ্য মূল্য ১৩৪ কোটি টাকা। এর বিপরীতে প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে ৯৪ কোটি টাকা শুল্ক-কর ফাঁকি উদ্ঘাটন করা হয়েছে।

অপরদিকে লিশা টেক্সের বন্ড সুবিধায় আমদানি করা প্রায় ১ লাখ ৭৪ হাজার কেজি পলিস্টার কাপড় প্রতিষ্ঠানে পাওয়া যায়নি। বন্ডেড ওয়্যারহাউজ থেকে এই কাপড় অবৈধভাবে অপসারণের মাধ্যমে খোলাবাজারে বিক্রি করা হয়েছে। শুধু এ খাতেই প্রায় ৬ কোটি ৯০ লাখ টাকা শুল্ক-কর ফাঁকি দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রতিষ্ঠানটি ৭ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির প্রমাণ পেয়েছে সিআইসি।

টানবাজারে কেমিক্যাল জব্দ : ১ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জের টানবাজারে অভিযান চালিয়েছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। অভিযানে মেসার্স এম আর ট্রেডার্স নামের একটি প্রতিষ্ঠানের গুদামে সোডিয়াম হাইড্রোসালফাইটসহ প্রায় ৮১.৬ টন কেমিক্যাল ও অন্যান্য কাঁচামাল মজুত পাওয়া যায়। প্রতিষ্ঠানটি এসব পণ্য ক্রয়, আমদানি কিংবা বৈধভাবে মজুতের সপক্ষে কোনো দলিলাদি প্রদর্শন করতে পারেনি। ফলে মজুত পণ্যসহ গুদামটি সিলগালা করা হয়েছে। এ ঘটনার যোগসূত্র ধরে সিম ফ্যাব্রিক্স লিমিটেড নামের আরেকটি অভিযান পরিচালনা করা হয়। প্রতিষ্ঠানটি ভারত থেকে ৪৫ টন একই কেমিক্যাল বন্ড সুবিধায় আমদানি করলেও সংশ্লিষ্ট আমদানিকৃত পণ্যের সরেজমিন দেখাতে পারেনি।

শুল্ক গোয়েন্দা বলছে. একদিকে বন্ডেড প্রতিষ্ঠানে আমদানিকৃত কেমিক্যালের হদিস নেই, অন্যদিকে নন-বন্ডেড গুদামে বিপুল পরিমাণ কেমিক্যালের মজুত অথচ বৈধ কাগজপত্র নেই-এই দুই ঘটনার মধ্যে সম্ভাব্য যোগসূত্র এবং সরকারের শুল্ক-কর ফাঁকির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। আটক কেমিক্যালের প্রকৃত উৎস, আমদানি ও ক্রয়-বিক্রয়ের তথ্য, বন্ড সুবিধার অপব্যবহার এবং সম্ভাব্য রাজস্ব ফাঁকির পরিমাণ নিরূপণে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

বন্ডের অপব্যবহার দুই গার্মেন্টের ১০২ কোটি টাকা শুল্ক ফাঁকি

দুই গার্মেন্টের ১০২ কোটি টাকা শুল্ক ফাঁকি

রাহুলকে হিমন্তের হুঁশিয়ারি আসামে আসুন ধাক্কা দিয়ে বাংলাদেশ পাঠাব

আসামে আসুন ধাক্কা দিয়ে বাংলাদেশ পাঠাব

বারবার যান্ত্রিক ত্রুটি প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমান সম্পর্কে ব্যাখ্যা চায় সংসদীয় কমিটি

প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমান সম্পর্কে ব্যাখ্যা চায় সংসদীয় কমিটি

মন্ত্রিসভার বৈঠক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন আইনের খসড়া অনুমোদন

সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন আইনের খসড়া অনুমোদন

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম