Logo
Logo
×

Advertisement

দ্বিতীয় সংস্করণ

ধর্মনিরপেক্ষতার দোহাই

শতবর্ষী মসজিদ সরাতে চায় মোদি সরকার

Advertisement

Icon

কলকাতা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির কৃষি ভবন চত্বর থেকে শতবর্ষী কাদেমি মসজিদ সরিয়ে ফেলার পক্ষে দিল্লি হাইকোর্টে অবস্থান তুলে ধরেছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার। সরকারি দপ্তরের চত্বরে স্থায়ী ধর্মীয় স্থাপনা থাকা দেশের ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্রের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয় বলে আদালতে জমা দেওয়া এক প্রতিবেদনে দাবি করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। মঙ্গলবার প্রকাশিত এই অবস্থানের মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো কেন্দ্রীয় সরকার স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, উন্নয়ন প্রকল্পের কারণে মসজিদটি বর্তমান অবস্থান থেকে সরিয়ে নেওয়া হবে।

আগামী ২৩ নভেম্বর মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য রয়েছে। তবে কাদেমি মসজিদের ইতিহাস কেন্দ্রের যুক্তিকে ঘিরে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। ১৯১১ সালে ব্রিটিশ সরকার ভারতের রাজধানী কলকাতা থেকে দিল্লিতে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর নতুন রাজধানী নির্মাণের জন্য জমি জরিপ শুরু হয়। সে সময়ের সরকারি নথিতেই মসজিদটির অস্তিত্বের উল্লেখ ছিল। ১৯১২ সালে ব্রিটিশ স্থপতি এডউইন লুটিয়েন্স যখন নয়াদিল্লির নকশা তৈরি করছিলেন, তখনকার সরকারি মানচিত্রেও কাদেমি মসজিদের অবস্থান চিহ্নিত ছিল। অর্থাৎ, ১৯৫৭ সালে কৃষি ভবন নির্মাণের অনেক আগে থেকেই ওই স্থানে মসজিদটি ছিল। শুধু তাই নয়, ১৯৭০ সালের দিল্লি সরকারি গেজেটেও কাদেমি মসজিদকে তালিকাভুক্ত বৈধ ওয়াকফ সম্পত্তি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল। এই মসজিদসহ সেন্ট্রাল ভিস্তা প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কায় থাকা ছয়টি মসজিদের সুরক্ষা চেয়ে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল দিল্লি ওয়াকফ বোর্ড। তখন কেন্দ্রের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতকে জানিয়েছিলেন, ওই ধর্মীয় স্থাপনাগুলোর কিছুই করা হবে না। প্রকল্পটি দীর্ঘমেয়াদি এবং তখনো তা বাস্তবায়নের পর্যায়ে পৌঁছায়নি বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।

কিন্তু এবার কেন্দ্রের অবস্থানে পরিবর্তন স্পষ্ট। মসজিদ সরানোর পক্ষে ধর্মনিরপেক্ষতার যুক্তি তুলে ধরেছে সরকার। শুনানিতে কেন্দ্রের আইনজীবী নিশান্ত গৌতমের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি দয়াল জানতে চান, কোনো ধর্মীয় স্থাপনা সরিয়ে নেওয়া হলে বিকল্প জায়গা দেওয়ার বিষয়ে কী নিয়ম রয়েছে। সব ধর্মীয় স্থাপনার ক্ষেত্রেই কি বিকল্প জায়গা দেওয়া হবে না, নাকি সরকারি স্থানে কোনো সম্প্রদায়ের প্রার্থনার জায়গা থাকতে পারবে না, সে বিষয়ে কেন্দ্রের অবস্থান স্পষ্ট করার প্রয়োজন রয়েছে। বিচারপতি আরও বলেন, সরকারি সম্পত্তিতে ধর্মীয় স্থাপনা থাকা অননুমোদিত, সরকারের এই বক্তব্যের প্রকৃত অর্থ ও প্রভাব বুঝতে পারলে আদালতের পক্ষে আইনি অবস্থান নির্ধারণ করা সহজ হবে।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

ন্যূনতম মজুরি বোর্ডের প্রথম বৈঠক আজ

ন্যূনতম মজুরি বোর্ডের প্রথম বৈঠক আজ

শিল্প খাতে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টাকারীদের কঠোর হাতে দমন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

শিল্প খাতে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টাকারীদের কঠোর হাতে দমন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ধর্মনিরপেক্ষতার দোহাই শতবর্ষী মসজিদ সরাতে চায় মোদি সরকার

শতবর্ষী মসজিদ সরাতে চায় মোদি সরকার

পুলিশের গাড়ি কেনাসহ ১৪ প্রকল্প উঠছে একনেকে

পুলিশের গাড়ি কেনাসহ ১৪ প্রকল্প উঠছে একনেকে

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম