রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য
বড় বাধা ‘পেমেন্ট জটিলতা’
বাংলাদেশ-রাশিয়া বিজনেস ডায়ালগ
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর বিপুল সম্ভাবনা থাকলেও অর্থ লেনদেন, পণ্য পরিবহণ, বিমা ও শুল্কসংক্রান্ত নানা জটিলতায় আটকে আছে দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে প্রচলিত ব্যাংকিং চ্যানেল ও সুইফট ব্যবস্থায় বিঘ্ন, রপ্তানি আয় দেশে আনা এবং বৈদেশিক মুদ্রায় লেনদেনের সমস্যা দূর করতে চায় বাংলাদেশ। এজন্য দুই দেশের মধ্যে সহজ, নিরাপদ ও কার্যকর পেমেন্ট ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা। একই সঙ্গে তৈরি পোশাকের বাইরে ওষুধ, চামড়া, পাট, পাদুকা ও কৃষিপণ্যসহ নতুন নতুন পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ এবং যৌথ বিনিয়োগের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছে বাংলাদেশ।
অন্যদিকে বাংলাদেশে কৃষিপণ্য, খাদ্য ও সার সরবরাহ বাড়ানোর পাশাপাশি জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা ও ই-গভর্ন্যান্স খাতে যৌথভাবে কাজ করতে আগ্রহী রাশিয়া। দেশটির ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা মনে করেন, বিদ্যমান পেমেন্ট জটিলতা কাটিয়ে উঠতে পারলে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত হবে। বৃহস্পতিবার রাজধানীর মতিঝিলে ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ-রাশিয়া বিজনেস ডায়ালগে’ এসব বিষয় উঠে আসে। এফবিসিসিআই ও রাশিয়া-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল যৌথভাবে এ সংলাপের আয়োজন করে। এতে দুই দেশের ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, উদ্যোক্তা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. ফজলুল হক বলেন, রাশিয়া বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত সম্ভাবনাময় বাজার। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বড় কোনো আনুষ্ঠানিক বা বাণিজ্যিক বাধা না থাকলেও বাস্তবে যেসব সমস্যা রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে যৌথভাবে সমাধান করতে হবে। ফজলুল হক বলেন, দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণে আর্থিক লেনদেনের জটিলতা দূর করা জরুরি। তিনি দেশের তৈরি পোশাক খাতের বর্তমান পরিস্থিতির কথাও তুলে ধরেন।
পেমেন্ট ও পরিবহণ জটিলতা দূর করার তাগিদ : বৈঠকে রুশ প্রতিনিধিদলের প্রধান এবং রাশিয়া-বাংলাদেশ আন্তঃসরকার কমিশনের রুশ অংশের চেয়ারম্যান ইলিয়া ভ্যাসিলিভিচ শেস্তাকভ বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ রাশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। বাংলাদেশে কৃষিপণ্য, খাদ্য ও সার সরবরাহ বাড়ানোর পাশাপাশি জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা ও ই-গভর্ন্যান্স খাতে যৌথভাবে কাজ করতে আগ্রহী রাশিয়া। তার মতে, অর্থ লেনদেনের জটিলতা দূর করা গেলে ব্যবসায়িক যোগাযোগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণ অনেক সহজ হবে। ঢাকায় নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার গ্রিগোরিভিচ খোজিন দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের চাহিদা পূরণে বিদ্যমান নিয়ন্ত্রণমূলক ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সহজ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে পণ্য পরিবহণ, লজিস্টিকস এবং বাজারে প্রবেশের বাধাগুলো দূর করতে হবে। এ সময় বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং কৌশলগত অংশীদারত্ব বৃদ্ধির লক্ষ্যে এফবিসিসিআই এবং রাশিয়া-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়।
যেসব খাতে বিনিয়োগ চায় বাংলাদেশ : এফবিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে রুশ ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশের ওষুধ, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, পাট ও বহুমুখী পাটপণ্য, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাদুকা, আসবাবপত্র এবং খাদ্যপণ্য খাতে বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়েছে। এছাড়া জ্বালানি, প্রযুক্তি স্থানান্তর, টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের (এসএমই) উন্নয়ন, অর্থায়ন এবং বাজার সম্প্রসারণে সহযোগিতার সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়। বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল ও হাইটেক পার্কে রুশ উদ্যোক্তাদের যৌথ উদ্যোগে শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে এফবিসিসিআই।
বাণিজ্যের পথে যেসব বাধা : বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য সম্প্রসারণে কয়েকটি বড় প্রতিবন্ধকতা তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে সুইফটসহ প্রচলিত ব্যাংকিং ও পেমেন্ট ব্যবস্থায় বিঘ্ন, রপ্তানি আয়ের অর্থ দেশে আনতে জটিলতা এবং দ্বিতীয় পর্যায়ের নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি। এছাড়া পণ্য পরিবহণে উচ্চ ব্যয়, ট্রানজিট জটিলতা, বিমা ও আর্থিক নিশ্চয়তা প্রদানে সীমাবদ্ধতা এবং নিয়মিত শিপিং রুটের বিঘ্ন বাণিজ্যকে ব্যাহত করছে। বৈঠকে রাশিয়া-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান মিয়া সাত্তার, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের চেয়ারম্যান আব্দুল হাই সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংকের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ড. ইমাম আবু সাঈদ, ব্যবসায়ী নেতা কামরান টি রহমান, মীর নিজাম উদ্দিন আহমেদ, আব্দুল হক, প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
