কলেজ অব অ্যাপ্লায়েড হিউম্যান সায়েন্স
রাতভর পার্টি নিয়ে উত্তেজনা, অধ্যক্ষ ১৩ ঘণ্টা অবরুদ্ধ
ঢাবি ও হাজারীবাগ (ঢাকা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাজধানীর লালবাগের আজিমপুরে কলেজ অব অ্যাপ্লায়েড হিউম্যান সায়েন্সে (সাবেক গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজ) উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। আবসিক হলের বার্ষিক অনুষ্ঠান ও বিদায়ী পার্টি নির্ধারিত সময়ের বাইরে আয়োজনের অভিযোগে দুই ছাত্রীর আবাসিক সিট বাতিল নিয়ে এ ঘটনা ঘটে। উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মেহেরুন নেছাকে তার কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখেন। এ সময় তার পদত্যাগের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন তারা। অবশেষে রাত ১১টার দিকে ১৩ ঘণ্টা পর পুলিশ অধ্যক্ষকে উদ্ধার করে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, গত ১২ অক্টোবর জাহানারা ইমাম হলে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের মাস্টার্স শিক্ষার্থীদের বিদায় উপলক্ষ্যে বার্ষিক অনুষ্ঠান ও পার্টির আয়োজন করা হয়। শিক্ষকদের অনুমতি নিয়েই অনুষ্ঠান শুরু হয়। রাত সাড়ে ১০টার দিকে শিক্ষকরা এসে অনুষ্ঠান উদ্বোধন করে যান। তবে রাত ১২টা পর্যন্ত অনুমতি থাকলেও অনুষ্ঠান চলে ভোর পর্যন্ত। এ ঘটনায় পরে দুই ছাত্রীর আবাসিক সিট বাতিলের নোটিশ দেওয়া হয়। সিট বহাল রাখার শর্তে ১২ হাজার ৬০০ টাকা পরিশোধ করতে বলা হয়।
অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মেহেরুন নেছা যুগান্তরকে বলেন, শিক্ষার্থীরা প্রথমে বিকালে অনুষ্ঠান করতে চাইলেও কলেজে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান থাকায় অন্য সময় নির্ধারণ করতে বলা হয়। পরে সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত অনুমতি দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীদের অনুরোধে সময় বাড়িয়ে প্রথমে রাত ১১টা এবং শেষ পর্যন্ত রাত ১২টা করা হয়। তবে আদেশ না মেনে শিক্ষার্থীরা ভোর ৪টা পর্যন্ত চালিয়েছেন। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে এর দায় কে নিত, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি। অধ্যক্ষ জানান, এ কারণে সংশ্লিষ্ট দুই ছাত্রীর সিট বাতিলের নোটিশ দেওয়া হয়। ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তাবাসসুম অভিযোগ করেন, কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই হলের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের দুই শিক্ষার্থীর আবাসিক আসন বাতিল করা হয়। তাবাসসুমের অভিযোগ, ওই দুই শিক্ষার্থীর কাছে ১২ হাজার ৬০০ টাকা দাবি করা হয়। টাকার পরিমাণ কমানোর অনুরোধ জানিয়ে এক শিক্ষার্থী অধ্যক্ষের পা পর্যন্ত ধরেন। এরপরও তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন।
ছাত্রীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ : অধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জের অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। এতে দুই শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। বৃহস্পতিবার রাতে অধ্যক্ষকে উদ্ধারের পর কলেজের সামনের সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন ছাত্রীরা। রাত ১২টার পরও শতাধিক শিক্ষার্থীকে সড়কে অবস্থান করতে দেখা যায়। এ সময় তারা অধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান তোলেন। রাত সোয়া ১২টার দিকে সংবাদ সম্মেলন করে চার দফা দাবি জানান আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। দাবিগুলো হলো-শুক্রবার ক্যাম্পাসে কোনো সরকারি পরীক্ষা নেওয়া যাবে না। ক্যাম্পাসের ভেতরে শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ করা পুলিশ সদস্যদের শোকজ করতে হবে। অধ্যক্ষের পদত্যাগের লিখিত ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত ক্যাম্পাসের সব কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখতে হবে এবং হামলায় উসকানিদাতা শিক্ষক-কর্মচারীদের অবাঞ্ছিত ঘোষণা করতে হবে। পুলিশের লালবাগ বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোস্তাক সরকার গণমাধ্যমকে বলেন, অধ্যক্ষ বর্তমানে নিরাপদে আছেন। কলেজের সামনে বেশকিছু শিক্ষার্থী অবস্থান নিয়েছে। তাদের কলেজ ক্যাম্পাসে চলে যেতে বলা হয়েছে।
