গাজীপুরে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের বিক্রি কমেছে ৭০%
ছবি: যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা এলাকায় একটি খাবার হোটেল চালান আব্দুস সালাম। স্বাভাবিক সময়ে তার হোটেলে প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকার খাবার বিক্রি হতো। কিন্তু পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলন শুরুর পর সেই বিক্রি নেমে এসেছে ৩ থেকে ৪ হাজার টাকায়। একই অবস্থা চন্দ্রা পল্লীবিদ্যুৎ এলাকার হালিম মিয়ার চা-বিস্কুটের দোকানেও। আগে প্রতিদিন প্রায় ৫ হাজার টাকার চা-নাশতা বিক্রি হলেও এখন হচ্ছে মাত্র ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা।
শুধু আব্দুস সালাম কিংবা হালিম মিয়া নন, পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন, সড়ক অবরোধ ও সংঘর্ষের প্রভাবে চরম বিপাকে পড়েছেন গাজীপুরের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলের ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা। কয়েক দিনের ব্যবধানে অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বিক্রি অর্ধেকেরও নিচে নেমে এসেছে। কোথাও দোকানপাট বন্ধ রাখতে হচ্ছে, কোথাও ক্রেতার দেখা মিলছে না। অথচ দোকান ভাড়া, কর্মচারীদের বেতন ও অন্যান্য পরিচালন ব্যয় বহন করতে হচ্ছে তাদের।
বুধবার গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা, চন্দ্রা পল্লীবিদ্যুৎ ও সফিপুর এলাকায় অন্তত ১২ জন ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। তাদের প্রায় সবারই দাবি, দ্রুত শ্রমিক অসন্তোষের সমাধান করে শিল্পাঞ্চলে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হোক।
সরেজমিন দেখা যায়, বুধবার সকাল ৭টা থেকে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত চন্দ া, পল্লীবিদ্যুৎ ও সফিপুর এলাকার মহাসড়কসংলগ্ন বেশির ভাগ দোকানপাট, খাবারের হোটেল, চায়ের দোকান, ফার্মেসি, জুতার দোকান ও মুদি দোকান বন্ধ ছিল। পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে বিকাল ৩টার দিকে ব্যবসায়ীরা দোকান খুলতে শুরু করেন। দোকান খোলা থাকলেও ক্রেতার উপস্থিতি ছিল কম। কয়েকজন ব্যবসায়ীকে দোকানের সামনে বসে অলস সময় কাটাতে দেখা যায়।
চন্দ্রা পল্লীবিদ্যুৎ এলাকার হার্ডওয়্যার ব্যবসায়ী লিটন মিয়া বলেন, বেচাকেনা হবে কখন, দোকানই তো ঠিকমতো খুলতে পারছি না। বিকালে দোকান খুললেও তেমন বেচাকেনা হচ্ছে না। এভাবে চলতে থাকলে দোকানের খরচ চালানো কঠিন হয়ে যাবে। গাজীপুর মহানগরীর ভোগড়া এলাকার চিত্রও প্রায় একই। এখানকার ছোট খাবারের দোকান, মুদি দোকান, চায়ের দোকান, ফলের দোকান ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো ক্রেতা সংকটে পড়েছে। শ্রমিক আন্দোলনের খবর ছড়িয়ে পড়লে অনেক ক্রেতা নিরাপত্তার আশঙ্কায় ঘর থেকে বের হচ্ছেন না।
ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কসংলগ্ন ভোগড়া এলাকায়ও ক্রেতাদের আনাগোনা কমেছে। ভোগড়া পাইকারি মার্কেটের ব্যবসায়ী হুমায়ূন কবীর বলেন, স্বাভাবিক সময়ে শ্রমিক, পরিবহণ চালক ও স্থানীয় মানুষের কেনাকাটায় দোকান চলে। কিন্তু আন্দোলনের কারণে মানুষের চলাচল কমে যাওয়ায় বিক্রি অনেক কমেছে। কয়েক দিনের লোকসান পুষিয়ে নেওয়া কঠিন হবে।
গাজীপুর মহানগরীর চৌরাস্তা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি হাবিব চৌধুরী বলেন, শ্রমিক আন্দোলনের কারণে বাজার ও মহাসড়কের পাশের মার্কেটগুলোর ব্যবসায়ীরা লোকসানের মধ্যে রয়েছেন। অনেক দোকানে বেচাকেনা নেই। কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মাহফুজুর রহমান বলেন, এভাবে চলতে থাকলে মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কের দুই পাশের ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বেন। অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর পক্ষে দীর্ঘদিন লোকসান বহন করা সম্ভব হবে না।

