কোনাবাড়ী থানার ওসির বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ
গাজীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বিয়ের প্রলোভন দিয়ে এক তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে গাজীপুর মেট্রোপলিটনের কোনাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইফতেখার হোসেনের বিরুদ্ধে। অভিযোগে সোহেল নামে তার এক সহযোগীর নামও রয়েছে। এ ঘটনায় গত ২৪ সেপ্টেম্বর গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভিকটিম ওই তরুণী। তার বাড়ি গাজীপুর মহানগরের কাশিমপুর এলাকায়। ওসি এবং তার লোকজনের হুমকির কারণে ভিকটিম ও তার পরিবার আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন বলেও জানিয়েছেন।
অভিযোগ দেওয়ার প্রায় দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানিয়েছেন গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
অভিযোগে ওই তরুণী বলেন, এক বছর পাঁচ মাস আগে ওসি ইফতেখার হোসেন কাশিমপুর থানায় কর্মরত থাকা অবস্থায় তিনি (তরুণী) ব্যক্তিগত অভিযোগ নিয়ে থানায় যান। সেই সুযোগে ওসি ইফতেখার তার মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে নিয়মিত কথা বলে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। এ সময় ওসি নিজেকে অবিবাহিত উল্লেখ করে ওই তরুণীকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেন।
অভিযোগে ভিকটিম তরুণী আরও বলেন, ‘দীর্ঘদিন ওসি ইফতেখার হোসেন তার বন্ধু সোহেলের বাসায় আমাকে নিয়ে যেতেন এবং বিয়ের প্রলোভন দিয়ে আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক করতেন। ওসি ইফতেখারের এ অপরাধের সঙ্গে সোহেল সরাসরি জড়িত। সে আমাকে নিয়মিত ওসির সঙ্গে দেখা করানোর জন্য নিয়ে যেত এবং ওসির জন্য তার নিজের বাসাকে নিরাপদ আস্তানা হিসাবে ব্যবহার করতে দিত। পরে বিয়ের জন্য চাপ দিলে ওসি আমাকে ৫ বছর অপেক্ষা করতে বলেন। সবশেষ বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান।’
তিনি আরও বলেন, ‘গত ১১ সেপ্টেম্বর ওসি তার বন্ধু সোহেল এবং তার কথিত এক আঙ্কেলকে আমার বাসায় পাঠান। এ সময় তারা আমাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক আমার মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে ওসির সঙ্গে থাকা সব কল রেকর্ড ও মেসেজ ডিলিট করে দেন। বর্তমানে ওসি ইফতেখার এবং তার সহযোগী সোহেল ক্ষমতার অপব্যবহার করে যে কোনো সময় আমার ও পরিবারের বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে। এছাড়া মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দিতে পারে। ওসি আমার মা-বাবাকে বার্তা পাঠান যেন আমাকে বিয়ে দিয়ে দেওয়া হয় এবং তিনি বিয়ের জন্য কিছু টাকা দেবেন।’
ওই তরুণী বলেন, ‘কমিশনার সাহেবের কাছে অভিযোগ দেওয়ার পর থেকে ওসি আমাকে ও আমার পরিবারকে হুমকি দিচ্ছেন। বাসা থেকেও বের হতে পারছি না তাদের ভয়ে। আমি এর বিচার চাই।’ এ ব্যাপারে কোনাবাড়ী থানার ওসি মো. ইফতেখার হোসেন বলেন, এগুলো সব মিথ্যা কথা। গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. তাহেরুল হক চৌহান বলেন, একটি অভিযোগ পেয়েছি। এটা তদন্তাধীন আছে। তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
