লুটপাট আর দুর্নীতি হালাল করতেই জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি: মির্জা ফখরুল
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৮ আগস্ট ২০২২, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
লুটপাট আর দুর্নীতির টাকা হালাল করতেই সরকার জ্বালানির দাম বাড়িয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রোববার নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এক সমাবেশে তিনি বলেন, আমাদের রাজনীতি, অর্থনীতি এমনকি ভবিষ্যৎকে তারা ধবংস করে দিচ্ছে। মধ্যরাতে তেলের দাম বাড়িয়ে সরকার দেশের মানুষের সর্বনাশ করেছে। এভাবে দেশ চলতে পারে না।
ভোলায় পুলিশের গুলিতে স্বেচ্ছাসেবক দলের আবদুর রহিম ও ছাত্রদলের নুরে আলমের মৃত্যু এবং জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে কৃষক দলের উদ্যোগে এ সমাবেশ হয়। সকাল সাড়ে ১০টায় শুরু হয়ে সমাবেশটি দুপুর ১টা পর্যন্ত চলে। রাজধানীর বিভিন্ন ওয়ার্ড ছাড়াও ঢাকার আশপাশের জেলাগুলো থেকে কৃষক দলের নেতাকর্মীরা কালো ব্যাজ বুকে লাগিয়ে সমাবেশে অংশ নেন।
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির নেতিবাচক প্রভাব তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, অনেকে বাইক চালিয়ে তাদের সংসার চালান। তারা এখন চোখে অন্ধকার দেখছেন। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে সারের দাম বাড়বে, যাতায়াত খরচ বাড়বে। সবকিছুর দাম বাড়বে। অর্থনীতি খারাপের দিকে যাবে। তেলের দাম বাড়ানোর কারণ হিসাবে সরকার বলছে পেট্রোলিয়াম করপোরেশন লোকসানে যাচ্ছে। কিন্তু লোকসানে কেন যাবে? ৫ বছর তো এ প্রতিষ্ঠান লাভ করেছে প্রায় ৩৯ হাজার কোটি টাকা। তখন আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কম ছিল। কিন্তু আপনারা কমাননি। এখন আন্তর্জাতিক বাজারে ফের তেলের দাম কমতে শুরু করেছে। সরকারের মন্ত্রীরা বলছেন বিশ্বের সব দেশে নাকি তেলের দাম আমাদের চেয়ে বেশি। যুক্তরাষ্ট্রে ১৪ ডলার ছিল, তেলের দাম কমার সঙ্গে সঙ্গে তা ৩ ডলারে পৌঁছেছে। অর্থাৎ আন্তর্জাতিক বাজারে যখন তেলের দাম কমছে তখন তারাও কমায়। অথচ আন্তর্জাতিক বাজারে যখন তেলের দাম কমে তখন আমাদের দেশে তেলের দাম বাড়ানো হয়। সরকার যে লুটপাট করে, তারা যে চুরি করে, দুর্নীতি করে সেই টাকাকে হালাল করতে দাম বাড়ানো হয়েছে।
তিনি দাবি করেন, সরকার সবকিছুতেই মিথ্যা তথ্য দিচ্ছে। এদের তথ্যে বিভ্রান্ত না হয়ে বিষয়টা-আপনার নিজেকে প্রশ্ন করুন। তাহলে দেখবেন-চাল, তেল, সবজি, মাছ, মাংসের দাম কত বেড়েছে। তাহলে বুঝবেন এ দেশের অবস্থা কি? গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি, ডিজেল, অকটেন সবকিছুর দাম বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এ বৃদ্ধি সরকারি দলের জন্য তেমন কিছুই নয়। কারণ, তাদের পকেটে বহু দুর্নীতির ও ঘুসের টাকা আছে। কিন্তু আমাদের পকেটে নিজের বেঁচে থাকার পয়সাটুকু শেষ হয়ে যাচ্ছে।
সরকারের উদ্দেশে ফখরুল বলেন, অবিলম্বে পদত্যাগ করে নিরপেক্ষ সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করুন। সংসদ বিলুপ্ত করুন। একটি নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করে তার মাধ্যমে জনগণের পার্লামেন্টে জনগণের প্রতিনিধি নির্বাচিত করে তারাই সরকার প্রতিষ্ঠা করবে। এটাই হচ্ছে আমাদের একমাত্র পথ। ভোলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত পুলিশ কর্মকর্তাকে অবিলম্বে গ্রেফতার ও বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি জানান তিনি। কৃষক দলের সভাপতি হাসান জাফির তুহিনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুলের পরিচালনায় সমাবেশে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু, কেন্দ্রীয় নেতা শামসুজ্জামান দুদু, আমান উল্লাহ আমান, আবদুস সালাম, রুহুল কবির রিজভী, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, ফজলুল হক মিলন, আবদুস সালাম আজাদ, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, যুবদলের সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, মোনায়েম মুন্না, ঢাকা মহানগর বিএনপি দক্ষিণের রফিকুল আলম মজনু, উত্তরের আমিনুল হকসহ কৃষক দলের নাসির হায়দার, জামাল উদ্দিন খান মিলন, মামুনুর রশিদ খান, এসএম ফয়সাল, খন্দকার নাসিরুল ইসলাম, ভিপি ইব্রাহিম, সৈয়দ অলি উল্লাহ সিদ্দিকী, ওবাইদুর রহমান টিপু, মাহমুদা হাবিবা, মেহেদি হাসান পলাশসহ কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য দেন।
এদিকে বিকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ড্যাবের ৩৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এক আলোচনায় অংশ নিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশের কোনো প্রতিষ্ঠান ভালোভাবে গড়ে ওঠেনি। ভালো স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। ফলে আমাদের বাংলাদেশ ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। এর পেছনে বড় অবদান আওয়ামী লীগের। ড্যাব সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশিদের সভাপতিত্বে ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ডা. মেহেদী হাসান ও ডা. মো. আবুল কেনানের সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য দেন, অ্যাবের রিয়াজুল ইসলাম রিজু, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের কাদের গণি চৌধুরী, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা শামীমুর রহমান শামীম, ডা. শহীদুল আলম, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের প্রকৌশলী মাহবুব আলম, ড্যাবের ডা. মো. আবদুস সালাম, ডা. এমএ সেলিম, ডা. জহিরুল ইসলাম শাকিল, ডা. সিরাজুল ইসলাম, ডা. সায়েদুল হক, ডা. পরিমল চন্দ্র, ডা. ফারুক কাশেম, ডা. কামরুল হাসান সরদার, ডা. মো. ফখরুজ্জামান ফখরুল প্রমুখ।
