ডিজিটাল আইন বাতিল দাবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৮ শিক্ষকের
Advertisement
ঢাবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৪ এপ্রিল ২০২৩, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
দেশে মানবাধিকার এবং মতপ্রকাশের পরিস্থিতি অবনতি হওয়ায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলসহ তিন দফা দাবি জানিয়েছেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৮ জন শিক্ষক। সোমবার বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্কের এক বিবৃতিতে তারা এ দাবি জানান।
বিবৃতিদাতা শিক্ষকদের তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে-প্রথম আলো ও যুগান্তরের সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার; সুলতানা জেসমিনের মৃত্যুর জন্য দায়ী র্যাব সদস্যদের বিচারের আওতায় আনা এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল।
বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রুশাদ ফরিদী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলার সহযোগী অধ্যাপক কাজী শুসমিন আফসানা, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক গাজী মো. মাহবুব মুর্শিদ, বশেমুরবিপ্রবি সহকারী অধ্যাপক ড. আরিফুজ্জামান রাজীব, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রায়হান রাইন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক আরাফাত রহমান, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের প্রভাষক প্রিয়াংকা কুন্ডু, কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক মিম আরাফাত মানব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কাজলী সেহরীন ইসলাম প্রমুখ।
বিবৃতিতে শিক্ষকরা বলেছেন, ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনে মামলা হয়েছে প্রথম আলোর সম্পাদক ও সাংবাদিকের বিরুদ্ধে। একই আইনে চট্টগ্রামে মামলা দেওয়া হয়েছে যুগান্তরের এক সাংবাদিকের বিরুদ্ধেও। সরকার এ আইন প্রবর্তন করেছে জনমানসে ভয় সৃষ্টির জন্য।
শিক্ষকরা আরও বলেন, বৈশ্বিক প্রেস ফ্রিডম সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান এখন ১৮০টি দেশের মধ্যে ১৬২তম। এ সরকার ক্ষমতায় আসার পর সূচকে অবস্থান কেবলই পিছিয়েছে, কখনো এগোয়নি।
শিক্ষকরা বলেন, একজনের মন্তব্য ও আরেকজনের ছবি দিয়ে যে ফটোকার্ড ছেপেছিল প্রথম আলো, তা কিছুক্ষণের মধ্যেই সরিয়ে নেয় এবং সংশোধিত রিপোর্ট ছাপে। বিক্ষুব্ধ পক্ষ প্রেস কাউন্সিলে না গিয়ে যে পদ্ধতি অবলম্বন করেছে, তা চরম অগণতান্ত্রিক মানসিকতারই বহিঃপ্রকাশ।
এরপর এডিটর গিল্ডস, সম্পাদক ফোরাম প্রভৃতি সাংবাদিকদের সংগঠন সরকারের নিবর্তনকে চিহ্নিত না করে পত্রিকাকেই দায়ী করে। এ দলে যোগ দেয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি। নেতারা তাদের বিবৃতিতে সরকারের কাণ্ডের পক্ষে নির্জলা তোষামোদী বক্তব্য হাজির করেছে, যা আমাদের চরমভাবে লজ্জিত ও মর্মাহত করেছে।
