Logo
Logo
×

Advertisement

দ্বিতীয় সংস্করণ

৩৩ ঘণ্টা পর যান চলাচল

শাহবাগে জুলাই আহতদের দুই গ্রুপে সংঘর্ষ

Advertisement

Icon

ঢাবি প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০২ আগস্ট ২০২৫, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

জুলাই সনদ ঘোষণা ও বাস্তবায়নের দাবিতে টানা দ্বিতীয় দিনেও রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধ করেন জুলাই আহতরা। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে ‘জুলাই যোদ্ধা সংসদ’ প্ল্যাটফর্মে আন্দোলনকারীরা শাহবাগে অবস্থান শুরু করেন। রাতভর অবস্থানের পর শুক্রবারও সকাল থেকে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন তারা। পরে শুক্রবার বিকালে ‘জুলাই যোদ্ধাদের’ আরেকটি পক্ষ অবরোধের বিরোধিতা করলে তাদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। সন্ধ্যার দিকে তা সংঘর্ষে রূপ নিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে পুলিশ অবস্থান নেয়। পরে সংঘাত নিয়ন্ত্রণে পুলিশ উভয়পক্ষকে শাহবাগ মোড় থেকে সরিয়ে দেয় ও তাদের অস্থায়ী মঞ্চটিও অপসারণ করা হয়। সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে সড়ক খালি হওয়ার পর দীর্ঘ ৩৩ ঘণ্টা পর শাহবাগ এলাকায় যান চলাচল শুরু হয়।

অবরোধের বিরোধিতাকারী ‘জুলাই যোদ্ধারা’ সাংবাদিকদের বলেন, প্রকৃত জুলাই যোদ্ধারা সড়ক অবরোধ করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করতে পারেন না। কিন্তু জুলাই যোদ্ধা পরিচয়ে কিছু মানুষ শাহবাগ মোড় অবরোধ করে সাধারণ মানুষদের হেনস্তা করছেন। আমরা এর প্রতিবাদ জানাই।

তাছাড়া, একই দাবিতে শাহবাগে সমাবেশ করেছেন জুলাই অভ্যুত্থানকেন্দ্রিক গড়ে ওঠা রাজনৈতিক দল আপ বাংলাদেশ। শুক্রবার সকাল থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচি চলে বৃষ্টির মধ্যেও যেখানে শহীদ পরিবারের সদস্যরাও অংশ নেন। আপ বাংলাদেশের নেতারা ৫ আগস্টের পূর্বেই জুলাই সনদ ঘোষণার দাবি জানান।

অবরোধকারী জুলাই আহত ও আপ বাংলাদেশের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- জুলাই শহীদ ও জুলাই যোদ্ধাদের স্বীকৃতি, শহীদ পরিবার ও আহতদের আজীবন সম্মান, চিকিৎসা, শিক্ষা ও কল্যাণের পূর্ণ নিশ্চয়তা প্রদান করা, শহীদ পরিবার ও আহতদের প্রতি দায়িত্ব গ্রহণ করা, আহতদের সব চিকিৎসা, পুনর্বাসন, কর্মসংস্থান ও কল্যাণমূলক ব্যয় রাষ্ট্রকে বহন করা, আহত ও শহীদ পরিবারের জন্য আজীবন সম্মানজনক ভাতা নিশ্চিত করা, শহীদ পরিবার ও আহতদের জন্য বিশেষ আইনি সুরক্ষা ও সহায়তা কেন্দ্র গঠন করা, শহীদ ও আহতদের ওপর সংঘটিত দমন-পীড়নের জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে বিচার সম্পন্ন করা এবং একটি স্বাধীন সত্য ও ন্যায় কমিশন গঠন করা ইত্যাদি।

বিকালে সরেজমিন শাহবাগ মোড়ে দেখা যায়, আন্দোলনকারী জুলাই আহত ও আপ বাংলাদেশের নেতাকর্মীরা বৃষ্টির মধ্যেও সেখানে অবস্থান করেছেন। আহতরা শাহবাগ মোড়ের চার পাশে ব্যারিকেড দিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে রেখেছেন। এতে শাহবাগ মোড় দিয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আশপাশের সব সড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়। চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রী ও পথচারীরা।

এদিন বিকালে আন্দোলনকারীরা বলেন, দাবি আদায়ে সরকারের উদাসীনতা ও নীরবতা আমাদের রাজপথে নামতে বাধ্য করেছে। আহত ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা বারবার দাবি জানালেও কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় আমরা এই কর্মসূচি পালন করছি। আমরা বাঁচতে চাই, মরতে চাই না। কিন্তু সরকার যদি আমাদের দাবি না মানে, তবে আমরা প্রয়োজনে আবার রক্ত দেব, তবুও রাজপথ ছাড়ব না।

জুলাই যোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক আরমান শাফিন বলেন, সরকার থেকে এ-সংক্রান্ত ইতিবাচক সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব। দেশের ৬৪ জেলা থেকে জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য ও জুলাই যোদ্ধারা আমরা যার যার খাবার-দাবার নিয়ে এসে এখানে বসেছি, যতক্ষণ পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত না আসবে ততক্ষণ আমরা থাকব।

শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালিদ মনসুর বলেন, অবরোধকারীরা বৃহস্পতিবার রাতভর শাহবাগ মোড়ে অবস্থান করেন ও শুক্রবারও তারা কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছিলেন। পরে সন্ধ্যার দিকে তাদের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ হলে পুলিশ তাদের শাহবাগ থেকে সরিয়ে দেয়। এতে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

ন্যূনতম মজুরি বোর্ডের প্রথম বৈঠক আজ

ন্যূনতম মজুরি বোর্ডের প্রথম বৈঠক আজ

শিল্প খাতে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টাকারীদের কঠোর হাতে দমন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

শিল্প খাতে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টাকারীদের কঠোর হাতে দমন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ধর্মনিরপেক্ষতার দোহাই শতবর্ষী মসজিদ সরাতে চায় মোদি সরকার

শতবর্ষী মসজিদ সরাতে চায় মোদি সরকার

পুলিশের গাড়ি কেনাসহ ১৪ প্রকল্প উঠছে একনেকে

পুলিশের গাড়ি কেনাসহ ১৪ প্রকল্প উঠছে একনেকে

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম