আবুধাবি টেস্ট
মরুর বুকে জয়ের সুবাস
Advertisement
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বাংলাদেশের দরকার সাত উইকেট। আফগানিস্তানের প্রয়োজন ৩৪৭ রান। আবুধাবি টেস্টের পঞ্চমদিনে আজ এই সমীকরণের সামনে দাঁড়িয়ে দুই দল। বাংলাদেশের দেওয়া ৪৭৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করে জিতবে আফগানিস্তান, এ কথা হয়তো তারাও কল্পনা করবে না। সোমবার চতুর্থদিন শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে আফগানরা দাঁড়িয়ে ১৩২/৩-এ। জেতার জন্য তাদের চাই আরও ৩৪৭ রান। বাংলাদেশের জন্য আশাব্যঞ্জক ব্যাপার হলো, প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান আফগান অধিনায়ক রহমত শাহকে ফিরিয়ে দেওয়া। ৫১ রানে ইবাদতের কল্যাণে লিটনের গ্লাভসবন্দি হয়ে সাজঘরে ফেরার আগে সেদিকউল্লাহ আতালের সঙ্গে তৃতীয় উইকেটে ৮২ রান যোগ করেন রহমত। আজ শেষদিনে আফগানদের জন্য তিন সেশন পার করা হবে অনতিক্রম্য পাহাড় ডিঙানোর মতো। বাংলাদেশ জয়ের সুবাস পাচ্ছে মরুর বুকে।
এর আগে লিটন দাসের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি ও মেহেদী হাসান মিরাজের কার্যকর ফিফটিতে বড় সংগ্রহ গড়ে আফগানিস্তানের সামনে ৪৭৯ রানের লক্ষ্য ছুড়ে দেয় বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে ১০৬ রানের লিড নেওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে সাত উইকেটে ৩৭২ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ। মরুর বুকে একমাত্র টেস্টে জয়ের সুবাস পাচ্ছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল।
বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসের মূল নায়ক লিটন। অধিনায়ক নাজমুল ও মুশফিকুর রহিম সেঞ্চুরি মিস করলেও লিটন তিন অঙ্কের ঘরে পৌঁছান। ১০২ রানের ইনিংস খেলার পথে টেস্টে নিজের সপ্তম সেঞ্চুরি তুলে নেন এই উইকেটকিপার-ব্যাটার। তার সঙ্গে সপ্তম উইকেটে ১৪৯ রানের জুটি গড়েন মিরাজ। ৫১ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। এই জুটি আরও একবার প্রমাণ করেছে, বিপদে পড়লে দলকে টেনে তোলার সামর্থ্য তাদের আছে। টেস্টে দুজনের এটি চতুর্থ শতরানের জুটি।
সাদা বলের দুই ফরম্যাটে টানা চার ইনিংসে শূন্য রানে ফেরা লিটনের ইনিংসে ছিল দৃষ্টিনন্দন শটের সমাহার। তবে সেঞ্চুরির পথে একাধিকবার জীবনও পেয়েছেন তিনি। ১৪ রানে স্লিপে তার ক্যাচ ছাড়েন শাহিদুল্লাহ। ২৬ রানে নিজের বলে ক্যাচ নিতে পারেননি কায়েস আহমেদ। ৬৭ রানে আম্পায়ারের সিদ্ধান্তে বেঁচে যান লিটন। রিভিউ না থাকায় সেই যাত্রায় রক্ষা পান তিনি। ৯৪ থেকে পুল শটে চার মেরে ৯৮, এরপর পয়েন্ট দিয়ে বল ঠেলে দুই রান নিয়ে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। এই সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশের উইকেটকিপার হিসাবে টেস্টে সর্বোচ্চ শতকের রেকর্ডে মুশফিকুর রহিমের পাশে বসেন লিটন। সেঞ্চুরির পথে বাংলাদেশের পঞ্চম ব্যাটার হিসাবে তিন সংস্করণ মিলিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নয় হাজার রানের মাইলফলক অতিক্রম করেন তিনি। তার আউটের পরপরই ইনিংস ঘোষণা করেন অধিনায়ক নাজমুল। বাংলাদেশের লিড তখন ৪৭৮ রানের। এরপর আফগানিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংসে শুরুতেই আঘাত হানেন ইবাদত। ইনিংসের প্রথম বলেই আবদুল মালিককে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন তিনি। ১৯ রান করা শহিদুল্লাহকে ফেরান হাসান মাহমুদ শর্ট বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ বানিয়ে। এরপর রহমত ও সেদিকউল্লাহ প্রতিরোধ গড়েন। ভাগ্যও সহায় ছিল তাদের। ১৬ রানে রহমতের ক্যাচ ছাড়েন তানজিদ হাসান। পরে আতালের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝিতে রানআউট হওয়ার সুযোগ থেকেও বেঁচে যান আফগান অধিনায়ক। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে রহমত তুলে নেন ফিফটি। প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরির পর দ্বিতীয় ইনিংসেও ৫০ ছুঁয়ে অধিনায়ক হিসাবে অভিষেক টেস্টেই বিরল কীর্তি গড়েন তিনি। নেতৃত্বের অভিষেকে সেঞ্চুরি ও ফিফটি করা ষষ্ঠ অধিনায়ক রহমত। ফিফটির পর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি তিনি। এই ম্যাচে লিটনের ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি কিপিংও রেকর্ডবুকে জায়গা করে নিয়েছে।
