Logo
Logo
×

Advertisement

খেলা

আবুধাবি টেস্ট

অনেক মিসের মিছিলে জয় হাতছাড়া

Advertisement

Icon

ক্রীড়া ডেস্ক

প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

সেদিকউল্লাহ আতাল অটল পর্বতের মতো দাঁড়িয়েছিলেন বাংলাদেশের সামনে। অটল-অনড় সেদিকউল্লাহকে কিছুতেই টলানো যাচ্ছিল না। শেষমেশ তার প্রতিরোধ ব্যুহ ভাঙলেন তাইজুল ইসলাম। বাংলাদেশি স্পিনারের ভেতরে ঢোকা বাড়তি বাউন্সের একটি বল ডিফেন্ড করার চেষ্টা করেন আতাল। বল তার ব্যাটের কানায় লেগে প্যাডের উপর দিয়ে শর্ট লেগের দিকে চলে যায়। ক্যাচ নিতে বেগ পেতে হয়নি তানজিদ হাসানকে। রিভিউ নিয়েও রক্ষা পাননি আতাল। তার বীরোচিত ম্যারাথন ইনিংসের সমাপ্তি ঘটে। আট ঘণ্টা ও ৩৪ মিনিটে ৩৩২ বল খেলে ১১১ রানের সম্বল নিয়ে আফগান ব্যাটার সাজঘরে ফেরেন হতাশার ছায়ায় হেঁটে। চতুর্থ ইনিংসে এটি কোনো আফগান ব্যাটারের প্রথম সেঞ্চুরি। তখনো আবুধাবি টেস্টের শেষদিনের ২১.২ ওভার বাকি। বাংলাদেশ একমাত্র টেস্টে জয় থেকে তিন উইকেট দূরে। কিন্তু আতালের প্রস্থানে বুক থেকে অস্বস্তির পাথর নেমে যাওয়ার পর টানা দুই বলে দুটি রানআউটের সুযোগ হাতছাড়া করলেন বাংলাদেশের ফিল্ডাররা। লিটন দাসের দুই ইনিংসে পঞ্চাশোর্ধ রান (৫৩ ও ১০২) এবং নয়টি ডিসমিসালের বিশ্বরেকর্ড গড়া টেস্টে যেন জয়টাই হাতছাড়া হলো। যন্ত্রণায় বিদ্ধ হওয়া তখনো বাকি। ডিপ মিডউইকেটে কায়েস আহমেদের সহজ ক্যাচ ফেলে দেন হাসান মাহমুদ। হতভাগা বোলার মেহেদী হাসান মিরাজ। এরপর আফগানের অষ্টম উইকেটের পতন ঘটে ইয়ামিন আহমাদজাইয়ের (৮৫ বলে ১৯) আউট হওয়ার মধ্যদিয়ে। তখন দুই ওভার বাকি। উইকেটও দুটি। শেষ দুই ওভার কায়েস আহমাদ কাটিয়ে দেন ৮০ বলে অপরাজিত ৪৯ রানের ইনিংস খেলে। ১২ বল খেলে রানের খাতা না খুলে জিয়া-উর-রেহমান কায়েসকে যোগ্য সঙ্গ দেন। দুজন মিলে পার করে দেন শেষ পাঁচ ওভার। আফগাস্তিান ৩৪৬/৮-এ দ্বিতীয় ইনিংস শেষ করে জয়তুল্য ড্র পেয়ে যায়। দুই অধিনায়ককে ট্রফি ভাগ করে নিতে হয়।

বাংলাদেশের জয় হাতছাড়া করা এবং আফগানদের ‘লড়াই লড়াই লড়াই চাই, লড়াই করে বাঁচতে চাই’ মানসিকতা শেষ বিকালে আবুধাবি টেস্টকে রোমাঞ্চকর করে তোলে। আতাল তো অটল ছিলেনই। অন্যরাও প্রতিরোধের প্রাচীর তুলতে পিছপা হননি। কায়েসের অবস্থা হয়েছিল ‘তপ্ত টিনের ছাদে বিড়ালের’ মতো। ৮০ বল খেলা তার জন্য ছিল অভিশাপের মতো। বাংলাদেশের ফিল্ডাররা মাকড়শার জালের মতো ঘিরে ধরেছিলেন। কিন্তু ওই যে, দুটি সহজ রানআউট এবং তার চেয়ে সহজ ক্যাচ বিসর্জন, তার খেসারত তো দিতেই হবে। আফগানিস্তান ১৪২ ওভারের পাহাড় টপকাল বুক চিতিয়ে লড়াই করে। টেস্ট ম্যাচ বাঁচাতে চতুর্থ ইনিংসে এটাই সবচেয়ে বেশি ওভার ব্যাট করার নজির। কায়েস ছয় মেরে ইনিংস গুটিয়ে দিতেই রশিদ খানের মুখের চওড়া হাসিই বলে দিচ্ছিল, অন্যদের কাছে এই ফল ড্র হতে পারে, আফগানদের কাছে এটি তো আসলে জয়ই।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

আবুধাবি টেস্ট অনেক মিসের মিছিলে জয় হাতছাড়া

অনেক মিসের মিছিলে জয় হাতছাড়া

রোমারিওর রায় ‘মেসি একটা দানব সর্বকালের সেরা পেলে’

‘মেসি একটা দানব সর্বকালের সেরা পেলে’

রেনশ’র টেস্টে প্রথম হার বাভুমার

রেনশ’র টেস্টে প্রথম হার বাভুমার

স্কোর কার্ড

স্কোর কার্ড

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম