স্কিন কেয়ার নাকি অ্যাস্থেটিক ট্রিটমেন্ট-কখন কোনটি করবেন
Advertisement
ডা. দেবশ্রী গোস্বামী
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ত্বক ভালো রাখার জন্য বাজারে এখন অসংখ্য ক্রিম, সিরাম, ফেসওয়াশ ও নানা ধরনের প্রসাধনী পাওয়া যায়। এর পাশাপাশি জনপ্রিয় হয়েছে বিভিন্ন অ্যাস্থেটিক ট্রিটমেন্ট। ফলে অনেকেরই প্রশ্ন-কোন সমস্যায় শুধু নিয়মিত স্কিন কেয়ার যথেষ্ট, আর কখন প্রয়োজন হয় অ্যাস্থেটিক ট্রিটমেন্ট? সহজ উত্তর হলো, স্কিন কেয়ার ও অ্যাস্থেটিক ট্রিটমেন্ট একে অপরের বিকল্প নয়। একটি হলো ত্বকের দৈনন্দিন রক্ষণাবেক্ষণ, অন্যটি নির্দিষ্ট সমস্যা ও সৌন্দর্য বৃদ্ধির ক্ষেত্রে চিকিৎসার একটি অতিরিক্ত ধাপ।
* প্রথম ধাপ সব সময়ই স্কিন কেয়ার
সুস্থ ত্বকের ভিত্তি তৈরি হয় নিয়মিত পরিচর্যায়। ত্বকের ধরন অনুযায়ী মৃদু ক্লিনজার, উপযুক্ত ময়েশ্চারাইজার ও প্রতিদিন সানস্ক্রিন ব্যবহার করা উচিত। ব্রণ, পিগমেন্টেশন বা অন্য কোনো সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় টপিক্যাল ট্রিটমেন্ট যুক্ত হতে পারে। ত্বক তৈলাক্ত হলেও ময়েশ্চারাইজার বাদ দেওয়া ঠিক নয়। আবার শুষ্ক ত্বকে অতিরিক্ত এক্সফোলিয়েশান বা একসঙ্গে অনেক অ্যাক্টিভ ইনগ্রেডিয়েন্ট ব্যবহার করাও ক্ষতিকর হতে পারে। অর্থাৎ দামি বা বেশি পণ্য নয়, সঠিক পণ্য নিয়মিত ব্যবহারই গুরুত্বপূর্ণ।
* কোন সমস্যায় স্কিন কেয়ারেই ভালো ফল পাওয়া যায়
হালকা শুষ্কতা, সামান্য রুক্ষতা, সান প্রটেকশন, ত্বকের বেরিয়ার বজায় রাখা এবং প্রাথমিক পর্যায়ের কিছু পিগমেন্টেশন বা ব্রণের ক্ষেত্রে সঠিক মেডিকেল স্কিনকেয়ার যথেষ্ট হতে পারে। বিশেষ করে নতুন কোনো সমস্যা দেখা দিলেই অ্যাস্থেটিক প্রসিডিউর-এর দিকে না গিয়ে আগে কারণটি বোঝা জরুরি। কারণ ব্রণ, পিগমেন্টেশন বা অতিরিক্ত শুষ্কতার নিরাময়ে কখনো কখনো শুধু মুখে খাওয়ার ওষুধ কিংবা স্কিনে ব্যবহার করার টপিক্যাল সলুশান নিয়ম মেনে ব্যবহার করার প্রয়োজন থাকে। কখনো কখনো অ্যাস্থেটিক প্রসিডিউর-এর বাইরেও অনেক ডার্মাটোলজিক্যাল কন্ডিশান থাকতে পারে। সেক্ষেত্রে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।
* কখন অ্যাস্থেটিক ট্রিটমেন্ট বিবেচনা করা যায়
নিয়মিত স্কিনকেয়ার ও প্রয়োজনীয় মেডিকেল ট্রিটমেন্টের পরও যদি নির্দিষ্ট কোনো সমস্যা থেকে যায়, তখন রোগীর অবস্থা অনুযায়ী অ্যাস্থেটিক প্রসিডিউর বিবেচনা করা যেতে পারে।
▶ ব্রণের দাগ : পুরোনো ব্রণের দাগ ও ত্বকের অসম গঠন-এর ক্ষেত্রে ব্রণের ধরন ও গভীরতা অনুযায়ী microneedling, chemical peel, fractional laser, subcision বা combination ট্রিটমেন্ট ব্যবহার করা যেতে পারে। সব ব্রণের জন্য একই ট্রিটমেন্ট কার্যকর নয়।
▶ পিগমেন্টেশন ও মেলাসমা : পিগমেন্টেশন-এর ক্ষেত্রে প্রথমে সঠিক ডায়াগনসিস জরুরি। সানস্ক্রিন ও মেডিকেল ট্রিটমেন্ট হলো মূল ভিত্তি। সিলেক্টিভ কিছু রোগীর ক্ষেত্রে কেমিক্যাল পিল, লেজার বা অন্যান্য প্রসিডিউর যুক্ত হতে পারে। ভুল চিকিৎসা বা অতিরিক্ত এগ্রেসিভ প্রসিডিউর পিগমেন্টেশন আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
▶ ফাইন লাইনস ও ফটোএজিং : বয়স, সূর্যের ক্ষতি এবং ফেসিয়াল মুভমেন্টের কারণে ফাইন লাইনস ও অন্যান্য বয়সকেন্দ্রিক পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। রোগীর প্রয়োজন অনুযায়ী মেডিকেল স্কিনকেয়ারের পাশাপাশি botulinum toxin, microneedling, fractional laser বা injectable treatment বিবেচনা করা যায়।
▶ ত্বকের টেকশ্চার ও ওভারঅল স্কিন কোয়ালিটি : কিছু ক্ষেত্রে ত্বকের টেকশ্চার, ফার্মনেস বা হাইড্রেশান উন্নত করার জন্য বিভিন্ন এনার্জি-বেইজড প্রসিডিউর বা ইনজেক্টেবল ট্রিটমেন্ট ব্যবহার করা হয়। তবে ‘গ্লো’ পাওয়ার জন্য নির্বিচারে ট্রিটমেন্ট নেওয়া উচিত নয়। আগে বুঝতে হবে ত্বকে আসলে কোন পরিবর্তনটি প্রয়োজন।
* কখন অ্যাস্থেটিক ট্রিটমেন্ট না করাই ভালো
ত্বকে অ্যাকটিভ ইনফেকশন, তীব্র প্রদাহ, অনিয়ন্ত্রিত ব্রণ, অতিরিক্ত ইরিটেশন বা কোনো চর্ম বা ত্বকের রোগ হঠাৎ তীব্র হয়ে উঠলে আগে মূল রোগের চিকিৎসা করা দরকার। ত্বকের সমস্যা একটিভ থাকা অবস্থায় শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য অপারেশন করা অনেক সময় উলটো ক্ষতি করতে পারে। এছাড়া গর্ভাবস্থা, কিছু নির্দিষ্ট ওষুধ, অ্যালার্জির ইতিহাস বা অন্যান্য শারীরিক জটিলতা থাকলে চিকিৎসা পদ্ধতি নির্বাচনের আগে চিকিৎসককে বিস্তারিত জানানো জরুরি।
* ‘একই চিকিৎসা সবার জন্য’-এ ধারণা ভুল
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো একটি চিকিৎসা পদ্ধতি জনপ্রিয় হলেই সেটি সবার জন্য উপযুক্ত হয়ে যায় না। একই ধরনের সমস্যা দেখালেও দুই ব্যক্তির ত্বকের ধরন, বয়স, ব্রণের গভীরতা, পিগমেন্টেশানের কারণ এবং প্রত্যাশা ভিন্ন হতে পারে। তাই অ্যাস্থেটিক ট্রিটমেন্টের আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ও সঠিক গাইডলাইন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসার লক্ষ্য হওয়া উচিত প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বজায় রেখে ত্বকের নির্দিষ্ট সমস্যা ও মান উন্নত করা, মুখের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য মুছে ফেলা নয়।
* তাহলে সিদ্ধান্ত কী
সহজভাবে বলা যায়-সুস্থ ত্বক পেতে নিয়মিত স্কিনকেয়ার করতেই হবে। ত্বকের সমস্যা থাকলে আগে সঠিক ডায়াগনসিস ও চিকিৎসা জরুরি। সমস্যা স্থায়ী হলে বা নির্দিষ্ট অ্যাস্থেটিক কনসার্ন থাকলে রোগীভেদে প্রমাণ-নির্ভর সৌন্দর্যবর্ধনকারী চিকিৎসা করা যেতে পারে। সুন্দর ত্বকের জন্য প্রতিদিনের যত্নের কোনো বিকল্প নেই। আবার সঠিক রোগীর ক্ষেত্রে উপযুক্ত অ্যাস্থেটিক ট্রিটমেন্ট সেই যত্নকে আরও পরিপূর্ণ করতে পারে। অ্যাস্থেটিক চিকিৎসার উদ্দেশ্য হওয়া উচিত ‘আরও কিছু করা’ নয়; বরং ‘যেটুকু প্রয়োজন, সেটুকুই সঠিকভাবে করা’।
লেখক : অ্যাস্থেটিক চিকিৎসক, ড. লিনা’স
স্কিন অ্যান্ড অ্যাস্থেটিক ক্লিনিক, ধানমন্ডি, ঢাকা।
